হোম স্বাস্থ্য-লাইফস্টাইল বিশ্বে প্রথমবার মৃত নারীর জরায়ু থেকে শিশুর জন্ম

    বিশ্বে প্রথমবার মৃত নারীর জরায়ু থেকে শিশুর জন্ম

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 6:47 pm
    167
    0
    শিশুর জন্ম

    ডেস্ক রির্পোট: একজন মৃত নারীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর সেখানে সফলভাবে একটি মেয়ে শিশুর জন্ম হয়েছে। এর আগে জীবিত নারীদের দান করা জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর শিশুর জন্ম হলেও, মৃত নারীর জরায়ু ব্যবহার করে শিশু জন্মের ঘটনা এই প্রথম। এই সফলতা বন্ধ্যা নারীদের সন্তান জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বলছেন চিকিৎসকরা।

    টানা ১০ ঘণ্টার অপারেশনের পর ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ২০১৬ সালে ওই জরায়ুটি প্রতিস্থাপিত হয়। যার শরীরে সেটি স্থাপন করা হয়েছিল, তার শরীরে জন্ম থেকেই জরায়ু ছিল না।

    Spellbit Limited

    এ পর্যন্ত জীবিত নারীদের শরীর থেকে ৩৯টি জরায়ু প্রতিস্থাপনের খবর পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে মা তাদের কন্যাকে জরায়ু দান করেছেন। এরকম প্রতিস্থাপনের পর ১১টি শিশুর জন্ম হয়েছে।

    তবে কোন মৃত নারীর শরীর থেকে নেয়া জরায়ুতে বাচ্চা জন্মের ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে যতবার চেষ্টা করা হয়েছে, সেটি ব্যর্থ অথবা গর্ভপাত হয়ে গেছে। যার জরায়ু, তিনি ছিলেন মধ্য চল্লিশের একজন নারী, যিনি মস্তিষ্কে রক্তপাতে মারা যান। তার তিনটি সন্তান রয়েছে।

    যে নারীর শরীরে জরায়ুটি স্থাপন করা হয়, তার এমন একটি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, যেখানে যৌনাঙ্গ এবং গর্ভাশয় ঠিকভাবে কাজ করে না। তবে তার ডিম্বাশয় ঠিকঠাক ছিল। চিকিৎসকরা সেখান থেকে ডিম্বাণু নিয়ে সম্ভাব্য পিতার ভ্রূণের সঙ্গে নিষিক্ত করে এবং সেটি হিমায়িত করে রাখে।

    সেই নারীকে এমন ওষুধ দেয়া হয় যা তার শরীরের রোগ ক্ষমতাকে দুর্বল করে ফেলে, যাতে জরায়ু প্রতিস্থাপনে কোন বাধা তৈরি না হয়। এর দেড় মাস পর থেকে তার মাসিক হতে শুরু করে।

    প্রায় সাত মাস পর নিষিক্ত ডিম্বাণুটি তার জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। সবমিলিয়ে স্বাভাবিক গর্ভধারণের পর সিজারিয়ান অপারেশনের পর তিনি আড়াই কেজি ওজনের একটি শিশুর মা হন।

    ড. ডানি ইযেনবার্গ বলছেন, ”জীবিত নারীদের শরীর থেকে জরায়ু প্রতিস্থাপন ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য একটি যুগান্তকারী ব্যাপার, যার ফলে অনেক নারী মা হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু জীবিত দাতাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, এরকম দাতা দুর্লভ।”

    তবে মৃত শরীর থেকে জরায়ু সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করতে পারাটা অত্যন্ত চমৎকার একটা ব্যাপার বলে বলছেন ড. ইয়েনবার্গ। কিন্তু এই সফলতা আরো অনেক বেশি দাতা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, খরচ কমাবে এবং জীবিত দাতাদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি হ্রাস করবে। সূত্র-বিবিসি।

    আরও পড়ুন: 
    একই হেলমেট বা টুপি ব্যবহারে কী ক্ষতি করছেন জানেন?
    রূপচর্চার ৫ ভুলই আপনার ত্বকের ক্ষতি করছে