হোম আর্কাইভ সন্তান প্রতিপালনে ইসলামি নীতিমালা

সন্তান প্রতিপালনে ইসলামি নীতিমালা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 2:00 pm
41
0
সন্তান প্রতিপালন

সম্প্রতি যে কয়েকটি ঘটনা আমাদের হৃদয়ে রক্ত ঝরিয়েছে তার অন্যতম একটি ঘটনা হলো রাজধানীর বাংলামোটরে পিতার হাতে সন্তান হত্যা। পিতা হলো সন্তানের জন্য আশ্রয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। মমতার কেন্দ্র। ভালোবাসা আশ্রয়। সেই পিতা যখন নেশার কবলে পড়ে মমতার বদলে মৃত্যুদূত হিসেবে দাঁড়ায় তখন সে সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে এ দায় আমরা এড়াতে পারি না।

কেন এবং কী কারণে পিতার হাতে মমতার বদলে হিংস্রতা সেটি খুঁজে বের করতে হবে। এটি সমাজের সবার দায়িত্ব। এটি গেল একদিক। আরেক দিক হলো সন্তানের সুশিক্ষা। আজ ওপরের ঘটনাটি যেমন আমাদের সমাজের অন্ধকার দিকের কথা প্রকাশ করছে তেমনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত পুত্রের হাতে পিতার মৃত্যুর সংবাদও আমাদের লজ্জিত করছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সমাজের এ অসঙ্গতিগুলোকে।

Spellbit Limited

প্রতিটি পরিবারকে এ কথা মনে রাখতে হবে, সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে পিতামাতার প্রতি আমানত। এই আমানতকে যথাযথভাবে রক্ষা করতে হবে। যদি এই আমানতে অভিভাবকগণ কোনোরূপ কার্পণ্য করেন বা গাফিলতি করেন তবে এর জন্য কাল কেয়ামতের দিনে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এটি সবার বেলায় প্রযোজ্য।

জন্মের পর সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুশিক্ষা। শুধু শিক্ষা সন্তানকে আলোকিত করতে পারে না। এ কথা আজ প্রমাণিত। বরং প্রতিটি সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুশিক্ষার। যে শিক্ষা তাকে মানবিক করবে। দায়বদ্ধ করবে পিতামাতার প্রতি। সমাজের প্রতি। দেশের প্রতি। সমাজের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি। এ জন্য সন্তানকে যখন শিক্ষিত করছি তখন যেন আমি ভেবে দেখি আমার সন্তানের শিক্ষা তার হৃদয়ে মানবতার বিকাশ করছে কিনা। তার হৃদয়ে আদর্শিকতার আলো জ্বালতে পারছে কিনা।

যদি শিক্ষা তার মাঝে পরিবর্তন আনে তবে তো ভালো নয়তো সন্তানের শিক্ষার উন্নয়নে আমাদের আরও ভাবতে হবে। সন্তানের শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে নবিজি (সা) গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, পিতা সন্তানকে যা কিছুই উপহার দিক, সবচেয়ে ভালো উপহার হলো তাকে উত্তম শিক্ষাদান। [মেশকাত]
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। কেবল তিন রকমের আমল রয়েছে, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। ১. সে যদি সদকায়ে জারিয়া করে যায়। ২. সে যদি এমন কোনো জ্ঞান বা বিদ্যা রেখে যায়, যা দ্বারা জনগণ উপকৃত হতে থাকবে, ৩. সে যদি কোনো সৎসন্তান রেখে যায়, যে তার জন্য দোয়া করতে থাকবে।

মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ: নির্বাহী পরিচালক শরিয়াহ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ @ আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ
ইসলামে নারীর বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার
একনজরে আদি পিতা থেকে আখেরী নবীর বংশধারা