হোম কর্পোরেট সংবাদ “বাংলাদেশ ট্রেড এবং ট্যারিফ কমিশন” শীর্ষক আইসিএসবি’র “সিপিডি” সেমিনার অনুষ্ঠিত

    “বাংলাদেশ ট্রেড এবং ট্যারিফ কমিশন” শীর্ষক আইসিএসবি’র “সিপিডি” সেমিনার অনুষ্ঠিত

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 8:00 pm
    249
    0

    নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১৫ ডিসেম্বর, শনিবার, বিকাল ৩টায় ঢাকা ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টার-এ ইনস্টিটিউট অব চাটার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) এর প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সাব কমিটির উদ্যোগে “বাংলাদেশ ট্রেড ট্যারিফ কমিশন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর ভূমিকা” শীর্ষক এক সিপিডি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সচিব এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ জহিরউদ্দিন আহমেদ এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান। এ সময় তিনি “ বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর ভূমিকা” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

    Spellbit Limited

    মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন আইসিএসবি’র সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ট্রান্স ওয়াল্ড রিসোর্স ইনকর্পোরেটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ড. ফিরোজ ইকবাল ফারুকী এফসিএস।

    সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি, আইসিএসবি’র প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান এবং আইসিএসবি’র কাউন্সিল মেম্বার ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ এফসিএস। এ সময় তিনি বলেন, বিটিটিসি’র কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে করছে। ট্যারিফ কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কিত জ্ঞান আইসিএসবি সদস্যদের দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উৎসাহিত করবে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশকে এসডিজি অর্জনে সহায়তা করবে। এছাড়া বাংলাদেশ তার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য বিশ্বব্যাপী উচ্চস্থান অধিকার করেছে।

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় হয়েছে ১৭২৫ মার্কিন ডলার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছর দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকার ইতোমধ্যে ১০টি মেগা প্রকল্প ও অন্যান্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ সব প্রকল্প বাস্তবায়নের পর শিল্পায়ন ও উন্নয়ন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ জহিরউদ্দিন আহমেদ এনডিসি বলেন, সরকারের শিল্পনীতি বাস্তবায়নে কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। শিল্পনীতির অধীনে সরকারের কৌশলসমূহের মধ্যে রয়েছে শিল্পবাণিজ্য সংস্থার সনদের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশি শিল্পের সংরক্ষণ ও যুক্তিসঙ্গতকরণ এবং শুল্কহার যৌক্তিকীকরণ ও যথাযথ রাজস্ব সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে শিল্প বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান।

    তিনি বলেন, ডাম্পিং এবং ভূর্তকি দেওয়া পণ্য আমদানির অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের দায়িত্বও কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত। যদি উৎপাদন খরচের কম মূল্যে (ডাম্পিং) এবং ভূর্তুকি দেওয়া পণ্য আমদানি করা হয় তার প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার কমিশনের রয়েছে। তাছাড়া হঠাৎ অতিরিক্ত আমদানির বিরুদ্ধেও রক্ষাকবচমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। এছাড়া কমিশন প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা করে এবং শুল্ক হার যুক্তিসঙ্গতকরণ, প্রচলিত আমদানি ধারার উদারীকরণ ও দেশিয় উৎপাদন ও রপ্তানি ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে উৎসাহ কাঠামো সম্প্রসারণের জন্য নীতি প্রণয়ন করে।

    তিনি আরো বলেন, একটি চলমান দায়িত্ব হিসেবে কমিশন আমদানিকৃত উপকরণ এবং মূলধনি দ্রব্যের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক হার পুণ:নিরীক্ষণ করে। কমিশন সরকারের মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি বাস্তবসম্মত ও গতিশীল শুল্ক কাঠামো তৈরির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিকল্পনা মন্তণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কার্যকরি সমন্বয় সাধন করে থাকে।

    এ সময় তিনি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাথে আইসিএসবি’র একটি সমঝোতা চুক্তি করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর আইসিএসবি’র সদস্যরা ট্যারিফ কমিশনে পেশাগত কাজের সুযোগ পাবেন। এছাড়া ট্যারিফ কমিশনও প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রয়োজনে আইসিএসবি তথা এর সদস্যদের সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে।

    সেমিনারে অনেক পেশজীবী, চার্টার্ড সেক্রেটারি, বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন।

    আরো পড়ুন: আইসিএমএবি‘র বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ পেলো ৩২ প্রতিষ্ঠান