28 C
Dhaka
মে ২৬, ২০২০
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
কর্পোরেট সংবাদ শিরোনাম

প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রেষনা

Shaikh Aslam Goni

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: কর্মীদের কাজে প্রেষণা (Motivation) বা উৎসাহ সৃষ্টি মানব সম্পদ বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত। প্রেষনা এমন একটি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে যার মাধ্যমে একজন কর্মীর প্রচেষ্টাগুলি লক্ষ্য অর্জনের দিকে সক্রিয়, নির্দেশিত এবং স্থায়ী হয়। প্রকৃত অর্থে প্রেষণা হলো প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীবৃন্দের কার্যক্ষমতার পুর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত, উৎসাহিত ও প্ররোচিত করার প্রক্রিয়া। কোনো কর্মীর কাজ সমন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা থাকাই কাজের পক্ষে যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন কর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা বা আগ্রহ। তাই কর্মীদের মনকে প্রভাবিত করে কার্যক্ষেত্রে তাদের সর্বোত্তম সহযোগিতা ও ঐকান্তিকতা লাভ করাই প্রেষণার উদ্দেশ্য। সহজ ভাষায় প্রেষণা হলো কর্মীদের কোন কাজে উদ্বুদ্ধকরণের এমন একটি শক্তি যা তার কাজের প্রতি আরও আগ্রহ সৃষ্টি করে।

কর্মীদের প্রেষণা প্রদানে পর্যাপ্ত বেতন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এজন্য জীবন যাত্রার ব্যয় এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো নির্ধারন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের  উত্তম কর্ম পরিবেশ ব্যবস্থা করতে হবে কারন একজন কর্মীর চাকুরী করার উদ্দেশ্য শুধু বেতন নয়, চাকুরীর মাধ্যমে তার জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করার পাশাপাশি বড় নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। পদোন্নতি প্রেষনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যোগ্য কর্মীকে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। এছাড়া কর্মীর যোগ্যতানুয়ায়ী বেতন বৃদ্ধি, কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, কর্মীদের সাথে সাপ্তাহিক/ মাসিক সভাকরা, ভাল কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করলে পুরস্কার প্রদান ও বাৎসরিক বনভোজন ব্যবস্থা করার মাধ্যমে প্রেষণা প্রদান করা যেতে পারে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল মূনাফা অর্জন করা। প্রতিষ্ঠানের সফলতা নির্ভর করে যথাসম্ভব কর্মীদের শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কম ব্যয়ে সর্বোচ্চ উৎপাদনের উপর। প্রেষণার অভাবে কর্মীরা অকার্যকর হয়ে পড়লে কখনই অধিক উৎপাদন নিশ্চিত হতে পারে না। প্রেষণা কর্মীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা বৃদ্ধি করে ফলে স্বাভাবিকভাবেই কর্মীরা সেই কাজে আনন্দ পায়। প্রেষণার অভাবে অনেক সময় কর্মীরা আন্দোলন করে যার ফলে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক খারাপ হয়। প্রেষণার অভাবে কর্মীদের শ্রম ঘন্টার যে অপচয় হয় বা কার্যক্ষেত্রে অন্যান্য নানাবিধ যে সকল অপচয় বা ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়, উত্তম প্রেষণার বদৌলতে তা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

সবশেষে বলা যেতে পারে, কর্মীদের প্রেষণা দানের মাধ্যমে কর্মীর উচ্চ মনোবল গঠনে ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি এবং কাজের প্রতি অধিক আন্তরিক করে তোলা সম্ভব এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিরোধী যে কোন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে। প্রেষণা শুধু মানসিক সন্তুষ্টিই সৃষ্টি করে না তা কর্মীদেরকে নব-নব পন্থা উদ্ভাবনের মাধ্যমে উত্তম উপায়ে কাজ সম্পাদনে উদ্যোগী করে তোলে। যাহার ফলে প্রতিষ্ঠানে একটি উত্তম কার্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

লেখক, শেখ আসলাম গণি
সহকারী ম্যানেজার (এইচআর এন্ড অ্যাডমিন), সোহাগ গ্রুপ

আরও পড়ুন: আবারও চিটাগং চেম্বারের সভাপতি হলেন মাহবুবুল আলম


আরো খবর »

করোনায় আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ

উজ্জ্বল

ঈদের দিনে রাজধানীতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ

*

২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত ১৯৭৫ , মৃত্যু ২১ জন

*