সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ীদের চারদিকে শুধুই অন্ধকার
কর্পোরেট সংবাদ
প্রকাশকালঃ ২০১৭.০১.০৮ ১৮:০৬:২২

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ধসে পড়া গুলশানের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের ভবন সরানোর কাজ চলছে পুরোদমে। তিনটি বুলডোজার দিয়ে মার্কেটের পেছন দিক দিয়ে ইট, বালু, সিমেন্টসহ অন্যান্য আবর্জনা সরানোর কাজ চলছে। শনিবার পর্যন্ত ধসে পড়া মূল ভবনে হাতই দিতে পারেননি কর্মকর্তারা। ফায়ার সার্ভিসকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভবনের ভেতরে পানি দিতে দেখা গেছে। তখনও আগুন জ্বলছিল। ধসে পড়া ভবনসহ সবকিছু সরাতে কমপক্ষে মাসখানেক সময় লাগবে বলে জানান সেখানে কর্মরতরা।

একদিকে চলছে ধসে পড়া ভবন সরানোর কাজ, আরেকদিকে চলছে মাতম। চারদিকে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ভবন সরানোর কাজ দেখছেন আর নীরবে চোখের পানি ফেলছেন। অনেকেই হাউমাউ করে কাঁদছেন। আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে গুলশান থানায় শত শত সাধারণ ডায়েরি হচ্ছে। সাধারণ ডায়েরিতে ক্ষতিপূরণের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে। সরেজমিন এমন চিত্রই চোখে পড়েছে। গত ২ জানুয়ারি রাত দুটোর দিকে গুলশান-১ নম্বরে অবস্থিত ওই মার্কেটে আগুন লাগে। আগুনে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীন সাড়ে তিনতলা কাঁচাবাজার ধসে পড়ে। আগুনে পুড়ে যায় প্রায় চার শ দোকান।

মার্কেটের চারদিকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। এছাড়া মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তারা চারদিকে দাঁড়িয়ে উদ্ধারকাজ দেখছেন আর চোখের জল ফেলছেন। কাউকে কাউকে হাউমাউ করে কাঁদতেও দেখা গেছে।

কাঁচাবাজারের আগুন দ্রুত পাশের পাকা মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ায় পাকা মার্কেটের শ খানেক দোকান পুড়ে গেছে। বাকি ১৩৪টি দোকানের মধ্যে ৫০টি দোকান ছাড়া সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকা মার্কেটের নিচতলার চেয়ে দোতলায় ক্ষতি হয়েছে বেশি। মার্কেটটির নিচতলায় থাকা আপন জুয়েলার্স ছাড়া দোতলায় থাকা সাতটি স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে কিছুই নেই। দোকানের শাটার থেকে শুরু করে সবকিছু গলে গেছে। দোকানের শোকেসে থাকা সব স্বর্ণালঙ্কার গলে ছাই ও পানির সঙ্গে মিশে অন্যত্র চলে গেছে। শুধুমাত্র সিন্দুকের ভেতরে থাকা স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার গলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *