হোম তথ্য-প্রযুক্তি বাংলাদেশ থেকে ফেসবুকের কাছে তথ্য চাওয়ার হার বেড়েছে

    বাংলাদেশ থেকে ফেসবুকের কাছে তথ্য চাওয়ার হার বেড়েছে

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 10:17 am
    83
    0
    ফেসবুক

    নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোট ১৫২টি অনুরোধের মাধ্যমে ২০৫ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা গত বছরের শেষার্ধের তুলনায় বেশি। ২০১৭ সালের শেষার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) মোট ৬০টি অনুরোধের মাধ্যমে ৯৫ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি প্রকাশিত ‘ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট’ শীর্ষক অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    চলতি বছর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুকে তথ্য চেয়ে ১৩৪টি জরুরি এবং ১৮টি আইনি অনুরোধ করা হয়েছিল। এসব অনুরোধের মাধ্যমে যে ২০৫ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে, তার ৫৭ শতাংশের তথ্য সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জরুরি অনুরোধের ক্ষেত্রে ৬১ শতাংশ এবং আইনি অনুরোধের ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশের তথ্য দেয়া হয়েছে। একই সময় ছয়টি অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণের অনুরোধ করা হয়েছিল, সেসব অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের শেষার্ধে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য চেয়ে ৪৩টি জরুরি এবং ১৭টি আইনি প্রক্রিয়ার অনুরোধ ছিল। সে সময় মোট অনুরোধের ৪৭ শতাংশের তথ্য সরবরাহ করেছিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

    Spellbit Limited

    ফেসবুকের সর্বশেষ ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য চেয়ে অনুরোধ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ সরকারকে আগের চেয়ে বেশি তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

    বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ২২০ কোটি ছাড়িয়েছে। বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর মধ্যে স্বচ্ছতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে গ্রাহক তথ্য চেয়ে সরকারি অনুরোধের সংখ্যা প্রকাশ করে আসছে ফেসবুক।

    বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের শেষার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) গ্রাহক তথ্য চেয়ে ফেসবুকে ১২টি অনুরোধের মাধ্যমে ৩১টি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের মোট অনুরোধের ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশের তথ্য সরবরাহ করে ফেসবুক। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সাইট থেকে চারটি কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর নাম বা কনটেন্ট সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

    ২০১৫ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশ সরকার তিনটি অনুরোধের মাধ্যমে মোট তিনটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছিল। এছাড়া ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে পাঁচটি ও শেষার্ধে ১৭টি, ২০১৩ সালের প্রথমার্ধে ১২টি ও শেষার্ধে পাঁচটি অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়। তবে এসব অনুরোধের বিপরীতে কোনো তথ্য দেয়নি ফেসবুক। যদিও ২০১৩ সালের শেষার্ধে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে তিনটি কনটেন্ট সরিয়েছিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

    উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে পরবর্তী ২২ দিন বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ রাখে সরকার। ওই সময় বিদেশী দুই নাগরিক হত্যা ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের যোগাযোগের মাধ্যম ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে সাইটটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। সে সময় ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে একাধিক চিঠি দিয়ে সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সিঙ্গাপুরে ফেসবুকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক করেন তত্কালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। সেখানে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে, বিভিন্ন উপায়ে তারা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। একই বছর বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি অ্যাকাউন্টের তথ্য সরবরাহ করেছিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। সূত্র: বণিক বার্তা।

    আরও পড়ুন: 

    এবার আইফোন এক্সের সাফারি ব্রাউজারে ত্রুটি

    শিশুদের গেম আসক্তি কমাতে টেনসেন্টের উদ্যোগ