হোম কর্পোরেট সংবাদ এফবিসিসিআই’র নির্বাচন ২৭ এপ্রিল

    এফবিসিসিআই’র নির্বাচন ২৭ এপ্রিল

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 10:19 am
    211
    0
    fbcci

    ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) আসন্ন নির্বাচন ২০১৯-২০২১-এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সংগঠনটির সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী আগে থেকেই চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় এ নির্বাচন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ নেই।

    গত বৃহস্পতিবার সংগঠনটির কার্যালয়ে প্রাথমিক ভোটার তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অসংগতি থাকলে তা নিয়ে আপিল-নিষ্পত্তির পর আগামী ১৮ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও টানিয়ে দেওয়া হবে।

    Spellbit Limited

    আগামী ২৭ এপ্রিল এফবিসিসিআই’র ২০১৯-২০২১ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংগঠনটির পরিচালক নির্বাচন করা হবে। পরের দিন পরিচালনা পর্ষদের ভোটে সংগঠনটির সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করা হবে।

    গতবার অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবার শীর্ষ এই পদে নির্বাচিত হবেন চেম্বার গ্রুপের একজন। জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হবেন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে। আর সহসভাপতি হবেন চেম্বার গ্রুপ থেকে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
    এদিকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে কাউন্সিল অব চেম্বার প্রেসিডেন্টসের সভায় শেখ ফাহিমের পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি। এবার কাউন্সিল অব চেম্বারের প্রতিনিধিরা শেখ ফজলে ফাহিমকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ায় আগে থেকেই সভাপতি কে হবেন তা একরকম নিশ্চিত হয়ে গেছে।

    তথ্যমতে, এফবিসিসিআই’র প্রাথমিক ভোটার তালিকায় অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে ‘এ’ শ্রেণির ৩৮৪টি অ্যাসোসিয়েশন থেকে এক হাজার ৯১৮ জন এবং ‘বি’ শ্রেণির চারটি অ্যাসোসিয়েশনের ১২ ভোটারের নাম রয়েছে।

    চেম্বার গ্রুপে ‘এ’ শ্রেণির ৭২টি চেম্বারের ৪৩২ ভোটার এবং ‘বি’ শ্রেণির ১৪টি চেম্বারের ৫৬ ভোটারের নাম এসেছে ভোটার তালিকায়। এই তালিকায় ভোটার হওয়ার যোগ্য এমন অনেক সদস্যের নাম আসেনি বলে অভিযোগ উঠছে। ভোটার তালিকা প্রকাশের পরপরই ভোটার তালিকায় নাম এসেছে কি না, তা দেখতে অনেকেই সংগঠনটির কার্যালয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে এমন কিছু অভিযোগ পাওয়া যায়। ভোটার তালিকায় নাম না আসাটাকে কেউ কেউ ‘ইচ্ছাকৃতভাবে আনা হয়নি’ বলে মনে করছেন। নির্বাচনের সবকিছু আগেই ঠিক হয়ে আছে কে সভাপতি হবেন, কে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হবেন, কে সহসভাপতি হবেন।
    ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারগুলোকে একত্রিত করে সামগ্রিক ব্যবসা উন্নয়নে কাজ করা। এফবিসিসিআই’র বর্তমান সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দীন) তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতিও ছিলেন বছর কয়েক আগে।

    ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে এই সংগঠনটির সক্রিয়তা আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে। এফবিসিসিআই’র ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি পরে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতারাই পূরণের উদ্যোগ নেন এবং গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশিরভাগ ব্যাংকই এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। তবে এ সিদ্ধান্ত বেশিরভাগ ব্যাংকই বাস্তবায়ন করেনি। এ নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অভিযোগ করেন সংগঠনটির নেতারা।
    যদিও কয়েক বছর আগেও এই সংগঠনটি ব্যবসা সহজীকরণের কথা বলে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করত। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ ও অবকাঠামো সুবিধা আদায়ে সরকারকে প্রতিনিয়ত করাঘাত করে গেছে। এর ফলে বাজেট প্রণয়নে ব্যবসায়ীদের অনেক সুপারিশ মেনে নিত সরকার। এছাড়া অর্থনৈতিক বিভিন্ন চলমান ইস্যু নিয়েও সরকারের ওপর প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করত সংগঠনটি। এতে সরকারও বিভিন্ন সময় শুল্ক-কর রেয়াত, সুদ-রেয়াত, নগদ সহায়তা প্রদান, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ অনেক দাবিই পূরণ করেছে। তবে সাম্প্রতিককালে এ ধরনের কার্যক্রম কমে আসছে। সম্প্রতি হংকং সফর শেষে দেশে ফিরেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, বর্তমান সভাপতি শফিউল ইসলাম ছাড়াও কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ ও আবদুল মাতলুব আহমাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এফবিসিসিআই’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও এর আগে অনেক সময়ই এফবিসিসিআই’র নির্বাচন ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তখন অনেক ক্ষেত্রে চেম্বারের সদস্যদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হয়ে সভাপতি পদে নির্বাচন করারও নজির রয়েছে এফবিসিসিআইতে।

    সাবেকদের অনেকেই এখন এফবিসিসিআই’র বর্তমান এবং গত কয়েকটি কমিটির কার্যক্রমে সন্তুষ্ট নয়। এফবিসিসিআই’র সাবেক এক নেতা সম্প্রতি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে একসময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত এই সংগঠনটি। সেই সময় আমি এই সংগঠনটির সঙ্গে জড়িয়েছিলাম। এখন আমি এর ভালো-মন্দ নিয়ে কোনো কিছু বলতে চাই না।’

    এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মো. আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেন, ‘জনকল্যাণে পরিচালিত দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই এখন রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে পুলিশ-প্রশাসন, আইন-আদালত কোনো কিছুই স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে চলছে না। সেখানে এফবিসিসিআইও এই রাজনৈতিকীকরণের বাইরে নয়। এমন রাজনৈতিকীকরণ থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।’ সূত্র: শেয়ার বিজ

    আরও পড়ুন: বিআইবিএম এর ডিজি নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন