হোম আর্কাইভ টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রাহকবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে

টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রাহকবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 11:25 am
447
0

ডেস্ক রিপোর্ট: সাইবার অপরাধ ও হুমকি থেকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, টেলিযোগাযোগের দিক থেকে সুবিধাবঞ্চিত এলাকাকে অগ্রাধিকার প্রদান, অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং টেলিযোগাযোগ খাতের মান ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য টেলিযোগাযোগ নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা-২০১৮ নামে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়। সরকারি সূত্র জানায়, এতে টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রাহকবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে।

নীতিমালায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে টেলিযোগাযোগ সেবার মানকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যেতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে; যার লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত। নীতিমালা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, টেলিযোগাযোগ সেবা খাতকে মানসম্মত ও বাস্তবসম্মত সেবার নিরিখে প্রণয়ন করা হয়েছে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা। বিদ্যমান নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে যুগোপযোগী করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে স্পেকট্রামের (তরঙ্গ) যথাযথ ব্যবহারের জন্য একটি বিস্তারিত রেগুলেটরি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হবে। থাকবে নিরাপত্তা ঝুঁকি, চুরি এবং অন্য বিষয়াদি যেমন মোবাইল হ্যান্ডসেটের পুনঃপ্রোগ্রামিং ইত্যাদি রোধে মোবাইল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের একটি জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে, যোগ করেন মন্ত্রী।

নীতিমালায় সুদূরপ্রসারী প্রত্যাশায় বলা হয়েছে, জাতীয় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র অর্জন এবং নতুন বৈশ্বিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে সম্পৃক্তকরণে সাশ্রয়ী ও সার্বজনীন উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করা। আর লক্ষ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সব ব্যক্তি, বাসস্থান, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসার জন্য সাশ্রয়ী ও সমন্বিত টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সেবা নিশ্চিত করা।

পাশাপাশি, সুসংগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রমকে স্বচ্ছ এবং বৈষম্যহীন করা। সেখানে প্রণীত নীতিমালা ন্যূনতম ১০ বছরব্যাপী প্রাসঙ্গিক থাকার অভিপ্রায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতিমালার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার মাধ্যমে সার্বিক সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সংহতির উন্নতি সাধনক্রমে ডিজিটাল বিভক্তি হ্রাস করা, সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে কার্যকর ও বৈষম্যহীন আন্তঃসংযোগ নিশ্চিতকরণ, এ খাতের জন্য নিরাপদ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক সংযোগ নিশ্চিত করা। সেবার মান ও গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় সামগ্রিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থকে সমুন্নত রাখা।

নীতিমালায় বাজার সম্প্রসারণে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও সুযোগের সদ্ব্যবহার সহজতর করার জন্য একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর লাইসেন্সিং ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা ও অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল সম্প্রচার অভিপ্রায়ের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং লাইসেন্সিং কাঠামোয় সুবিধাজনক মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া প্রণয়ন করা।

সাইবার অপরাধ ও হুমকি থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং ডিজিটাল আক্রমণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো সুরক্ষার পাশাপাশি নাগরিকের ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যাংকিংসহ আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা বিঘিœত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘৃণা, বিদ্বেষ, নারীর প্রতি অশ্লীলতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, ধর্মবিদ্বেষী প্রচারণা বন্ধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।

পরিবেশবান্ধব নেটওয়ার্ক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল (এসওএফ) যথাযথ কাজে লাগানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে এ নীতিমালায়। বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব টেলিযোগাযোগ খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে যথাযথ কাঠামো প্রণয়ন, গ্রিন টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ এবং গ্রিন টেলিযোগাযোগ নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারসহ শক্তির বিকল্প উৎসসমূহের ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আর সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে দেশের টেলিযোগাযোগ সুবিধাবঞ্চিত এলাকাকে অগ্রাধিকার ও তহবিলের জমা অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এ নীতিমালায়। এ ছাড়া অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং উপায়ের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা সৃষ্টির পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে প্রণীত নীতিমালা।

নেওয়ার্ক উন্নয়ন এবং সংযোগ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ঘোষিত স্বল্প (২০২০), মধ্যম (২০২৩) ও দীর্ঘমেয়াদি (২০২৭) পরিকল্পনায় যথাক্রমে টেলি-ঘনত্ব ফিক্সড ও মোবাইল ৯৫ শতাংশে উন্নীতি করা, ইন্টারনেটের বিস্তার ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া, সব জেলা-উপজেলা সদর এবং সব ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ বিস্তৃতীকরণ এবং দেশব্যাপী শতভাগ ডিজিটাল সম্প্রচার চালু করা। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় শতভাগ টেলি ঘনত্ব ও ইন্টারনেট অর্জন, ব্রডব্যান্ডের বিস্তার ও দেশের গ্রামে ৭০ শতাংশ ব্রন্ডব্যান্ড সংযোগ স্থাপন ও সব ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির তারহীন ব্রডব্যান্ড সেবা নিশ্চিত করা। আর জনসংখ্যার ১০০ ভাগ ব্রডব্যান্ড সেবা ভোগ করা ও দেশের শতভাগ গ্রামে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছাতে অঙ্গীকার করা হয়েছে এসব মেয়াদি পরিকল্পনায়।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর সময়ে ১৯৭৩ সালে দেশ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ লাভ করে। জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা, ১৯৯৮-এর ভিত্তিতে সরকার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ প্রণয়ন করে। টেলিযোগাযোগ খাতের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে সর্বশেষ জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা-২০১৮ প্রণয়ন করল সরকার।

আরো পড়ুন: আগামী মাসে বাজারে আসছে হুয়াওয়ে পি৩০ ও পি৩০ প্রো স্মার্টফোন