আবারো বিশ্বসেরা হলো এনজিও ‘ব্র্যাক’
কর্পোরেট সংবাদ
প্রকাশকালঃ ২০১৭.০১.১০ ১৪:৪৪:১৬

আবারো বিশ্বজুড়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) তালিকায় শীর্ষ স্থান দখলে রেখেছে ব্র্যাক। সেরা ৫০০ এনজিওর তালিকায় ২০১৭ সালেও আগের বছরের মতো ব্র্যাক প্রথম স্থানে রয়েছে বলে গতকাল সোমবার সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

প্রতিবছরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে এনজিওগুলোর এ তালিকা প্রকাশ করে থাকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক গণমাধ্যম এনজিও অ্যাডভাইজর। অলাভজনক খাতে উদ্ভাবন, প্রভাব ও সুশাসন নিয়ে কাজ করে আসা নিরপেক্ষ এ গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে গতকাল ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে প্রভাব, নতুন ধারা প্রবর্তন এবং পরিচালন ব্যবস্থার অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে ব্র্যাক এ সম্মান পেয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে চালু হওয়া ৫০০ এনজিওর এ তালিকায় এবার দ্বিতীয় সেরা এনজিও ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস ও তৃতীয় হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক উদ্যোক্তা সংগঠন দ্য স্কল ফাউন্ডেশন। এছাড়া অক্সফাম রয়েছে সপ্তম স্থানে এবং একাদশ স্থান অর্জন করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন।

এ স্বীকৃতি অর্জনের পর ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ব্র্যাকের এই প্রথম স্থান বজায় রাখা নিঃসন্দেহে মর্যাদার ব্যাপার। বিশ্বজুড়ে আমাদের লক্ষাধিক কর্মী প্রতিদিন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে। দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে করণীয় খুঁজে বের করা এবং তা প্রয়োগ করায় আমরা এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এনজিও অ্যাডভাইজার-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জন ক্রিস্টোফ নথিয়াস বলেন,২০১৭ সালে আবারও ব্র্যাক বিশ্বসেরা হলো তার উদ্ভাবন, প্রভাব এবং পরিচালনা পদ্ধতির অনন্য ভূমিকার জন্য। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী একের পর এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবাদানে ব্র্যাক এখন নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী।

২০১৩ সালে এ তালিকা তৈরি করতো দ্য গ্লোবাল জার্নাল। ওই বছরও ব্র্যাক শীর্ষস্থান লাভ করেছিল। তারপর ২০১৬ সালে এ র‌্যাংকিং দেওয়া শুরু করে এনজিও অ্যাডভাইজার। সংগঠনটি স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চায় দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে। এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জন ক্রিস্টোফ নথিয়াস দ্য গ্লোবাল জার্নাল পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১১টি দেশে দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর ব্র্যাক তার ব্যয়সাশ্রয়ী উন্নয়ন মডেল, অতিদরিদ্রদের উন্নয়নে প্রমাণিত সমাধান কৌশল, দুর্যোগ-পরবর্তী সেবাদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এ এনজিওর সুবিধাভোগী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *