হোম অর্থ-বাণিজ্য ব্যাংকের পর্ষদ খেলার জায়গা নয়: অর্থমন্ত্রী

ব্যাংকের পর্ষদ খেলার জায়গা নয়: অর্থমন্ত্রী

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 9:49 am
380
0
Untitled

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পর্ষদ খেলার জায়গা নয়। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অদক্ষদের নিয়োগ দেওয়া হবে না। যারা ব্যাংকিং বোঝেন, হিসাব জানেন তাদেরই কেবল পর্ষদ সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যতভাবে বোঝানো দরকার, আমি তা করার চেষ্টা করব।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের খেলাপি ঋণ কমানোর তাগিদ দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা অসাধু ব্যবসায়ীদের ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার মতো অপরাধে সহযোগিতা দেবেন, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ এ সময় তিনি বাস্তব কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীদের জেল খাটানোর ভয় দেখান।

Spellbit Limited

সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এখন সবচেয়ে বেশি। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতিও আশঙ্কাজনক হারে পৌঁছেছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আর যাতে না বাড়ে, সে সঙ্গে সামগ্রিক ব্যাংক খাতেই যাতে আর খেলাপি ঋণ না বাড়ে সে লক্ষ্যে সরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগ্য লোকদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা বোঝে না, তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না; এটা খেলার জায়গা নয়। অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের অবসর কাটানো বা সাংবাদিকতা বা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন অনেকেই আমার কাছে তদবির করেন ব্যাংক পর্ষদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য।’
সম্প্রতি দেশের ব্যাংক খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও ব্যাংক পরিচালকদের মধ্যে আইটি বিশেষজ্ঞ তেমন একটা নেই। এছাড়া ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ নিয়ে হাজার হাজার মামলা থাকলেও আইন বিশেষজ্ঞ পরিচালকও নিয়োগের তেমন নজির দেখা যায় না। এ কারণে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক খাতে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের একারই খেলাপি ঋণ ১৭ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেশের অর্থনীতির ‘সবচেয়ে দুর্বল জায়গা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা তাদের প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদের বের করা খুব কঠিন নয়।’ তবে অপরাধ স্বীকার করলে ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অর্থমন্ত্রী।

লিজ ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দু-একটি বাদ দিলে এ খাতের কোনো প্রতিষ্ঠানেই ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না।’ আর্থিক খাতে অপচয় কমাতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিয়ে আসার কথাও বলেন মুস্তফা কামাল।

জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘যদিও এটি জনতা ব্যাংকের একার বিষয় নয়, পুরো ব্যাংক খাতে এটি বড় এক চ্যালেঞ্জ। এ টাকা যেন আর না বাড়ে।’
ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শীর্ষ খেলাপিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পলিসি গ্রহণ করতে হবে। খেলাপি ঋণের মামলা না করে আদায়ের চেষ্টা করবেন। মামলা করবেন অবশ্যই; তবে দ্রুত অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে। ঋণ দেওয়ার সময়ই সতর্ক হয়ে দিতে হবে।’
জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অর্থ বিভাগের সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুছ ছালাম আজাদ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে লুনা সামসুদ্দোহা অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ অনিয়মের ফলে জনতা ব্যাংক বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে বলে স্বীকার করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘অ্যাননটেক্স ২০০৫ সাল থেকে জনতা ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসা করছে এবং ক্রিসেন্ট গ্রুপ ২০০৩ থেকে ব্যবসা করছে। অনিয়ম ধরা পড়ার পর ব্যাংকের পর্ষদ সব ধরনের পদক্ষেপই নিয়েছে।’

আরও পড়ুন: নতুন নারী উদ্যোক্তাদের এসএমই চেক হস্তান্তর করলো আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক