হোম আইন-আদালত নুসরাতের মামলাটি যেন তনুর মতো হারিয়ে না যায়: আদালত

নুসরাতের মামলাটি যেন তনুর মতো হারিয়ে না যায়: আদালত

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 2:15 pm
196
0
নুসরাত

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়ানোর ঘটনার তদন্ত সাগর-রুনি, তনু কিংবা মিতুর মামলার মত যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকালে বিচারবিভাগীয় তদন্ত চেয়ে শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিলের বেঞ্চে ব্যারিষ্টার সৈয়দ সাঈদুল হক সুমনের মৌখিক আবেদনে প্রেক্ষিতে আদালত এ মন্তব্য করেন।

আদালত বলেন, যেহেতু বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন, আমরা এ বিষয়ে কোনো আদেশ দিতে চাই না। আমরা শুধু বলব নুসরাতের ঘটনা তনু বা অন্যদের মতো যেন হারিয়ে না যায়। ঘটনার বিষয়ে তদন্তকাজে যেন কোনো গাফিলতি না থাকে। তদন্তে গাফিলতি দেখলে আপনারা আদালতে আসবেন, তখন আমরা ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করব।

Spellbit Limited

এর আগে ব্যারিস্টার সুমন আদালতকে বলেন, নুসরাতের মারা যাওয়ার ঘটনাটি মর্মান্তিক ও সেনসেটিভ। নুসরাত মারা যাওয়ায় সারাদেশের মানুষ ব্যথিত। এ ঘটনার সঙ্গে মাদরাসার অধ্যক্ষ, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তাই পুলিশের শুধু একজন এসআই দিয়ে এ ঘটনার তদন্ত করলে বিশ্বাসযোগ্য হবে না।

আমরা বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি। অগ্নিদগ্ধ মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের মৃত্যুতে আমরাও ব্যথিত। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, কুমিল্লার তনু বা চট্টগ্রামের মিতুর মামলার মতো যেন নুসরাতের মামলাটিও হারিয়ে না যায়।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাত মারা যান। তার চিকিৎসার সব রকমের চেষ্টাই চলছিল। নুসরাতের সবোর্চ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকেও মনিটরিং করা হচ্ছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছিলেন।

পাঁচ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন নুসরাত। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে সিঙ্গাপুরে নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না তাকে।

নুসরাত এ বছর আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা যৌনহয়রানি করায় গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করে নুসরাতের পরিবার। সেই মামলা তুলে নেয়ার কথা বলে অধ্যক্ষের অনুসারীরা গত ৬ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০ টায় ওই মাদ্রাসার তৃতীয় তলায় তাকে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসাপাতালে এবং পরে শনিবার রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নুসরাতের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় মঙ্গলবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন: 
রাসেলকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছে গ্রিন লাইন
ফেনীর সেই মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ৭ দিনের রিমান্ডে