হোম আন্তর্জাতিক ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে মুক্তি মিলেছে সৌদি নারীর

ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে মুক্তি মিলেছে সৌদি নারীর

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 3:05 pm
417
0
সৌদি

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: অবশেষে মুক্তি মিলেছে ব্যাংককের বিমানবন্দরে আটকে থাকা সৌদি নারীর। থাইল্যান্ডের অভিবাসন পুলিশ জানিয়েছে, রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান নামের ১৮ বছর বয়সী ওই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা।

গতকাল সোমবার বিকালে থাই অভিবাসন পুলিশের প্রধান সুরাচাতা হাকপার্ন নিশ্চিত করেছে যে, তিনি থাইল্যান্ডে থাকতে পারবেন এবং ‘ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে বিমানবন্দর ছেড়ে গেছেন’। এর আগে তিনি বলেছেন, ‘তার জন্য যেটাই ভালো’ সেটাই করভে থাইল্যান্ড। তিনি এখন সার্বভৌম থাইল্যান্ডে রয়েছেন, সুতরাং অন্য কেউ বা অন্য কোন দূতাবাস তাকে কোথাও যেতে বাধ্য করতে পারবে না।

Spellbit Limited

আজ মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের এ অবস্থানের বিষয়ে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তিনি অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে ব্যাংককের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা চেয়েছিলেন, তাকে কুয়েতে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠাতে। কিন্তু এই তরুণী দাবি করছেন সেখানে পাঠালে পরিবার তাকে হত্যা করবে।

সোমবার কুয়েতগামী এক ফ্লাইটে উঠতে অস্বীকৃতি জানান ১৮ বছর বয়সী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান। বিমানবন্দরের একটি হোটেল কক্ষে তিনি নিজেকে আটকে রাখেন।

তিনি রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেন, “কুয়েতে আমার ভাইয়েরা, আমার পরিবার এবং সৌদি দূতাবাস আমার অপেক্ষায় বসে আছে। তারা আমাকে মেরে ফেলবে। আমার জীবন এখন বিপন্ন। আমার পরিবার একেবারে সামান্য ঘটনার জন্য পর্যন্ত আমাকে হত্যার হুমকি দেয়।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার বিষয়টি শরণার্থী সংস্থা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি গভীরভাবে নজরদারি করছে। মিজ মোহাম্মদ আল-কুনানের অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বলেও তারা মন্তব্য করেছে।

থাইল্যান্ডের আইনজীবীরা ব্যাংককের ক্রিমিনাল কোর্টে একটি আবেদন করেছেন রাহাফের পক্ষে যেন তাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে ফেরত পাঠানো না হয়। ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে বিবিসির জোনাথান হেড জানান, রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান ভীতসন্ত্রস্ত্র এবং বিভ্রান্ত।

যেভাবে ঘটনার শুরু
রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান তাঁর পরিবারের সঙ্গে কুয়েতে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। দুদিন আগে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। তিনি ব্যাংকক হয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

কিন্তু রোববার ব্যাংককে নামার পরই নাকি সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে একজন সৌদি কূটনীতিক এসে তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করেন। রাহাফ দাবি করছেন, তার পাসপোর্টে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা রয়েছে এবং তিনি কখনোই থাইল্যান্ডে থাকতে চাননি।

অন্যদিকে ব্যাংককের সৌদি দূতাবাস দাবি করছে, রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনানের কোন রিটার্ন টিকেট নেই, সেজন্যেই তাকে আটকে রাখা হয়েছে। আর যেহেতু তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য কুয়েতে থাকে, তাই তাকে সেখানেই পাঠানো হচ্ছে।

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিল রবার্টসন বিবিসিকে জানিয়েছেন, থাই সরকার আসলে এখন একটা কাহিনী ফাঁদার চেষ্টা করছে। তারা বলছে, রাহাফ একটি ভিসার আবেদন করার চেষ্টা করেছিল, সেটি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

তিনি বলেন, থাই কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবের সঙ্গে সহযোগিতা করছে, সে কারণেই বিমানটি ব্যাংককে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই সৌদি কর্মকর্তারা রাহাফের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

যেভাবে ঘটনা জানাজানি হলো
রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ঘটনার ব্যাপারে পোস্ট দিয়ে সবার নজর কাড়েন। তিনি তার এক বন্ধুকে নিজের টুইটার একাউন্ট ব্যবহার করতে দেন।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান বলেন, “আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার এই ঘটনা এবং ছবি শেয়ার করি। এ কারণে আমার বাবা আমার ওপর খুবই ক্ষিপ্ত। আমি আমার নিজের দেশে পড়াশোনা এবং কাজ করতে পারি না। আমি স্বাধীনতা চাই, আমি আমার মতো করে পড়াশোনা করতে চাই, কাজ করতে চাই।”

সৌদি আরবে নারীকে ‘পুরুষ অভিভাবকত্ব আইনের’ অধীনে চলতে হয়। এর মানে হচ্ছে তাদের যে কোন কিছু করতে একজন পুরুষ আত্মীয়ের অনুমতি নিতে হয়। চাকুরি, ভ্রমণ, বিয়ে থেকে শুরু করে একটা ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পর্যন্ত এই অনুমতি লাগে।

রাহাফ মোহাম্মদ আল কুনান-টুইটারে লিখেছেন যে তিনি তার প্রকৃত নাম এবং বিস্তারিত তথ্য এখন প্রকাশ করছেন, কারণ তার আর হারানোর কিছু নেই। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছেন।

কেন তার নিরাপত্তা নিয়ে শংকা
মিস মোহাম্মদ আল-কুনান বিবিসিকে বলেছেন, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছেন। তিনি আশংকা করছেন, তার পরিবার তাকে হত্যা করতে পারে।

থাই পুলিশের মেজর জেনারেল সুরাচাতে হাকপার্ন বিবিসিকে বলেন, মিস মোহাম্মদ আল-কুনান আসলে তাকে বিয়ে দেয়ার যে চেষ্টা চলছিল, সেখান থেকে পালিয়েছেন। তিনি এটিকে একটি ‘পারিবারিক ব্যাপার’ বলে বর্ণনা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের এপ্রিলে আরেক সৌদি নারীকে নিয়ে একই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল। দিনা আলি লাসলুম নামের সেই নারী কুয়েত হতে ম্যানিলা হয়ে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাকে ম্যানিলা বিমানবন্দর হতেই তার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়। সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পর তার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যায়নি।সূত্র-বিবিসি।

আরও পড়ুন: 
বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ
ইসলামকে ‘সমাজতন্ত্রের’ সঙ্গে মেলাতে চীনের নতুন আইন