হোম লীড নিউজ ১০ বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি বহুজাতিক কোম্পানি

১০ বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি বহুজাতিক কোম্পানি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 11:05 am
251
0
Multinational

ডেস্ক রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির অভাব রয়েছে। গত ১০ বছরে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানির সংখ্যা বাড়লেও পুঁজিবাজারে আসেনি কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত হয় গ্রামীণফোন। বিষয়টি পুঁজিবাজারের জন্য ভালো দিক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বছরের পর বছর ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে না আসায় এসব কোম্পানির মুনাফার কোনো সুফল পাচ্ছেন না দেশবাসী।

Spellbit Limited

গত তিন বছর আগে এসব কোম্পানি বাজারে আনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে কিছু প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তুলতে বাধ্যবাধ্যকতা আরোপের পাশাপাশি কর হ্রাসসহ একাধিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান। এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানির করহার অতালিকাভুক্ত বিদেশি কোম্পানির চেয়ে ১৫ শতাংশ কম নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের ওপর প্রয়োজনে বর্ধিত হারে করারোপসহ প্রাপ্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাট-ছাঁট করার প্রস্তাব করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। কিন্তু এরপর আর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা হচ্ছে ৩৫৫টি। এর মধ্যে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত রয়েছে মাত্র ১১টি। এগুলো হচ্ছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রামীণফোন, ম্যারিকো বাংলাদেশ, লিন্ডে বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, সিঙ্গার বাংলাদেশ ও বাটা শু। যদিও সম্প্রতি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশের মালিকানা ইউনিলিভারের কাছে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

সূত্রমতে, বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য কোম্পানিগুলোকে আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন সনদ নিতে হয়। এ নিবন্ধনের সময় শর্তারোপ করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির ব্যাপারে বাধ্য করা যেতে পারে বলেও প্রস্তাব করেছিল বিএসইসি। এছাড়া কোম্পানির মূলধনের একটি নির্দিষ্ট অংশ পুঁজিবাজার থেকে পাবলিক অফারের মাধ্যমে সংগ্রহের শর্ত আরোপ করা যেতে পারে। এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এদের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বাধ্য করার সুপারিশ করে বিএসইসি।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি জরুরি। কিন্তু বিভিন্ন কৌশলে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে দূরে সরে রয়েছে। এ অবস্থায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে এখন দ্বিমত নেই বিএসইসি, ডিএসই (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ) ও সিএসইর (চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ)।

এ প্রসঙ্গে ডিএসই’র পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি এসব কোম্পানির প্রতি সরকারের কঠিন হওয়া উচিত। তাদের ওপর করের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিলে তারা পুঁজিবাজারে আসবে। কঠিন সিদ্ধান্ত না নিলে তারা কিছুতেই পুঁজিবাজারমুখী হবেন না।’

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশীয় মৌল ভিত্তিসম্পন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা কম হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানিতেই সাধারণত বিনিয়োগ করেন। অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মৌলভিত্তি ভালো হওয়ায় এ কোম্পানিগুলো ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেক বেশি। এ কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হলে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়বে। ইতিবাচক হবে পুঁজিবাজারের গতি-প্রকৃতি।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, যেসব বহুজাতিক কোম্পানি আমাদের দেশে ব্যবসা করছে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য সরকারসহ সবার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। কারণ পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারের জোগান দিতে এসব কোম্পানির বিকল্প নেই। সূত্র: শেয়ারবিজ

আরো পড়ুন: জেএমআই সিরিঞ্জেস দীর্ঘমেয়াদে রেটিং পেয়েছে ‘এ প্লাস’