হোম কর্পোরেট সুশাসন উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গঠনে চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যাসি (সিএ)

উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গঠনে চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যাসি (সিএ)

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 5:27 pm
384
0
আবু তাহের: দেশে বসেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা অর্জন বর্তমানে সম্ভব। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই এ সুযোগ করে দিচ্ছে। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান হলো দি ইন্সটিষ্টটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিখ্যাত সিএ ইন্সষ্টিটিউট দি ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্টস ইন ইংল্যান্ড অব ওয়েলস (্আইসিএইডাব্লিউ) এর পাঠ্যক্রম/সিলেবাস অনুযায়ী এর সকল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যাসী অর্ডার (প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার নং ২, ১৯৭৩) এর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। সেই থেকে সিএ অধ্যয়ন, হিসাব পেশার মান উন্নয়ণ ও নিয়ন্ত্রণ এর দায়িত্ব আইসিএবি’র। সিএ সনদধারীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পদে কাজ করেন বলে এই পদের দায়িত্ব ও ক্যারিয়ার বিকাশের সুযোগও বেশ।
পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই সিএ ডিগ্রিকে বেশ সম্মানের চোখে দেখা হয়। আপনি যে দেশ থেকেই সিএ ডিগ্রি অর্জন করুন না কেন পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই আপনার পেশা জীবনে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ভারত সহ বিশে^র অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোতে সিএ ডিগ্রিধারীদের কাজের সুযোগ আছে। যেহেতু সারা পৃথিবী জুড়েই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু নিকট ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী সিএ ডিগ্রিধারী পেশাজীবীদের চাহিদাও বাড়বে।

সিএ ডিগ্রিধারীরা সরকারী-বেসরকারী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বেশ দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অসীন হন। নামী-দামী বহুজাতিক কোম্পানি, এনজিও থেকে শুরু করে প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, মুঠোফোন কোম্পানিগুলোতে সিএ ডিগ্রিধারী পেশাজীবীদের বহুমাত্রিক কাজের সুযোগ আছে। যেহেতু সিএ পেশাদার সনদ সেহেতু এই ডিগ্রি অর্জন করলে আপনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও নীতিনির্ধারণী পদে বেশ সাবলীলভাবেই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ, নিরীক্ষা বিভাগ, ট্যাক্স ও আর্থিক প্রশাসন ইত্যাদি বিভাগে সিএ ডিগ্রিধারীরা কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন।

উন্নতর ক্যারিয়ার গঠনে সিএ ডিগ্রী সর্বজন স্বীকৃত। আইসিএবি’র সদস্যগণ এখন কিছু শর্ত সাপেক্ষে ইংল্যান্ড চার্টার্ড ইন্সটিটিউট অব পাবলিক ফাইনান্স এ্যাকাউন্ট্যান্সী (সিআইপিএফএ) সদস্য পদ লাভ করতে পারবে। একই ধরনের সুযোগ রয়েছে সিপিএ আয়ারল্যান্ড এবং সিপিএ আস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও। যে কারেণ অনেকেই সিএ পড়তে আগ্রহী এবং আইসিএবি’র ছাত্র সংখ্যা ক্রমশ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আইসিএসবি’র লাইব্রেরী
Spellbit Limited

এইচএসসি, এ-লেভেল, ও-লেভেল অথবা গ্রাজুয়েশনের পর যেকোন ডিসিপ্লিনের ছাত্র/ছাত্রী চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্সিতে পড়াশোনার জন্য সুযোগ রয়েছে। আইসিএবি’র নিবন্ধিত সিএ ফার্মে ভর্তি হতে হবে। সিএ ফার্ম নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে। ৩ বছর মেয়াদী আর্টিক্যালসীপ সময়ই হিসাব সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে একজন ছাত্র দক্ষ হয়ে ওঠে। বছরে দু’টি সেশন; মে-জুন এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর সেশনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে সিএ পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করা যায়। তিনটি লেভেল; সাটিফিকেট লেভেল, প্রফেশনাল লেভেল এবং এডভান্স লেভেল পরীক্ষা অনুষ্ঠত হয়। তিনটি লেভেলে সর্বমোট ১৭টি বিষয়ের পরীক্ষায় অবতীর্ন হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারী ছাত্র/ছাত্রীরা মেধার ভিত্তিতে কিছু শর্ত সাপেক্ষে কিছু বিষয়ে ছাড় প্রদান করা হয়।

আর্টিক্যালসীপ চলাকালীন সময়ে ফার্ম থেকে মাসিক সম্মানী প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে প্রদান করার প্রবিধান আছে। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ খরচ চালানোর মতো অর্থেরও যোগান হয়ে যায়। উপরন্ত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে আইসিএবি স্কলারশীপ, এএফ মুজিবুর রহমান স্কলারশীপ এবং শুধুমাত্র ছাত্রীদের জন্য শাশা ফাউন্ডেশেন স্কলারশীপ। তাছাড়াও বিভিন্ন ফার্মে নিজস্ব পদ্ধতিতে মেধাবীদের স্কলারশীপ প্রদানের ব্যবস্থা আছে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী সিএ পড়াশোনার জন্য যে খরচ দরকার হয় তার যোগান সে নিজেই দিতে পারে, পরিবার থেকে অর্থ নেয়ার কোন প্রয়োজন হবে না।

অনেকে মনে করেন সিএ পাস করা কঠিন। কথাটি অবশ্য পরোপুরি সত্য নয়। পরীক্ষা পাসের জন্য দরকার একাগ্রতা, নিয়মানুবর্তিতা ও নিষ্ঠার সাথে পড়াশোনা। ৩-৪ বছরের মধ্যে সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইসিএবি সনদধারী চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট হয়েছেন এমন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অনেক। আবার আর্টিক্যালশীপ শেষ করে শুধু সার্টিফিকেট লেভেল পরীক্ষায় পাস করে অনেকে দেশী বিদেশী বিভিন্ন মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করে মাসে ৫০-৮০ হাজার টাকা আয় করছে, তাদের সংখ্যাও কম নয়। সিএ পাস করার পর শুরুতেই একজনের বেতন হবে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা এবং দেশ বিদেশে বিভিন্ন মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে সিএদের ব্যাপক চাহিদা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে, কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে ২০০ জনেরও বেশি আইসিএবি সনদধারী সিএ অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করে সেখানে প্রতিষ্ঠিত। চাকরির বাজার সিএদের জন্য প্রসস্থ। অর্থনীতির পরিধির বিবেচনায় বিশ^ব্যংকের এক পরিসংখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশে প্রায় ১০ হাজার সিএ প্রয়োজন যেখানে আইসিএবি’র সনদধারী সিএ-র সংখ্যা মাত্র ১৮০০ এর কিছু বেশি।

মেধাবী ও পরীশ্রমীদের জন্য সিএ পাশ করা সহজ। তাছাড়া মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর জন্য প্রাইয়র ক্রেডিটলানিং প্রোগ্রামের আওতায় সার্টিফিকেট লেভেল পর্যায়ের পরীক্ষায় কিছু’ বিষয়’ ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে। এ সংক্রান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আইবিএ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে আইসিএবি সমঝোতা স্মারক আছে। আরও সরকারি ও বেসরকারি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালগুলোর সাথে একই ধরনের সমঝোতা স্বারক সম্পাদিত হওয়ার প্রক্রিয়াধীন আছে। সকল বিষয়ে নয় কেবল অনউত্তীর্ণ বিষয়ে একাধিকবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আছে আইসিএবিতে। যেটি অন্যান্য ডিসিপ্লিনে পাওয়া যাবেনা।

আইসিএবি’র একাডেমিক পরিবেশ অত্যন্ত উন্নতমানের। এর ক্যাম্পাস রাজধানীর ফার্মগেটে সুপরিসর জায়গা নিয়ে চারতলা ভবনে অবস্থিত। যাতে রয়েছে মাল্টি মিডিয়া ক্লাশরুম, ক্যাফেটেরিয়া ও স্টুডেন্ট ওয়েটিং রুম এবং ওয়াইফাই সুবিধাসহ প্রতিক্লাশে বায়োমেট্রিক এটেন্ডডেন্স সিস্টেম। একাডেমিক ক্যাম্পাস থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে কাওরান বাজারে সিএ ভবনে আছে সুবৃহৎ উন্নত পাঠাগার। এতে প্রায় ২২,৩৬৩ বই, জার্নাল ও ম্যাগাজিন আছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ই-লাইব্রেরীর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলেও আইসিএবি’র সিএ একােিডমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় এইচবিএফসি ভবনে তা অবস্থিত। সেখানেও পড়াশোনার উন্নত পরিবেশ সম্বলিত একটি পাঠাগার আছে। অতিঅল্প খরচে মাত্র ১৫০,০০০ টাকায় সিএ কোর্স সম্পন্ন করা সম্ভব ।

আইসিএবি থেকে সিএ ফার্মের নাম, ঠিকানা সংগ্রহ করে পছন্দ মতো সিএ ফার্মে ভর্তি হতে হবে। ফার্ম প্রতিবছর নিদ্রিষ্ট সংখ্যক ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করে থাকে। এ সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদানের জন্য সিএ ভবনের নীচতলায় আছে স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং সেন্টার। প্রতিবছর মে-জুন ও নভেম্বর-ডিসেম্বর সেশনে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের পূর্বে আইসিএবি’র প্রস্তুতিমূলক ক্লাশে অবশ্যই অংশগ্রহন করতে হবে। ক্লাশের উপস্থিতির শতকরা হার বিবেচনায় রেখে ছাত্র/ছাত্রীদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ প্রদান করে থাকে আইসিএবি।
বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে www.icab.org.bd এই সাইটে।

লেখক: সিনিয়র সহকারী সচিব
আইসিএবি