হোম আর্কাইভ শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষিকা কারাগারে

শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষিকা কারাগারে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 5:34 pm
92
0

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বেইলি রোড শাখা ক্যাম্পাসের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ৬ দফা দাবিতে চালিয়ে যাওয়া আন্দোলন স্থগিত করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা গভর্নিং বডির সঙ্গে বৈঠকের পর এমন ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে গত বুধবার উত্তরা থেকে গ্রেফতার হওয়া অরিত্রীর শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আনুশকা রায় জানায়, ‘আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে ছয় দফার মধ্যে ১ ও ৫ দফা তদন্তের বিষয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকার সে বিষয়ে সময় চেয়েছে। এ জন্য সময় দিতে হবে। তবে ২, ৩, ৪ ও ৬ দফা স্কুল কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে।’ আনুশকা জানায়, ‘আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। শুক্রবার (আজ) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় আমরা অংশগ্রহণ করব এবং ক্লাসে ফিরে যাব।’

Spellbit Limited

এই শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমাদের কোনো নির্দোষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যাতে এ ঘটনায় হেনস্থা না হয়, আমরা সেটা চাই। ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দোষীরা যাতে বিচারের মুখোমুখি হয়। বুধবার ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি আদায়ের বিষয়ে শিক্ষার্থী আনুশকা ও অধরা বলে, ‘আমরা আমাদের ছয় দফা দাবি লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়ে (শিক্ষা) দিয়েছি।’ এদিকে অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার। গতকাল দুপুরে স্কুলের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি, ক্ষমা চাচ্ছি।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৬টি দাবির মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও ছিল। শিক্ষার্থীদের অপর দাবি গভর্নিং বডির সব সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ স্বার্থে যদি আমার পদত্যাগ করতে হয় তাহলে অবশ্যই করব।

কারাগারে অরিত্রীর শ্রেণি শিক্ষিকা : ভিকারুননিসার শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় তাকে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম।

আবেদনে তিনি আরো বলেন, শিক্ষিকা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে সুষ্ঠু তদন্তে বিঘœ সৃষ্টি করতে পারে। অপরদিকে শিক্ষিকার আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর (অরিত্রী) অভিভাবককে ডাকতে বলায় উনি ডেকেছেন। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না। তবে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হেমায়েত হোসেন শুনানিতে বলেন, তিনি শিক্ষিকা নামের কলঙ্ক। তার জামিন নামঞ্জুর করা হোক। তবে শুনানিতে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক বাধে। এ নিয়ে আদালতের ভেতর হট্টগোল হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাইদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘আমার কাজ হলো কোনো মেয়ে যদি ঝামেলা করে তাহলে তার বাবা-মাকে নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে দাঁড় করানো। এ ক্ষেত্রে মোবাইল পাওয়ায় আমি তাই করেছিলাম। এ ছাড়া আমার কোনো দায় নেই। অরিত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। অধ্যক্ষ আমাকে যা বলেছেন আমি তাই করেছি।’

গত ৩ ডিসেম্বর দুপুরে শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রী। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ভিকারুননিসার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। ঘটনার পরদিন রাত ১০টায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় পল্টন থানায় মামলা করেন অরিত্রীর বাবা।

অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর অভিযোগে জানান, গত ২ নভেম্বর পরীক্ষা চলাকালে অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান শিক্ষক। অরিত্রী মোবাইলে নকল করেছে, এমন অভিযোগে অরিত্রীকে ৩ ডিসেম্বর তার মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ওইদিন স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে মেয়ের টিসি (স্কুলের ছাড়পত্র) নিয়ে যেতে বলেন। পরে অরিত্রীর মা-বাবা অধ্যক্ষের কাছে গেলে তিনিও একই আচরণ করেন উল্লেখ করে দিলীপ অধিকারী অভিযোগ করেছেন, ওই আচরণের কারণে অরিত্রী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

এদিকে, অরিত্রীর আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার দিন থেকেই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে স্কুলটির ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস পেলে আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাস পরীক্ষায় ফেরে শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
অরিত্রীর আত্মহত্যার মামলায় শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা গ্রেফতার