হোম আর্কাইভ গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনা এড়াতে জ্বালানি বিভাগের ১৩ দফা নির্দেশনা

গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনা এড়াতে জ্বালানি বিভাগের ১৩ দফা নির্দেশনা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 4:41 pm
149
0

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়কের আশপাশে এবং বাসাবাড়িতে গ্যাস পাইপলাইন ছিদ্র ও চুলার সংযোগ থেকে বের হওয়া গ্যাসে প্রায়ই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার থেকেও ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারাতে হচ্ছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষকে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসতে হচ্ছে অনেককে। আবার কারো কারো পুরো পরিবার চলে যাচ্ছে না ফেরার দেশে। দু’একজন আবার দগ্ধ হয়ে দুর্বিষহ জীবন নিয়ে বেঁচে থাকে। এ অবস্থায় বাসা বাড়িতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
এর আগে গ্যাস সংযোগের পাইপ ছিদ্র হয়ে ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয় থাকায় গত ৩ ডিসেম্বর রুল জারি করেছে আদালত। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জ্বালানি বিভাগ থেকে এ নির্দেশনা এলো।
জ্বালানি বিভাগের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বাসা বাড়িতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের সময় অসতর্কতা বা সিলিন্ডারের ব্যবহার পদ্ধতি সঠিক না হওয়ার কারণে এলপিজি সিলিন্ডার হতে গ্যাস নিঃসরণ হয়ে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাে র ঘটনা ঘটছে। এ দুর্ঘটনা এড়াতে এসব নির্দেশনা অনুসরণ জরুরি। জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার জ্বালানি বিভাগের এক আদেশে ১৩ দফা নির্দেশনাকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়।
এর মধ্যে ‘ক’ গ্রুপের নির্দেশনাগুলো হলো- সিলিন্ডার আগুনে বা অন্যভাবে গরম হলে তরল এলপিজি দ্রুত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে অস্বাভাবিক চাপ বৃদ্ধির ফলে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হতে পারে; সিলিন্ডার কোনভাবেই চুলার/আগুনের পাশে রাখা যাবে না, এতে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে; অতিরিক্ত গ্যাস বের করার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারে তাপ দেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে ‘খ’ গ্রুপের নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- রান্না শেষে চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের রেগুলেটরের সুইচ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে; গ্যাসের গন্ধ পেলে ম্যাচের কাঠি জ্বালানো যাবে না, ইলেকট্রিক সুইচ এবং মোবাইল ফোন অন বা অফ করতে হবে; ঘরে গ্যাসের গন্ধ পেলে দ্রুত দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে এবং এলপিজি সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ রাখতে হবে; রান্না শুরু করার আধাঘণ্টা আগে রান্না ঘরের দরজা জানালা খুলে দিতে হবে; এতে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
এর বাইরে গ্রুপ ‘গ’ এর নির্দেশনাগুলো হলো- এলপিজি সিলিন্ডার খাড়াভাবে রাখতে হবে, কখনই উপুড় বা কাত করে রাখা যাবে না; চুলা সিলিন্ডার থেকে নিচুতে রাখা যাবে না, কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি উপরে রাখতে হবে; চুলা হতে যথেষ্ট দূরে বায়ু চলাচল করে এমন স্থানে এলপিজি সিলিন্ডার রাখতে হবে; রান্না ঘরের উপরে ও নিচে ভেন্টিলেটর রাখতে হবে; সিলিন্ডারের ভাল্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেগুলেটর ব্যবহার করতে হবে।
নির্দেশনা আরও বলা হয়, এ ছাড়াও যে কোনো পরামর্শের জন্য চিপ ইন্সপেক্টর/ইন্সপেক্টর, বিস্ফোরক পরিদফতর, সেগুনবাগিচা, (১২ তলা কমিশনার বিল্ডিং ক্যাম্পাস, ফোন-৯৩৪৫২৫৮) ঢাকা-১০০০-এর সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি যাত্রাবাড়ীতে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লিকেজ হওয়া গ্যাসে অগ্নিকা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এক শিশুসহ দুজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছে আরো পাঁচজন। তাদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের। এর আগে গত ২ নভেম্বর গ্যাসের আগুনে আশুলিয়ায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। তবে গ্যাসের আগুনের কারণে এমন দুর্ঘটনার দায় নিচ্ছে না কেউ। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাই বয়ে বেড়াচ্ছে যন্ত্রণাকাতর জীবনের দায়ভার। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে গ্যাস দুর্ঘটনায় ১০৩টি অগ্নিকা ঘটেছে। এর মধ্যে গ্যাসলাইন লিকেজে ৫৫টি এবং এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে ৪৮টি।

আরও পড়ুন: পাম অয়েল রফতানিতে শুল্কছাড় ইন্দোনেশিয়ার

 

Spellbit Limited