হোম শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি স্কুলেই রান্না করা খাবার পাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা

    স্কুলেই রান্না করা খাবার পাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 11:37 am
    116
    0
    Untitled

    ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী জুলাই থেকে দেশের ১৬ উপজেলায় স্কুল মিল কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার।স্কুলেই দুপুরে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার পাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। শিশুদের বিদ্যালয়ে আকৃষ্ট করা, ঝরেপড়া হ্রাস, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে এ কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এটি চালু করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ভোরের ডাককে বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে স্কুল মিল চালু করতে দেশের ১৬ উপজেলা নির্বাচিত করা হয়েছে। দারিদ্র্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এটি চুড়ান্ত হয়। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের একদিন বিস্কুট এবং পরবর্তী দিনে স্কুল মিল দেয়া হবে। এভাবে সপ্তাহে ৩দিন পুষ্টিকর রান্না করা খাবার আর বাকি ৩দিন উচ্চপুষ্টিমান সমৃদ্ধ বিস্কুট খাওয়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কর্মসূচি চালু করতে স্কুল ফিডিং নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে অনুযায়ী, দেশের ১৬ উপজেলায় আগামী ১ জুলাই থেকে বিকল্প (অলটারনেটিভ) দিবস- কে বিবেচনায় নিয়ে একদিন বিস্কুট এবং পরবর্তী দিন স্কুল মিল বা রান্না করা খাবার খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    Spellbit Limited

    নির্বাচিত উপজেলাগুলো হচ্ছে- কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, জামালপুরের ইসলামপুর, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন, গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, রাজবাড়ীর কালুখালী, নওগাঁর নিয়ামতপুর, পাবনার বেড়া, লক্ষীপুর সদর, চাঁদপুরের হাইমচর, খাগড়াছড়ির নাইক্ষংছড়ি, খুলনার বটিয়াঘাটা, মাগুড়া সদর, বরগুনার বামনা ও পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার বিদ্যালয়ে দুপুরে রান্না করা খাবার খেতে পারবে শিশুরা।

    প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকালের জন্য নিয়মিত আমিষসহ সুষম খাবার গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। শিশুর মেধা ও মননের পরিপূর্ণ বিকাশ, কর্মপ্রেরণা, খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনে পরিস্ফুটিত করতে পুষ্টির বিকল্প নেই। লক্ষণীয়, মাত্রাতিরিক্ত অপুষ্টিজনিত সমস্যা নিয়ে এদেশের শিশুদের বড় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। স্থায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সময় এসেছে এটিকে মোকাবেলা করার।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি শিশুর জীবনের শুরুর দিকে বৃদ্ধি ও উন্নয়নের সময় শিশু যদি লাগাতারভাবে অপুষ্টির শিকার হয়; তাহলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়। যা তার শিক্ষা ও পরবর্তী কর্মজীবনে বিরুপ প্রভাব ফেলে। এতে পরিবার তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ই, সার্বিকভাবে দক্ষ ও মানবসম্পদের ঘাটতিতে পড়ে গোটা দেশ। সরকারের এ উদ্যোগ অনেক প্রশংসনীয়। শুধু নির্বাচিত কিছু উপজেলায় নয়, কারণ বাংলাদেশের এখন সক্ষমতা হয়েছে সারাদেশের সব শিশুকে বিদ্যালয়ে রান্না করা খাবার খাওয়ানোর। পুষ্টি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, থাইল্যান্ড সরকার ১৯৮৬ সাল থেকে স্কুল মিল কার্যক্রম চালু করে শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যা রোধ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের সক্ষমতা বেড়েছে। সুতরাং শিশুর পুষ্টির দিক বিবেচনায় নিয়ে সারাদেশে এ স্কুল মিল কার্যক্রম চালু করা জরুরি।

    আরো পড়ুন; আজ পয়লা বৈশাখ, শুভ নববর্ষ ১৪২৬