হোম আন্তর্জাতিক মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা জারির হুমকি

মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা জারির হুমকি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 11:48 am
170
0
Tramp4

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: জরুরি অবস্থা ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার টেক্সাসে মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত পরিদর্শনকালে তিনি এ হুমকি দেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার জন্য অর্থ বরাদ্দে অনুমোদন দেয়া নিয়ে প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে চলমান বিতর্কের জের ধরে এ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। খবর এএফপি।

মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটরদের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধের জের ধরে রেকর্ড ২১ দিন ধরে অচল হয়ে রয়েছে দেশটির সরকার ব্যবস্থার একাংশ। এরই মধ্যে দেয়াল তোলায় অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সুবিধা করতে না পেরে এ হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

Spellbit Limited

ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারণার অন্যতম মূল ইস্যু মেক্সিকো সীমান্তের দেয়াল। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন সামরিক প্রকল্প থেকে বরাদ্দ তুলে নিয়ে তা দেয়াল নির্মাণের কাজে ব্যয় করতে পারবেন তিনি। তবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে ট্রাম্পের প্রতিপক্ষরাও যে হাল ছেড়ে দেবেন, বিষয়টি এমন নয়। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে নিশ্চিতভাবেই তারা আদালতের মাধ্যমে এ ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করবেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প এ ধরনের ঘোষণা দিলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে আদালতে নিশ্চিতভাবেই এটিকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। অর্থাৎ এ ঘোষণার পরও দেয়াল নির্মাণের কাজটি থমকে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

সেক্ষেত্রেও দেয়াল তোলা নিয়ে ট্রাম্প যথাসাধ্য করেছেন বলে রাজনৈতিক অজুহাত দাঁড় করানোর সুযোগ পেয়ে যাবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমনকি এ মুহূর্তে সরকার ব্যবস্থার অচল হয়ে পড়া অংশটিকে আবার চালু করে নিজেকে বিজয়ী বলেও দাবি করা তার পক্ষে অসম্ভব কিছুই নয়।

মার্কিন সরকার ব্যবস্থার একাংশের এ বিব্রতকর অচলাবস্থার ২২ দিন পূর্ণ হচ্ছে আজ। এ অচলাবস্থার কারণে গতকালই প্রথমবারের মতো বেতন-ভাতা তুলতে ব্যর্থ হয়েছে আট লাখ ফেডারেল কর্মী। দেশটির রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এ পরিস্থিতি দেখা দেয়ার পর গতকালই প্রথম এ ধরনের ঘটনা ঘটল।

স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমায় ট্রাম্প এ সময় দাবি করেন, শুধু মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী সহিংস অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘তারা (অভিবাসীরা) সেখানেই যায়, যেখানে কোনো নিরাপত্তা নেই। এবং কারো পক্ষে তখন মেক্সিকো আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফারাক খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। তারা নারীদের বেঁধে রাখে এবং তাদের মুখে টেপ আটকে দেয়, ইলেকট্রিক্যাল টেপ।’

ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমরা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধক দাঁড় করাতে পারি, শক্তিশালী প্রতিবন্ধক, সেটা হোক ইস্পাত বা কংক্রিটের; আমরা এসব বন্ধ করতে পারব।’

মেক্সিকো সীমান্তে এ দেয়াল তুলতে ট্রাম্পের ৫৭০ কোটি ডলারের তহবিল প্রয়োজন। যদিও কংগ্রেসে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা তার হাতে এ অর্থ তুলে দিতে রাজি নন। তাদের বক্তব্য হলো, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কোনো ধরনের মারাত্মক অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। শুধু নিজের উগ্র ডানপন্থী সমর্থকদের খুশি করতেই এ প্রকল্পের পক্ষে কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অবৈধ অভিবাসীরা মারাত্মক সব অপরাধ ঘটিয়ে চলছেন। অন্যদিকে গ্রহণযোগ্য কিছু সমীক্ষার ফলাফল বলছে, অবৈধ অভিবাসীদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারীরাই অপরাধমূলক কার্যক্রম বেশি ঘটাচ্ছেন।

মূলত বিতর্কিত এ দেয়ালের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থায়ন বিলে সই করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্বীকৃতির কারণেই দেশটির সরকার ব্যবস্থার একাংশ এখন অচল হয়ে রয়েছে। এতে দেশটির এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার, এফবিআই ও কোস্টগার্ড সদস্যরাসহ কয়েক লাখ ফেডারেল কর্মী এখন কার্যত বিনা বেতনেই কাজ করে যাচ্ছেন।

চলমান পরিস্থিতিতে খোদ রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে দোদুল্যমান মনোভাব দেখা দিয়েছে। কারণ এ অচলাবস্থার কারণে তারা নিজেরাও নিজ নিজ এলাকায় ঝামেলার সম্মুখীন হচ্ছেন।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের দরকষাকষির ক্ষমতার কথা এত দিন সদম্ভে ঘোষণা করে এলেও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সুবিধা করে উঠতে পারছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ডেমোক্র্যাটদলীয় নেতাদের হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন। পরবর্তীতে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘পুরোটাই সময়ের অপচয়।’

অন্যদিকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট চাক শুমার সাংবাদিকদের জানান, সেদিনের বৈঠকে ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে টেবিল চাপড়ে উঠে পড়েন, তারপর বেরিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আবারো আমরা দেখলাম, নিজের কথামতো কাজ হচ্ছে না দেখে ধৈর্য হারিয়ে বদমেজাজ দেখিয়ে গেলেন তিনি (ট্রাম্প)।’ যদিও পরদিনই এ কথা অস্বীকার করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মোটেও টেবিল চাপড়াইনি, এটা ডাহা মিথ্যা কথা। আমি ধৈর্য হারিয়ে বদমেজাজও দেখাইনি।’

আরও পড়ুন: ‘ভারসাম্য’ আনতে তেলের রফতানি কমাবে সৌদি আরব