হোম আইন-আদালত জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে ডাকাত চক্র, গ্রেফতার ৬

জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে ডাকাত চক্র, গ্রেফতার ৬

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 2:27 pm
367
0

ডেস্ক রিপোর্ট: টঙ্গীর আফতাব প্লাজায় পোদ্দার জুয়েলারি স্টোরের কর্ণধার প্রদীপ পোদ্দার। জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে গড়ে তোলেন ডাকাত চক্র। চক্রের সদস্যরা কেউ গ্রেফতার হলে তাদের আইনি সহায়তা দিতে নিয়োগ করেন উকিল। আয় না থাকলে সদস্যদের বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তাও দিতেন তিনি।

এছাড়া, অন্যান্য চক্রের ডাকাতি হওয়া মালামালও কম দামে কিনে রাখতেন প্রদীপ পোদ্দার। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দিনগত রাতে প্রদীপ পোদ্দারসহ (৪১) এই চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি করা বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। অন্য আটকেরা হলেন- দুলাল হোসেন (৩০), রাসেল (২২), জাকির হোসেন (২৬), কোকিলা বেগম ওরফে প্রেরণা ও হাজেরা বেগম। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম

Spellbit Limited

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রদীপ পোদ্দার এ ডাকাত চক্রের মূল হোতা। তিনি টঙ্গীর আলতাব প্লাজার দ্বিতীয় তলায় পোদ্দার জুয়েলারি স্টোরের কর্ণধার। তার ছত্রচ্ছায়ায় একাধিক চক্র আছে, যাদের কাছ থেকে ডাকাতির মালামাল কম মূল্যে ক্রয় করতেন প্রদীপ। এমনকি কোনো ডাকাত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরা পড়লে তিনি উকিলের মাধ্যমে তাদের জামিনের ব্যবস্থা করতেন। পরবর্তী সময়ে ডাকাতির মালপত্র ক্রয়ের সময় তা সমন্বয় করা হতো। তিন বছর ধরে তিনি জুয়েলারি সরঞ্জামাদি যেমন গহনার বাক্স, গহনা তৈরির কাজে ব্যবহূত গ্যাস টিউব, সোহাগা ও অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যবসা করে আসছেন। আগে তার নিজস্ব জুয়েলারি ব্যবসা ছিল। সে সময় থেকেই ডাকাতিকৃত স্বর্ণালঙ্কার ক্রয়ের সূত্র ধরে ডাকাত দলের বিভিন্ন চক্রের সঙ্গে তিনি পরিচিতি ও সখ্য।

আটক আরেক আসামি দুলাল হোসেন পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি উত্তর বাড্ডা থেকে গার্মেন্টসের তৈরি পোশাক কিনে গাজীপুর ও উত্তরার বিভিন্ন স্থানে খুচরা বিক্রি করেন। রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় কাপড় বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন বাসার বাসিন্দাদের গতিবিধি লক্ষ রাখতেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সুযোগ বুঝে ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান সামগ্রী ডাকাতি করতেন। একটি বাসায় ডাকাতির আগে দীর্ঘদিন ধরে বাসার লোকজনের গতিবিধির ওপর লক্ষ রাখা ছিল তার কাজ। বেশ কিছুদিন আগে টঙ্গীতে একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ভিডিও ফুটেজে কয়েকজনের মধ্যে দুলালকে দেখা যায়।

রাসেল, জাকির এই চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা অসংখ্যবার চুরি-ডাকাতিতে অংশ নেন। দুলালের স্ত্রী কোকিলা এবং দুলালের মা হাজেরাকেও আটক করা হয়েছে। কারণ তারা ডাকাতিকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ডাকাতি করা মালামাল নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতেন। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে এবং আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান সারোয়ার বিন কাশেম।

আরও পড়ুন: খেলাপি ধরতে ব্যাংক আইন সংশোধন হবে: অর্থমন্ত্রী