হোম আর্কাইভ আপনি কি ভেলোর CMC-তে চিকিৎসা করাতে চান? জেনে নিন বিস্তারিত

আপনি কি ভেলোর CMC-তে চিকিৎসা করাতে চান? জেনে নিন বিস্তারিত

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 7:27 pm
475
0

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: প্রতিবছর ভেলোরে চিকিৎসার জন্য ভিড় জমায় বাঙালীরা। যাকে আমরা ভেলোর বলে চিনি সেই হাসপাতালের আসল নাম হলো Christian Medical College And Hospital (CMC) এই হাসপাতালটি তামিলনাড়ুর ভেলোরে অবস্থিত। সেই কারণে এই হাসপাতালটি আমাদের কাছে ভেলোর CMC নামে বেশি পরিচিত।

ভারতে চিকিৎসা জগতে দিল্লি, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই ইত্যাদি স্থানের নাম জানা থাকলেও তামিলনাড়ুর ভেলোরকেই বেশি ভরসা করা হয়। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা নয়, বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ ভেলোর আসেন চিকিৎসা করাতে। এই খ্যাতির কারণ অবশ্যই বিশ্ব মানের চিকিৎসা, উন্নত যন্ত্রপাতি, অত্যাধুনিক প্যাথলজি। ফলে নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার এমনকি চীন দেশের নাগরিকরাও ভারতে আসেন চিকিৎসা করাতে। যারা ভাবছেন ভেলোরে যাওয়া উচিত তাদের সব কিছু জেনে তারপর যাওয়া উচিত। নাহলে ওখানে গিয়ে বিপদে পরতে পারেন।

Spellbit Limited

তাই যারা বাংলাদেশ থেকে ভেলোরের CMC-তে চিকিৎসা নিতে চান এবং সেখানে চিকিৎসা করাতে গিয়ে যেন কোন বিড়ম্বনায় না পড়তে হয় তাই কর্পোরেট সংবাদের পাঠকদের জন্য আজকের এই লেখা।

ভেলোর যাবেন কিভাবে?
বাংলাদেশ থেকে বিমানে ঢাকা-কলকাতা-চেন্নাই বা ঢাকা-দিল্লি-চেন্নাই অথবা ঢাকা-কলম্বো-চেন্নাই রুটে যাওয়া যায়। আবার ঢাকা থেকে সরাসরি চেন্নাই ইউএস বাংলা বিমান এবং মালদিনাবো এয়ারলাইন্সে সরাসরি যাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে আপনাকে জনপ্রতি ২০,০০০ হাজার থেকে ৩৮,০০০ হাজার টাকার মধ্যে ইকোনমি ক্লাসে যাওয়া-আসার টিকিট পেতে পারেন। তবে একত্রে আপনাকে চেন্নাই থেকে আবার ট্রেনে বা অ্যাম্বুলেন্সে করে ভেলোরে যেতে হবে। এতে আপনার সময় লাগবে ২ থেকে আড়াই ঘন্টা অথ্যাৎ বাংলাদেশ থেকে সন্ধ্যা নাগাদ ভেলোরে পৌছে যাবেন।

কিন্তু কলকাতা থেকে ভালোরের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৭১২ কি:মি। ট্রেনে করে যেতে চাইলে আপনাকে কাটপাডি জংশনে (Katpadi Jn) নামতে হবে। হাওড়া থেকে কাটপাডি যাওয়ার অনেক ট্রেন পেয়ে যাবেন। সময় লাগবে ২৫ থেকে ৩০ ঘন্টা। কাটপাডিতে নেমে অনেক গাড়ি পেয়ে যাবেন। কাটপাডি থেকে ভালোরের দূরত্ব প্রায় ৮ কিমি। আর যদি বিমানে যেতে চান তো আপনাকে নামতে হবে চেন্নাই এয়ারপোর্টে। চেন্নাই থেকে ভেলোরে ট্রেনে বা গাড়িতে যেতে হবে।

Appointment
অফলাইন ও অনলাইনের মাধ্যমে আপনি Appointment নিতে পারবেন। অনলাইনে Appointment নিতে হলে CMC ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে Appointment নিতে হবে। যেহেতু ভেলোর অনেক দূরে তাই আগে থেকে Appointment নিলে আপনাকে দেখবে ও চিকিৎসা শুরু হবে এবং খুব দ্রুত চলে আসতে পারবেন। বেশি দিন থাকা মানেই আপনার খরচ বাড়বে। অথাৎ Appointment নিয়ে ভেলোর CMC-তে যাওয়াই ভাল।

Online Appointment
অত্যন্ত ভীড় হওয়াতে যে কোনো ডিপার্টমেন্টে প্রাইভেট Appointment নিতে হলে আপনার কমপক্ষে ১ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে। তাই ভেলোরে যেতে হলে কমপক্ষে ২০ দিন বা ১ মাস আগে Appointment অনলাইনে করে নিলে আপনার সময় ও টাকা সাশ্রয় হবে। অনলাইনে Appointment নিতে চাইলে আগে জানতে হবে আপনার কি রোগ হয়েছে, সেই মোতাবেক আপনাকে ওয়েবসাইডে ডাক্তারের নাম ফোন নাম্বার সব দেওয়া আছে সেখানে থেক আপনাকে দরকারি ডাক্তারকে বেছে নিতে হবে। CMC এর ওয়েবসাইটটি হলো- www.clin.cmcvellore.ac.in

Offline Appointment
ভেলোরের CMC-তে মেন গেট দিয়ে ঢুকলেই দেখতে পাবেন বড় বড় করে লেখা আছে “Silver Gate For New Appointment” সেখানে গিয়ে বেশকিছু জুনিয়ার ডাক্তার ও সিস্টার আছেন আপনাকে দেখে উক্ত ডাক্তারের ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়ে দেবে। তবে এই ক্ষেত্রে আপনি ৩ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রাইভেট Appointment পেয়ে যাবেন। সুতরাং অফলাইনে Appointment নিলে আপনাকে শুধু ডাক্তার দেখবার জন্যই অনেকদিন ভেলোর থাকতে হবে। এতে আপনার সময় ও খরচ বাড়বে। তাই অফলাইনের ভরসা না করে অনলাইনে Appointment নিয়ে নিন।

জরুরীকালীন ট্রিটমেন্ট:
এর জন্য আলাদা EMERGENCY বিভাগ রয়েছে, সেখানে যাবেন। ওরাই সব প্রসেস বলে দেবে।
জেনারেল এপোয়েন্টমেন্ট:- অনলাইন অথবা অফলাইন এ করা যায়। ১-৩ দিন এর মধ্যে এপোয়েন্টমেন্ট পেয়ে যাবেন।

Appointment দুই প্রকারের। যথা- ১. General Appointment, ২. Private Appointment

১. General Appointment
জেনারেল Appointment আপনি অনলাইন বা অফলাইনে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে জুনিয়ার ডাক্তার দেখবেন। এক থেকে ৫ দিনের মধ্যেই আপনি জেলারেল Appointment পেয়ে যাবেন।

২. Private Appointment
যদি আপনি প্রাইভেট Appointment নেন তাহলে আপনাকে সিনিয়র ডাক্তার দেখবেন। আপনি জেনারেল বা প্রাইভেট Appointment যাই নেন না কেন ডাক্তার দেখাতে আপনার কোনো ভিজিট ফি বা টাকা দিতে হবে না।

থাকবেন কোথায়?
এখানে রুম এর চাহিদা যেমন বেশি তেমন লজ ও আছে প্রচুর। ডবল বা ট্রিপল বেড এর রুম ১৫০-২০০ থেকে শুরু করে ১৫০০-২০০০ টাকা পযর্ন্ত। আপনি CMC থেকে যত দুরত্ব বাড়াবেন তত লজের রেট কমতে থাকবে। মোটামুটি ৭-৮ মিনিট হাঁটাপথের দুরত্বে আপনি ২০০-২৫০ টাকার রুম পেয়ে যাবেন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি ২৪ ঘন্টা বা একদিনের জন্য রুম বুক করে একটু খোজাখুজি করে কম দামে ভাল রুম ও দেখতে পারেন। তাছাড়া হাসপাতালের ভেতর রাত্রী নিবাস করতে পারবেন মাত্র ২০ টাকা দিয়ে তবে সেখানে রান্না করা যাবে না বা লাগেজ হারালে আপনার দায়। সেখানেও অনেকে থাকেন। তাছাড়া, সেখানে অসংখ্য বাঙ্গালী হোটেল আছে, আপনি ৪০-৬০ টাকা/মিল হিসাবে ভাত পেয়ে যাবেন। এছাড়া সাউথ ইন্ডিয়ান খাবার ও উপভোগ করতে পারেন তবে ৩-৪ দিন এর বেশি টানতে পারবেন না।

ফার্মাসি (Pharmacy)
এখানে সাধারণ রোগীদের তিন মাসের ওষুধ দিয়ে থাকে ও কিছু ডিসকাউন্ট ও থাকে। বাইরে এই সব মেডিসিন নাও পেতে পারেন তাই চেষ্টা করুন ৩ মাসের ওষুধ কিনে নিয়ে আসবার। ওষুধের দামও খুব বেশি নয় এখানে আপনি স্বল্প মূল্যেই ওষুধ পেয়ে যাবেন।

CRISS Card
এই কার্ড টা বানিয়ে নিলে আপনার হয়রানি অনেকখানি কমে যাবে। আপানার HOSPITAL NO. (PATIENT ID) দেখিয়ে বললেই ৪০২ নং কাউন্টার থেকে ক্রিস কার্ড বিষয়ক যাবতীয় সাহায্য করে দেবে। এই ক্রিস কার্ডে আপনাকে টাকা ভরতে হবে অগ্রিম (trhough cash transffer/atm transffer). তবে ATM card ইউজ করে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। ক্রিস কার্ডের মজা হল পেমেন্ট এর জন্য বড় লাইনে আপনাকে দাঁড়াতে হবে না,  কারন criss card payment counter আছে প্রায় সব জায়গায়।

রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষা (Medical Test)
খুবই স্বল্প মূল্যে রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। আপনার ডাক্তার আপনাকে পরের তারিখ বলে দিবেন সেই দিন আপনি গেলেই আপনার সমস্যা বা কি করতে হবে বলে দিবেন। আপনি আপনার রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাবেন না। আপনি যে দিন CMC তে ভর্তি হবেন সেদিনই হাসপাতাল আপনার একটি ফাইল বানিয়ে দেবে।

এই ফাইল হাসপাতালেই থাকে যখন আপনি আবার ডাক্তার দেখাতে আসবেন সে দিনই আপনি দেখবেন আপনার ফাইল ডাক্তারের কম্পিউটারের স্কিনে। আর একটি কথা বলে রাখা ভালো বর্তমানে বেশ কিছু দালাল চক্র আপনাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা খাবে। তাদের থেকে সাবধানে থাকবেন।

আপনি হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারেন। স্থানীয় লোকেরা খুব সাহায্য করবে আপনাকে। যেহেতু আপনি বাইরের লোক একটু সতর্ক থাকুন। যে দিন আপনি ফাঁকা থাকবেন সেদিন না হয় ভেলরের চার পাশ ঘুরুন দেখার মতো বেশ কিছু মন্দির, কেল্লা, পাহাড় আছে।

আরও পড়ুন: 

যেভাবে পাবেন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট