হোম আন্তর্জাতিক অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধিতে ঋণ প্রস্তাব ফেরত দিল চীন

অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধিতে ঋণ প্রস্তাব ফেরত দিল চীন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 12:40 pm
538
0
RailLine

ডেস্ক রিপোর্ট: জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ১৬৩ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এটিকে ডাবল লাইনে উন্নীত করতে যাচ্ছে রেলওয়ে। চীনের অর্থায়নে জিটুজির ভিত্তিতে রেলপথটি নির্মাণ করবে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। এজন্য গত ৬ জানুয়ারি ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসে ঋণ প্রস্তাব পাঠায় রেলওয়ে। এতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার তুলনায় নির্মাণব্যয় অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। অস্বাভাবিক এ ব্যয় পার্থক্যের কারণে ঋণ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে চীন।

তথ্যমতে, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় এ ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল আট হাজার ২৩৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ রেলপথটি নির্মাণব্যয় এরই মধ্যে প্রায় ছয় হাজার ৪১ কোটি ৬৮ লাখ বা ৭৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে গেছে।

Spellbit Limited

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরপত্র ছাড়াই রেলপথ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। চীনের ঋণ সংগ্রহ করে দেবে এ শর্তে প্রকল্পটির ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় চীনা প্রতিষ্ঠানটিকে। এক্ষেত্রে পারস্পরিক দর কষাকষির মাধ্যমে নির্মাণব্যয় চূড়ান্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রকল্পব্যয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে রেলপথ নির্মাণব্যয় অনেকটাই বেড়ে গেছে।

গত ২১ জানুয়ারি ঋণ প্রস্তাব ফেরত দিয়ে রেলওয়েকে চিঠি দেয় চীনের দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কনস্যুলার। এতে বলা হয়, গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ রেলওয়ে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী সেকশন ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ নির্মাণে চীনের ঋণ সহায়তার আবেদন করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চায়না জিটুজি ঋণ প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় সাজেশন তথা প্রেফারেন্সিয়াল এক্সপোর্ট বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) গ্রহণে আবেদন করে বাংলাদেশ পক্ষ। তবে চীনের পক্ষে এ আবেদন যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

কারণ হিসেবে চিঠিতে বলা হয়, চীনের পিবিসি ঋণের ক্ষেত্রে প্রণীত নতুন নীতিমালা গত বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে ঋণ আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে হবে, যার অন্যতম প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন। তবে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী সেকশন ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ নির্মাণে জমা দেওয়া সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন পুরোনো। এতে রেলপথ নির্মাণ ব্যয় অনেক কম দেখানো হয়েছে। আর ঋণ আবেদনে প্রকল্পটির মোট বাজেট অনেক বেশি।

এ পরিস্থিতিতে চীনের পক্ষে প্রকল্পটি মূল্যায়ন করা কঠিন। ফলে গত ৬ জানুয়ারির ঋণ প্রস্তাব উভয় পক্ষের জন্য মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন করে প্রকল্পটির সম্ভাব্য যাচাই প্রতিবেদন প্রণয়ন ও ঋণ আবেদন করতে হবে, যাতে চীনের পক্ষে প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, কোনো প্রকল্পে ঋণের পরিমাণ ৩০ কোটি ডলারের (প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা) ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নে পিবিসি ঋণ দেবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির ঠিকাদারের সঙ্গে সই করা বাণিজ্যিক চুক্তিমূল্যের ১৫ শতাংশ অর্থায়ন করতে হবে। বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ দেবে চীন সরকার। তবে আবেদনের সঙ্গে ১০ ধরনের নথিপত্র জমা দিতে হবে। চীনের পক্ষ থেকে তা যাচাই-বাছাই ও প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্রমতে, ২০১৬ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক ডিপিপি বা পিডিপিপি অনুমোদন করা হয়। এর পর প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। ২০১৭ সালে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এতে নির্মাণব্যয় ধরা হয় আট হাজার ২৩৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণে এর পর অর্থায়নের উৎস খোঁজা শুরু করে রেলওয়ে। এতে আগ্রহ দেখায় চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। রেলপথটি নির্মাণে জিটুজির ভিত্তিতে চীনের ঋণ সরবরাহের আশ্বাসও দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এক্ষেত্রে দরকষাকষির ভিত্তিতে প্রকল্পব্যয় বেড়ে হয় ১৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য বিদ্যমান রেলপথটির কিছু অংশ পুনর্নির্মাণ করতে হবে। আবার প্রকল্পটিতে সেতুর সংখ্যা অনেক বেশি। ছোট-বড় ২০৪টি সেতু নির্মাণ ছাড়াও সাতটি স্টেশন পুনর্নির্মাণ, ১৪টি সংস্কার ও একটি স্টেশন নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। ১৫টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় এসব কাজের অনেক বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এসব কারণে ব্যয় বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ আবার ঋণ আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ ডাবল লাইন প্রকল্পটির আওতায় ১৬২ কিলোমিটার মূল রেলপথ ছাড়াও ১২ কিলোমিটার লুপ লাইন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আট হাজার ৭৫৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ঋণ চাওয়া হয়েছে চীনের কাছে। আর পাঁচ হাজার ৫২৩ কোটি ৬২ লাখ সরকারি তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। এটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শেয়ারবিজ

আরো পড়ুন: হারকিউলিস নামে চিরকুট ঝুলানোদের খোঁজা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী