হোম জানা অজানা জেনে নিন; পবিত্র কা’বা শরীফ সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে

    জেনে নিন; পবিত্র কা’বা শরীফ সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 3:47 pm
    582
    0
    পবিত্র কা’বা শরীফ

    কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: “নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের ইবাদত রূপে নিরূপিত হয়েছে, তা ঐ ঘর যা মক্কাতে অবস্থিত” (সুরা আল-ইমরান, আয়াত ৯৬)। বুঝানো হয়েছে, মুসলমানদের কেবলা কা’বা শরীফকে। কা’বা শরীফ মহান আল্লাহর তায়াআলার এক অপূর্ব সৃষ্টি। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা কা’বাঘর নির্মাণ করেন। কা’বাঘরটি আল্লাহর আরশে মুয়াল্লাহ’র ছায়াতলে সোজাসুজি বাইতুল মামুরের আকৃতি অনুসারে স্থাপন করা হয়েছে।

    হযরত আদম আ. ও হযরত হাওয়া আ. এর পৃথিবীতে মিলন হলে তারা উভয়ই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হযরত আদম আ. আল্লাহর কাছে ইবাদতের জন্য একটি মসজিদ প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং বাইতুল মামুরের আকৃতিতে পবিত্র কা’বাঘর স্থাপন করেন। রাসূল সা. বলেন, “বিশ্বের সর্বপ্রথম মসজিদ হলো মসজিদুল হারাম। এরপরের মসজিদ হলো মসজিদ আল আকসা। মসজিদুল হারাম নির্মাণের ৪০ বছর পর মসজিদ আল আকসা নির্মিত হয়” (মুসলিম শরিফ)।

    Spellbit Limited

    হযরত আদম আ. কা’বাঘর আল্লাহর আদেশে পুন:নির্মাণ করেন। এরপর হযরত শীস আ. কা’বাঘর পুন:নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে হযরত ইব্রাহীম আ. স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাইল আ. কে সাথে নিয়ে কা’বাঘর পূণ:নির্মাণ ও সংস্কার করেন। সংস্কার শেষে হযরত ইব্রাহীম আ. নিজ বংশ থেকে একটি অনুগত দল সৃষ্টির জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করেন। যার ফলশ্রতিতে আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহীম আ. ও হযরত ইসমাইল আ. এর বংশ হতে হযরত মোহাম্মদ সা. কে শেষ নবী ও রাসূল হিসাবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। এরপর কয়েক শত বছর পর পবিত্র কা’বাঘর সংস্কার করেন আমালিকা সম্প্রদায়। তার দীর্ঘদিন পর কা’বাঘর সংস্কার করেন মক্কার জুরহুম সম্প্রদায়।

    এর পর কুসাই ইবনে কিলাব কা’বাঘরের সংস্কার করেন। মহানবী হযরত মোহাম্মদ সা. নবুয়ত প্রাপ্তির ৫ বছর আগে কা’বাঘর সংস্কার করেন মক্কার বিখ্যাত কোরাইশ বংশ। মহানবী হযরত মোহাম্মদ সা. এর ইচ্ছানুযায়ী আব্দুল্লাহ ইবনে জোবায়ের রা. কা’বা শরীফ সংস্কার করেন। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সংস্কার করেন ৭৪ হিজরীতে। পরবর্তীকালে সুলতান মারদান আল উসমানী ১০৪০ হিজরীতে, বাদশা ফাহাদ ইবনে আব্দুল আজিজ ১৪১৭ হিজরীতে কা’বাঘর সংস্কার করেন। কা’বাঘর প্রতিষ্ঠার পর সর্বমোট ১১ বার এর পুন:নির্মাণ/সংস্কার করা হয়।

    সুদীর্ঘ ১৪শ বছরে কা’বাগৃহে কোনো সংস্কারের প্রয়োজন হয়নি। শুধুমাত্র কা’বাঘরের চারপাশে অবস্থিত মসজিদ উল হারামের পরিবর্ধন, সংস্কার বা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে কা’বাঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি রাজপরিবারের। সৌদি বাদশাহ কাবা শরীফের মোতোয়াল্লির দায়িত্বে থাকেন। ভৌগলিক দিক দিয়ে মক্কা ও আরব উপদ্বীপ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত। মক্কানগরী পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় মহান আল্লাহর কা’বাঘর মক্কাতেই স্থাপন করেন।

    পবিত্র কা’বার আকৃতি:
    কা’বা শরীফের উচ্চতা ১৪ মিটার, মুলতাযামের দিকে দৈর্ঘ্য ১২.৮৪ মিটার, হাতিমের দিকে দৈর্ঘ্য ১১.২৮ মিটার, রুকনে ইয়ামানি ও হাতিমের মাঝখানকার দৈর্ঘ্য ১২.১১ মিটার, হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানির মাঝখানকার দৈর্ঘ্য ১১.৫২ মিটার।

    আরও পড়ুন:
    বাদশা জাহাঙ্গীরের দেওয়া যে হীরা শকুনে নিয়ে গিয়েছিল
    চাকরির ইন্টারভিউতে ভালো করবেন কীভাবে?
    জেনে নিন; ‘লেটার অব ক্রেডিট’ বা ‘এলসি’ সম্পর্কে বিস্তারিত