হোম কর্পোরেট ক্রাইম বেঙ্গল টেকনো ফার্মার বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ

বেঙ্গল টেকনো ফার্মার বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 9:54 am
291
0
ভ্যাট

ডেস্ক রিপোর্ট: ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল টেকনো ফার্মা লিমিটেডের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উৎপাদন করে ভ্যাট চালান ছাড়া ওষুধ বাজারজাত করে আসছে। ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির দলিলাদি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ না করে গোপনে অন্যত্র সংরক্ষণ করে। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যদিও ফাঁকির বিষয়টি অস্বীকার করেন বেঙ্গল টেকনো ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী খান। মূসক গোয়েন্দা আপনাদের ভ্যাট ফাঁকির মামলা করেছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো মামলা হয়নি, তবে মামলা হলে আমরা তা ফেস করব। এনবিআর একটা ইনভেস্টিগেশন করেছে, তার একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রংপুর ভ্যাট থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছে। আমরা জবাব রেডি করছি।’ ফাঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনে ফাঁকিসহ অনেক কিছু উল্লেখ করতে পারে। বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়া। চলমান প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার অবকাশ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রোডাকশনের বিপরীতে সরকারকে ভ্যাট দিচ্ছি। এখন কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে, আমরা জবাব দিচ্ছি।’

Spellbit Limited

সূত্র জানায়, দিনাজপুরের শেখহাটি এলাকায় অবস্থিত বেঙ্গল টেকনো ফার্মার একমাত্র কারখানা। প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট কার্যালয় রাজধানীর ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডে অবস্থিত। এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিক্রির তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসার অভিযোগ পায় এনবিআর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের নির্দেশে মূসক নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে বিক্রি ও ভ্যাট-সংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করে। জব্দ করা কাগজপত্র যাচাই করে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায় এবং ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেয় মূসক গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন হাফিজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পৌনে তিন বছরে উৎপাদিত ওষুধ চালান ছাড়া সরবরাহ করেছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৩২ কোটি ২১ লাখ টাকার ওষুধ সরবরাহ করেছে। সরবরাহ করা ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালে অমিট-২০ ক্যাপসুল প্রায় সাড়ে ২৭ কোটি টাকা ও বিটি ফেনাক টিআর সাড়ে ৩৬ কোটি টাকা, ২০১৭ সালে অমিট-২০ প্রায় ২০ কোটি টাকা ও বিটি ফেনাক টিআর প্রায় ২৬ কোটি ২০ লাখ টাকা, ২০১৮ সালে অমিট-২০ ৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, বিটি ফেনাক টিআর প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ও অপর একটি ওষুধ ১১ লাখ টাকা। অমিট-২০ ক্যাপসুলের জেনেরিক নাম ওমিপ্রাজল, যা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রতিটি চার টাকা। এছাড়া বিটি ফেনাক ক্যাপসুলের জেনেরিক নাম ডাইক্লোফেনাক, যা ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রতিটি তিন টাকা দুই পয়সা। দুটি ওষুধের বিক্রয়মূল্য অনুযায়ী এ হিসাব করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে বিক্রির প্রাপ্ত কাগজপত্র অনুযায়ী মোট বিক্রয়মূল্য হিসাব করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত বিক্রির হিসাব গোপন করেছে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পৌনে তিন বছরে বিক্রি ১৩২ কোটি ২১ লাখ টাকার বিপরীতে প্রযোজ্য ভ্যাট প্রায় ১৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র চার লাখ ১২ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে। বাকি প্রায় ১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধ না করে ফাঁকি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালে প্রায় আট কোটি ২৩ লাখ টাকা, ২০১৭ সালে পাঁচ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও ২০১৮ সালে দুই কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের ওপর দুই শতাংশ হারে সুদ প্রায় পাঁচ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সুদসহ প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২২ কোটি ১৮ লাখ টাকা ফাঁকি দিয়েছে। এ ভ্যাট পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করে ন্যায় নির্ণয়ের জন্য সম্প্রতি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুর কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত কী পরিমাণ ওষুধ তৈরি করা হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। তবে বাণিজ্যিক দলিলে প্রাপ্ত ক্যাপসুলের খোসাকে সমান দু’ভাগে ভাগ করে বিক্রি ও ভ্যাট ফাঁকি হিসাব করা হয়েছে। উৎপাদনের সঠিক হিসাব পাওয়া গেলে ফাঁকির পরিমাণ আরও বেশি হতো। তবে ভ্যাট কমিশনারেটকে সঠিক বিক্রি খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে রংপুর ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আহসানুল হক বলেন, দাবিনামা-সংবলিত কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছে। তারা জবাব দিলে আমরা হেয়ারিং করব। নোটিস জারির পর তারা বলেছে, ডকুমেন্টগুলো একত্রিত করে দেব, সেজন্য আমাদের সময় দিন। আমরা ‘১৫ দিন, ১৫ দিন’ করে দু’বার সময় দিয়েছি, আর বেশি সময় দেব না। জবাব দিলে হেয়ারিং নেব। হেয়ারিংয়ে তারা যদি প্রমাণ করতে পারে ফাঁকি নেই, তাহলে ওকে। আর যদি প্রমাণ দিতে না পারে, আমরা ডিমান্ড করে টাকা আদায় করব।

উল্লেখ্য, নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১৫২/১ গ্রিন রোডে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কেন্দ্রে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ওষুধ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ মার্চ নিম্নমানের ওষুধ তৈরির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করেছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। সূত্র: শেয়ার বিজ

আরও পড়ুন: এসিআই পিওর আটা-মাতৃভাষায় মা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান