হোম কর্পোরেট সুশাসন বন্ধ হয়নি অর্থ পাচার

বন্ধ হয়নি অর্থ পাচার

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 12:17 pm
86
0

মাহ্‌মুদুন্নবী জ্যোতি: বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ হয়নি। সরকার কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও কার্যত আগের চেয়ে আরো বেড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। আর এসব পাচার হচ্ছে মূলত হুন্ডির মাধ্যমে। ২০১৭ সালে হুন্ডির মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার পাচার বা লেনদেন হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৬৪ জেলায় সহস্রাধিক ব্যক্তি হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ তালিকায় শুধু ঢাকা বিভাগের রয়েছেন ১৭২ জন। এছাড়া ময়মনসিংহের ১২ জন, টাঙ্গাইলের ৫ জন, নারায়ণগঞ্জে ১৩ জন, কিশোরগঞ্জের ৭ জন, মুন্সীগঞ্জের ৩ জন, নরসিংদীর ২৩ জন, শেরপুরের ১২ জন, মানিকগঞ্জে ২৮, ফরিদপুরের ৫ জন, গোপালগঞ্জের ৮ জন, রাজবাড়ীর ৮ জন, মাদারীপুরের ২৫ জন উল্লেখযোগ্য। প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে হুন্ডির বিশাল চক্রের সদস্য, পৃষ্ঠপোষক ও এর সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

Spellbit Limited

এদিকে, ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের ২০ বছরের একটি তালিকা তৈরি করে তা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন থেকে হুন্ডির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিদেশে অর্থ পাচার করছে বেশ কিছু অসাধু চক্র। এ তালিকায় রয়েছেন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মালিক। এ ছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গরু পাচারকারীরাও হুন্ডির মাধ্যমে গরুর মূল্য পরিশোধ করছে। বৈদেশিক মুদ্রানীতি অনুসরণ না করে এভাবে অর্থ স্থানান্তরের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরকারি প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ কারণে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অনেক ব্যক্তি অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর করতে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করছে। তবে সরকার এ ব্যাপারে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেবে।

‘আন-অথরাইজড’ অর্থ অনেকে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করে। কারণ, বিদেশে একটি বড় অর্থ গেলেই তার সোর্স কোথায়, তা নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। তাই অনেকে হুন্ডির আশ্রয় নেয়। আবার কেউ অর্থ স্থানান্তর করে বেশি দাম পাওয়ার আশায়।

বিষেশজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি টাস্কফোর্স রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের সক্রিয় ভূমিকা হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার বন্ধ করতে সহায়ক হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ফি আরেকটু কমানো গেলে হুন্ডির প্রবণতা কমবে বলে মনে করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: শিক্ষা নেয়নি নিমতলী থেকে