হোম জাতীয় রিটার্ন দাখিল না করা ১৮ লাখ ই-টিআইএনধারীদের সন্ধানে নামছে এনবিআর

    রিটার্ন দাখিল না করা ১৮ লাখ ই-টিআইএনধারীদের সন্ধানে নামছে এনবিআর

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 2:41 pm
    561
    0
    NBR

    ডেস্ক রিপোর্ট: চলতি করবর্ষে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) থাকা প্রায় ১৮ লাখ ব্যক্তি রিটার্ন দাখিল করেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগ ওসব টিআইএনধারীর আয়ের তথ্য অনুসন্ধানে নামছে। সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে আয়কর রিটার্ন জমা না দেয়া টিআইএনধারীদের খোঁজ নিতে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নির্দেশনার ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারি থেকে টিআইএনধারীদের সন্ধানে নামতে যাচ্ছে কর কর্মকর্তারা। তাছাড়া উৎসে আয়কর কর্তনের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে তা পালন করছে কিনা তা তদারকির জন্য এনবিআরের টাস্কফোর্স কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে টাস্কফোর্সের সদস্যরা একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৬ কোটি টাকার কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছেন। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এনবিআরের হিসাবে বর্তমানে দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা ৩৮ লাখ ৯৩ হাজার। তবে গত নভেম্বরে রিটার্ন জমা দেয়ার সময় ওই সংখ্যা ছিল ৩৮ লাখের কাছাকাছি। তার মধ্যে নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ ব্যক্তি করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। পরবর্তীতে রিটার্ন জমা দেবেন সেজন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন আরো ৩ লাখ টিআইএনধারী। তাদেরও সম্ভাব্য রিটার্ন দাখিলকারী ধরা হলে সব মিলিয়ে ওই সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ লাখ। অর্থাৎ প্রায় ৩৮ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে ১৮ লাখই রিটার্ন দাখিল করছে না। রিটার্ন দাখিল না করলে ওসব ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো আয়কর পাওয়া যাবে না। তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাবও পাওয়া যায় না। ফলে করদাতা বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআরের উদ্দেশ্য পূরণে তা বাধা হিসেবে কাজ করছে।

    Spellbit Limited

    সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে প্রতি মাসের জন্য প্রযোজ্য আয়করের সমান সুদ ছাড়াও জরিমানা গুনতে হয়। তাছাড়া রিটার্ন জমা না দিলে জেল-জরিমানারও বিধান রয়েছে। বর্তমানে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। আড়াই লাখ টাকার উপরে আয় হলে ব্যক্তি করদাতাদের নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করতে হয়। আর যেসব ব্যক্তির টিআইএন রয়েছে, তাদের আয় করসীমা অতিক্রম করুক বা না করুক- তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশে আয়কর আদায়ে আয়কর কর্তৃপক্ষ চাইলে অন্যান্য সংস্থার সহায়তাও নিতে পারে। এমনকি চাইলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশের সহায়তাও নিতে পারে। তার বাইরে অন্যান্য সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেরও সহযোগিতা নেয়া যাবে। টিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল না করা ব্যক্তিদের খোঁজ নিতে পুলিশ সদস্যদের সহায়তা নেয়ার বিষয়টি এনবিআরের আলোচনায় এসেছে। তবে আপাতত এনবিআর এতো হার্ডলাইনে যেতে চাচ্ছে না। কেননা এর ফলে করদাতাদের মধ্যে ভীতি তৈরি হলে অনেকেই করের আওতায় আসতে চাইবে না।

    সূত্র আরো জানায়, বিভিন্ন খাতের ব্যক্তিকে টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতায় আনতে এনবিআর গত কয়েক বছরে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে চাকরিজীবীসহ ৩৪ খাতের সেবা কিংবা ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির টিআইএন নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তার মধ্যে ব্যাংক হিসাব হিসাবে মুনাফায় ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করের সুবিধা পাওয়ার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া চাকরিজীবীদের মধ্যে ১৬ হাজার টাকার উপরে বেতন হলে, ট্রেড লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক, সিটি করপোরেশন এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা গাড়ি কিনতে, ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে টিআইএন নেয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে। আর ওসব সেবা নেয়ার জন্য বাধ্য হয়ে টিআইএন নেয়ার সংখ্যা গত ৩ বছরের ব্যবধানে ২০ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ৩৯ লাখে উন্নীত হয়েছে। তার মধ্যে ব্যাংক হিসাবধারী, ব্যবসায়ীসহ (বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসার মালিক) যারা তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতায় টিআইএন নিয়েছে, রিটার্ন দাখিল না করার তালিকায় ওই ব্যক্তিদের সংখ্যাই বেশি। যদিও এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, গত ৫ বছরের ব্যবধানে রিটার্ন দাখিলকারী উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত ৫ বছর আগে প্রায় ১৮ লাখ টিআইএনধারীর বিপরীতে রিটার্ন দাখিল হতো ১০ লাখের কাছাকাছি। ৫ বছরে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা এখন দ্বিগুণে উন্নীত হয়েছে।

    এদিকে এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার জানান, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে নোটিস জারি করবে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলো। সময়মত রিটার্ন জমা না দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হবে। এমনকি টিআইএনধারীর আয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে কর্মকর্তারা তার উপর আয়কর ধার্য করে তা আদায় করতে পারবেন। এটি আয়কর আইনেও বলা আছে।

    আরও পড়ুন: বিদায়ী এমপিদের আবাসন ও অফিস ছাড়ার নির্দেশ আসছে