হোম অর্থ-বাণিজ্য খেলাপি ঋণ বেড়েছে আরো ১০ হাজার কোটি টাকা

খেলাপি ঋণ বেড়েছে আরো ১০ হাজার কোটি টাকা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 4:45 pm
85
0

কর্পোরেট সংবাদ ডেক্স: ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ নামক বিষফোঁড়া দিনের পর দিন আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপ কোনো কাজেই আসছে না। ভেস্তে গেছে সব উদ্যোগ। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রীভূত না রেখে কিছুটা বিকেন্দ্রীভূত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের বি আইবিএম’র এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শাখা পর্যায়েও ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ দিলে খেলাপির ঝুঁকি কমে আসতে পারে। তবে এতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ যেন অনিয়মে না জড়াতে পারে সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে ৯৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর-এ আগের প্রান্তিকের তুলনায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৯ হাজার কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী, তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খেলাপি ঋণের তালিকায় সবার থেকে এগিয়ে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। তিন মাসে ঋণ বিতরণ করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। আর খেলাপি হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এর হার মোট ঋণের ২৩ শতাংশ। সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকেও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যহত রয়েছে। উল্লেখিত তিন মাসে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। মোট ঋণের ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ খেলাপি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে তিন মাসে বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। আর খেলাপি হয়েছে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ৭ ভাগ। শুধু তাই নয়, বিশেষায়িত দুই ব্যাংক ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। তার ৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে, যা বিতরণকৃত ঋণের ২১ ভাগ।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের বি আইবিএম’র এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতের কেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার কারণে প্রধান কার্যালয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। যা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বাড়ায়। শাখা পর্যায়ে ক্ষমতা কিছুটা বাড়িয়ে ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ দিলে খেলাপির ঝুঁকি কমে আসবে। কিন্তু সীমাহীন ক্ষমতা দিলে এর অপব্যবহার হতে পারে। তবে কেন্দ্রীকরণ এবং বিকেন্দ্রীকরণের চেয়ে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি কমাতে এবং মুনাফা অর্জনে সুশাসন অতি জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রিফর্মস অ্যাডভাইজার এস কে সুর চৌধুরী বলেন, সেন্ট্রালাইজড এবং ডিসেন্ট্রালাইজড উভয় পদ্ধতির একটি যোগসূত্র রয়েছে। বাংলাদেশে যেটি ব্যবহৃত হয়, সেটি হলো, বড় ধরনের ঋণ, সম্পদ দায়বদ্ধতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সেন্ট্রালাইজড (হেড অফিস) হয়। কিন্তু কিছু কিছু সেবার মান উন্নয়নে বিকেন্দ্রীয়করণ প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ প্রক্রিয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমান কমবে।
এ বিষয়ে সাবেক গভর্নর ড. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের বড়ই প্রয়োজন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা ছাড়া কোনোভাবেই খেলাপি ঋণসহ বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। সুতরাং ওই দিকটাতেই বেশি জোড় দিতে হবে।

আরও পড়ুন: পাম অয়েল রফতানিতে শুল্কছাড় ইন্দোনেশিয়ার

 

Spellbit Limited