হোম কর্পোরেট সুশাসন বাংলাদেশ-সৌদির সামরিক চুক্তির অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি

বাংলাদেশ-সৌদির সামরিক চুক্তির অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 5:56 pm
152
0

মাহমুদুন্নবী: বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের একাধিক দেশের সাথে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ সকল সামরিক চুক্তির লাভ-ক্ষতি কি, তা নিয়ে চলে বিস্তর আলোচনা। সে সব আলোচনা উঠে আসে অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টি। সর্বশেষ সরকার সৌদি আরবের সাথে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি করতে যাচ্ছে।

কয়েক বছর আগে সৌদি আরব কয়েকটি ইসলামি দেশকে নিয়ে ‘সন্ত্রাসবিরোধী একটি সামরিক কোয়ালিশন’ গঠন করেছিল এবং বাংলাদেশকে সেই কোয়ালিশনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু এই কোয়ালিশনে যোগ দেয়া না দেয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Spellbit Limited

গত অক্টোবরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের সাথে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তির বিষয়বস্তু বা আওতা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে এবারে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি রিয়াদে এই চুক্তিটি সই হবে। চুক্তিটির আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুটি ব্যাটালিয়নের প্রায় ১৮০০ সৈন্য সৌদি আরবে মোতায়েন করা হবে।

ইরাকের শাসক সাদ্দাম হোসেন কুয়েত দখল করে নিলে পরবর্তীকালে সেটি দখলমুক্ত করার জন্য ১৯৯১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সৌদি আরব থেকে ইরাকে যে অভিযান চালায়, তখন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিতি ছিলেন। তবে তাদের ভুমিকা ছিল সৌদি সামরিক এলাকাগুলো ইরাকি হামলার হাত থেকে রক্ষা করা।

বর্তমানে সৌদি আরবের সাথে ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সেনাদের সেদেশে প্রেরণের বিষয়টির গুরুত্ব মোটেও কম নয়। কারণ, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে তেমন কোন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়নি, যা বাহিনীটির জন্য অবশ্যই সুসংসাদ। তবে এটা মেনে নিতে হয় যে, একটি পেশাদারী বাহিনীকে অবশ্যই সব সময় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েই থাকতে হয়।

বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্য সহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে অস্থিতিশীল ও দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে বয়ে এনেছেন দেশের জন্য সুনাম। আর্থিকভাবে নিজেরাও হয়েছেন লাভবান। এ সকল ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে প্রাণহানি ঘটেনি, এমন নয়। তবে সৌদি আরবে সৈন্য প্রেরণের বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে এতদিন যে ভারসাম্য রেখে চলছিল-সৌদি আরবের সাথে সামরিক চুক্তিতে সেই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তারা এও বলছেন, চুক্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক ভালো করে বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে, যাতে করে দেশের স্বার্থ এবং দায়িত্বরত সেনা সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশী সৈন্যরা কি ধরনের দায়িত্ব বা ভুমিকা পালন করবে সে বিষয়টিও পরিষ্কার উল্লেখ থাকা বাঞ্ছনীয়।

বর্তমানে ইয়েমেনের সাথে সৌদি আরব যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি সেনাবাহিনী সে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সাথে যে কুটনৈতিক সুসম্পর্ক রয়েছে, তা প্রশ্নের মুখোমুখি পড়তে পারে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশ সৌদি আরবের সাথেই আছে- এমন ধারণাই পোষণ করে অন্যান্য দেশের সরকার প্রধান। তারপরও যেখানে একদিকে কাতার ছাড়াও সুন্নিপ্রধান দেশ, অন্যদিকে ইরান সহ সুন্নি গরিষ্ঠ দেশ। আর এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নিয়েছে তুরস্ক। আর এ কারণেই চুক্তি এবং দেশের অর্থনৈতিক বিষয়টির প্রতি আরো তীক্ষ্ন দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। কারণ, চুক্তির আবরণে যাতে কোনো ভাবেই বাংলাদেশ যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে, আর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে।

আরও পড়ুন: একই সাথে “উন্নয়ন ও গণতন্ত্র”