হোম আর্কাইভ আয়কর জনজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য হতে হবে: শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন

আয়কর জনজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য হতে হবে: শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 12:35 pm
113
0

জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয়করসীমা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেকের আয় দিয়ে এখনো ৪ জনের পরিবার চলছে। বার্ষিক আড়াই লাখ টাকার ওপরে যদি আয়কর প্রদান করা লাগে তা হলে স্বাভাবিকভাবেই তারা নিরুৎসাহী হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে করমুক্ত আয়ের সীমা কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা করা উচিত। আয়কর মেলা নিয়ে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এক দৈনিক পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন। দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সৌজন্যে সাক্ষাতকারটি হুবহু তলে ধরা হল।

প্রশ্ন : আয়কর মেলা নিয়ে প্রত্যাশা কী?
শফিউল: আয়কর মেলা মূলত করদাতাদের উৎসাহী করতে করা হয়। কর অঞ্চলগুলোতে ঝামেলা, আর্থিক লেনদেন, আইনজীবীদের কারসাজি ইত্যাদি রোধেই এই মেলা সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু অনেকে বিশেষ করে নতুন করদাতারা এই মেলা নিয়ে সমস্যার কথা বলছে। মেলায় কিছু কারিগরি দিক ও সেবা প্রদানকারীর জনবল কম বলে তারা মনে করছে।

Spellbit Limited

প্রশ্ন: করমুক্ত আয়ের সীমা কি যথেষ্ট রয়েছে?
শফিউল: বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয়করসীমা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেকের আয় দিয়ে এখনো ৪ জনের পরিবার চলছে। যদি বার্ষিক আড়াই লাখ টাকার ওপরে যদি আয়কর প্রদান করা লাগে তা হলে স্বাভাবিকভাবেই তারা নিরুৎসাহী হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা করমুক্ত আয়ের সীমা কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছিলাম।

প্রশ্ন: আয়করের হার ও সীমা বাড়লে কি আদায় কমত না?
শফিউল: আয়করের হার ও সীমা বৃদ্ধি করলে আদায় আরও বৃদ্ধি পেত। এখন আড়াই লাখ টাকার ওপর আয় হলে তাকে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হচ্ছে। কিন্তু এই হার যদি ৫ শতাংশ করা হয় তা হলে কিন্তু করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আর যদি এই হার ৫০ শতাংশ করে তা হলে করদাতার সংখ্যা একদম কমে যাবে। তেমনি আড়াই লাখের স্থলে ৩ লাখ করলেও করদাতারা কিন্তু উৎসাহীই হবে।

প্রশ্ন: করদাতাদের সামাজিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না কেন?
শফিউল: করদাতাদের হাসপাতাল, বিমানবন্দর, বাস ও লঞ্চের টিকিট ইত্যাদি ছাড়াও সামাজিক অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। এই সুবিধার ব্যবস্থা করা গেলে একজন করদাতার উপযুক্ত সম্মানটা সবাই বুঝতে পারবে।

প্রশ্ন: ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করা হয়েছে?
শফিউল: দেশের রাজস্বের অনেকাংশই ব্যবসায়ীরাই প্রদান করছে। উৎসে কর ০.১ শতাংশ কমানো হয়েছে সম্প্রতি। এ ছাড়া পোশাক খাতে কয়েক ধরনের ভ্যাটও প্রত্যাহার হয়েছে। এই দাবিগুলো আমরা কয়েক বছর ধরে করে আসছি। কেননা এই সুবিধা দিলে দেশে ব্যবসার পরিবেশ তৈরি হবে। তেমনি আমাদের দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না। এই ধরনের সুবিধার ফলে দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ হবে।

আরও পড়ুন: ‘করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠাই কোম্পানি সচিবের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব: মো. জাকির হোসেন