হোম কর্পোরেট সুশাসন আইসিএসবিতে শিক্ষার্থী বাড়াতে দরকার পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন

আইসিএসবিতে শিক্ষার্থী বাড়াতে দরকার পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 5:04 pm
727
0

মাহমুদুন্নবী জ্যোতিঃ বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে পূঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আইনগত, অর্থনৈতিক এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দক্ষ জনবল তৈরি করছে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি), দি ইন্সটিষ্টটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং ইন্সটিষ্টটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ভিন্ন সিলেবাস এবং ভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতি।

সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) এর জুন-ডিসেম্বর সেশনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। একই সাথে ফল প্রকাশিত হয়েছে দি ইন্সটিষ্টটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং ইন্সটিষ্টটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। ফলাফলে দেখা যায়, আইসিএসবি থেকে পাস করেছে মোট ১৫ জন। যারা এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে আইসিএসবি’র সদস্য হবেন। গত সেশনে পাসের মোট সংখ্যা ছিল ২৫ জন।

Spellbit Limited

একই সেশনে আইসিএবি থেকে ফাইনাল পরীক্ষায় পাস করেছেন ২১ জন, তার আগের সেশনে পাস করেছে ৩০ জন এবং আইসিএমএবি থেকে একই সেশনে ফাইনাল কমপ্লিট (পুরনো সিলেবাস) করেছেন ৮ জন এবং নতুন সিলেবাস কমপ্লিট করেছেন এক জন, অর্থাৎ মোট ৯ জন শিক্ষার্থী, তার আগে সেশনে পুরনো সিলেবাসে ফাইনাল কমপ্লিট করেছেন ৩৭ জন।

২০১০ সালে আইনী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আইসিএসবি। কর্পোরেট সেক্টরের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালু করা হয় বিভিন্ন কোর্স। এ সব কোর্সে প্রতি বছর জুলাই এবং ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। জুন মাসে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর ক্লাস শুরু হয় জুলাই মাসে এবং পরীক্ষা নেওয়া হয় ডিসেম্বর মাসে এবং ডিসেম্বর মাসে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর ক্লাস শুরু হয় পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসে এবং পরীক্ষা নেওয়া হয় জুন মাসে।

অন্যদিকে আইসিএবি স্বীকৃতি পেয়েছে ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যাসী অর্ডার (প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার নং ২, ১৯৭৩) এর মাধ্যমে। এবং আইসিএমএবি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ১৯৭৭ সাল থেকে (অর্ডিনেন্স নম্বর এল৩ ১৯৭৭) এর মাধ্যমে। সে হিসেবে আইসিএসবি সবচেয়ে নবীন প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু দক্ষ জনবল তৈরিতে আইসিএবি ও আইসিএমএবি এর চেয়ে পিছিয়ে নেই আইসিএসবি। প্রতিষ্ঠান তিনটির মধ্যে হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ে অধিকতর দক্ষ জনবল তৈরি করছে আইসিএবি। আইসিএমএবি তৈরি করছে বিজনেস কমিউনিকেশন, কোয়ান্টেটিভ টেকনিকস এবং ইকোনোমিকস ফর বিজনেস প্রফেশনালের ওপর দক্ষ কস্ট অ্যাকাউন্টেট এবং আইসিএসবি তৈরি করছে কোম্পানি সেক্রেটারি যার মূল লক্ষ্য থাকে কোম্পানিসমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানে কার্যকর ও ফলপ্রসু বোর্ড এ্যাফেয়ার নিশ্চিত করা।

ছাত্র ভর্তির তথ্য থেকে জানা যায়, আইসিএবি ও আইসিএমএবি এর তুলনায় আইসিএসবি-তে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। গত ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত নোটিশে দেখা যায়, জানুয়ারি-জুন ২০১৯ সেশনে মোট ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯০ জন। গত সেশনে এ সংখ্যা ছিল ১০৩ জন। গত পাঁচ বছরে ভর্তির তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের জানুয়ারি-জুন সেশনে ভর্তির সংখ্যা ছিল ২০৪ জন, জুলাই-ডিসেম্বর সেশনে ছিল ১৮৯ জন, মোট ৩৯৩ জন, ২০১৪ সালের জানুয়ারি-জুন সেশনে ভর্তির সংখ্যা ছিল ২০৯ জন, জুলাই-ডিসেম্বর সেশনে ছিল ১৪২ জন, মোট ৩৫১ জন, ২০১৫ সালের জানুয়ারি-জুন সেশনে ভর্তির সংখ্যা ছিল ২০৩ জন, জুলাই-ডিসেম্বর সেশনে ছিল ১৪৮ জন, মোট ২৫১ জন, ২০১৬ সালের জানুয়ারি-জুন সেশনে ভর্তির সংখ্যা ছিল ১২০ জন, জুলাই-ডিসেম্বর সেশনে ছিল ১২৯ জন, মোট ২৪৯ জন, ২০১৭ সালের জানুয়ারি-জুন সেশনে ভর্তির সংখ্যা ছিল ১৩৯ জন, জুলাই-ডিসেম্বর সেশনে ছিল ১৩১ জন। অর্থাৎ ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৪৪ জন। অনদিকে আইসিএবি এবং আইসিএমএবি তে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুই হাজার জন।

আইসিএসবি-তে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা পদ্ধতিকে দায়ি করছেন অনেকেই। শিক্ষার্থীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, পরীক্ষার্থীরা যদি চার বিষয়ের মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করে তাহলে আইসিএসবি’র শিক্ষার্থীদের পুণরায় সব বিষয়েই পরীক্ষা দিতে হয়। অন্যদিকে আইসিএবি এবং আইসিএমএবি-তে পরীক্ষার্থী এক বিষয়ে ফেল করলে পরবর্তীতে শুধু ঐ এক বিষয়েই তাকে পরীক্ষা দিতে হয়। ফলে আইসিএসবিতে ভর্তি এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত খরচ বেশি যা অনেকের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। এছাড়া, সিএ এবং সিএমএ-তে ভর্তির ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক ভাল রেজাল্টের জন্য ওয়েভার বা ছাড় দেওয়া হয়। ফলে ভাল ছাত্রদের জন্য সব বিষয়ে পরীক্ষাও দিতে হয়না বিধায় ভাল ছাত্র-ছাত্রীদের সিএ এবং সিএমএ পেশার প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে। ফলে, আইসিএসবিতে ভাল ছাত্রদের আসার আগ্রহ থাকে না, কারণ এখানে তারা এই সুবিধাগুলো পাচ্ছে না। অন্যদিকে সিএ এবং সিএমএ পেশার ছাত্রদের একে অন্যের পেশায় একটি নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত ওয়েভার বা ছাড় পাচ্ছেন। ফলে অনেক সিএ আইসিএমতে আসছে আবার আইসিএমএ সিএ-তে আসছে। কিন্তু আইসিএসবি-তে এ ধরণের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একজন সিএ বা আইসিএমএ পাস করা ছাত্রকে আইসিএসবিতে কোন ওয়েভার বা ছাড় দেওয়া হয় না। কাজেই বুড়ো বয়সে আর সব বিষয়ে পড়ে আইসিএসবিতে আসতে চায় না অনেকেই। ফলে আইসিএসবি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে এবং সেই সাথে পিছিয়ে পড়ছে কর্পোরেট প্রফেশনে- যা কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা দরকার। তা না হলে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সিএস পেশা পড়তে পারে মারাত্বক হুমকির মুখে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ-সৌদির সামরিক চুক্তির অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি
বন্ধ হয়নি অর্থ পাচার