হোম কর্পোরেট সুশাসন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচন নিয়ে দু’টি কথা

দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচন নিয়ে দু’টি কথা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 1:41 pm
309
0

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। এদিক থেকে নির্বাচনটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু এই ইতিহাস কেমন হবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচনের ধরণ ও গ্রহনযোগ্যতার ওপর। তফসিল ঘোষণা, প্রার্থীতা বাছাই, মনোনয়ন চূড়ান্ত করা পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলকে যেটুকু নির্ভার মনে হয়েছে, ততটা মনে হয়নি বিরোধী জোট তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেলায়।

ছোট ছোট সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে বিরোধী জোটের নির্বাচনী পোস্টার না থাকায় অনেকের মনে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছিল। আর সে শঙ্কাটি ছিল, আদৌ সুষ্ঠ নির্বাচন হবে তো? ঐক্য ফ্রন্টের একটা দাবি ছিল নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন। নির্বাচন কমিশন আজ থেকে (২৪ ডিসেম্বর) সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সেনা মোতায়েনের ফলে জনমনে এক ধরনের স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন করে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করতে চান। তাঁর সেই সুন্দর ইতিহাস সৃষ্টিতে সহযোগিতা করা দলের প্রার্থী এবং তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারের জনকল্যাণমূলক উন্নয়নের বিষয়টি জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে অবহিত করতে হবে। সহিংস হওয়া যাবে না। অতি উৎসাহী হয়ে এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে করে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতিহাস প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিশ্বদরবারে যে মর্যাদা সৃষ্টি হয়েছে তা যেন কোনভাবেই ম্লান হয়ে না যায়।

Spellbit Limited

দেশজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনকে দেশবাসী স্বাগত জানিয়েছেন। স্বস্তি প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে বিরোধী জোটের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে এক ধরনের আশা ব্যাঞ্জক মনোভাব। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, সেনাবাহিনী শুধুমাত্র দেশের জনগণের শান্তি রক্ষায় কাজ করবে। আর তাঁদের অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে অংশগ্রহণকারী দল ও জোটের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীকে। কারণ, দলীয় নেতা-কর্মী যাতে সংঘাতে না জড়ায় সে ব্যাপারে কড়া বার্তা দলের হাই কমান্ড থেকে দিতে হবে। যাতে করে কোনভাবেই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়। বিএনপি যে লক্ষ্য নিয়ে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের সে লক্ষ্য অর্জন করতে হবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাদেরকে ভোটারের মন জয় করতে হবে।

দেশের প্রতিটি পাড়া, গ্রাম, মহল্লায় রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসীরা। রয়েছে বিভিন্ন দলের অঙ্গসংগঠনের কমিটি। তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে, দলের পক্ষে নির্বাচন করবে-এটাই স্বাভাবিক। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, রাজনীতির নামে এমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো উচিত হবে না যাতে করে সামাজিক বন্ধন বিনষ্ট না হয়। সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে পাড়া-প্রতিবেশির মাঝে যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা রাজনীতির নামে ছিন্ন হলে যে ক্ষতি হয়, তার কুফল সবাইকে বহন করতে হয়।

জনগণ যাতে করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে ব্যাপারে দলীয় নেতা-কর্মীদের সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশের মূল মালিক এদেশের জনগণ। তাঁদের ভোটের মাধ্যমেই গঠিত হবে সরকার। কোন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন হলে তা যেমন সুখকর হয় না, তেমনি সহিংসতার মাধ্যমে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে চাইলে তার দীর্ঘমেয়াদী কুফল সবাইকে ভোগ করতে হবে।

আরো পড়ুন: শঙ্কায় ডেসটিনি’র এমডি, প্রয়োজন তার জামিন বা প্যারোলে মুক্তি