বাঙালিদের কাছে অতিথি যেন ঘরের লক্ষী
কর্পোরেট সংবাদ
প্রকাশকালঃ ২০১৭.০১.০৫ ১৬:৫০:৫৯

অতিথি আপ্যায়ন বাঙ্গালীদের একটি কালচার। বাঙালির আতিথেয়তার জুড়ি মেলা ভার এটি যেন অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। গ্রামে অতিথি এলে গাছ থেকে ডাব পেরে খাওয়ানো যেন রীতি। হাটা মোরগ দাবড়িয়ে ধরে অতিথিকে খাওয়াতে পারলেই যেন মনের তৃপ্তি। অতিথির মনে যেন কোন কারণে কষ্ট না হয় সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখেন সবাই। সর্বোচ্চ রসনাবিলাসে তৃপ্ত করতে আন্তরিক সচেষ্টতা পরিলক্ষিত হয়। অনেকের কাছে অতিথি হল ঘরের লক্ষী।

মানব সভ্যতার যত বিকাশ ঘটছে ততই তৈরী হচ্ছে আতিথেয়তায় নানান জটিলতা। মানুষ এখন অনেক বেশি কর্মমূখী। ব্যস্ততার বেড়াজালে হয়ে পড়ছে অনেকটাই অবরুদ্ধ। আমাদের কোমলমতি বাচ্চাদের পড়ার চাপ এখন আর আগের মত নেই। এখন সারাবছরই বাচ্চাদের পড়া আর পড়া, যেন কোন ফুরসত নেই। চলছে ঘড়ির কাঁটা মেপে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্কুল, কোচিং। ঘরে ফিরতে না ফিরতে গৃহশিক্ষক, স্কুলের পড়া, গৃহশিক্ষক ও কোচিংয়ের পড়া, সব মিলিয়ে বাচ্চারাও হয়ে গেছে খুদে রোবটের মত। তাছাড়া, শহর কিংবা গ্রামে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্রমেই অতি কর্মব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। যে কারণে অতিথি আপ্যায়নের বিষয়টি এখন আর আগের মত স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না। অনেকে আবার ইচ্ছা থাকলেও সঙ্গতির অভাবে ঠিকমত অতিথি আপ্যায়ন করতে লজ্জাবোধ করছেন।

একটা সময় ছিল যখন কাছের আত্মীয় স্বজনেরা বাড়িতে এলে সবাই খুব খুশী হতো। অতিথিকে কি দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে সে বিষয়ে থাকতো নানা প্রস্তুতি। অতিথি খাবার না খেলে কোন খারার খাওয়া যাবে না, ঘুমানোর ক্ষেত্রে অতিথিকে দিতে হবে ঘরে তোলা নক্শি কাঁথা ও চাদর। চারপাশে যেন এক সাজ সাজ রব। শীত মৌসুমে পিঠা পুলির ধুম পড়ে যেত। যতদিন বা যতক্ষণ অতিথি থাকতো ততক্ষণই থাকতো যেন উৎসবের আমেজ। আনন্দ-বেদনামিশ্রিত অশ্রুপাতে বিদায় নিতেন অতিথি। অতিথিপরায়ন বাঙালি সমাজে এদৃশ্য আজ সত্যিই বিরল।

আতিথেয়তার ক্ষেত্রে বেশকিছু আদব-কায়দা রয়েছে তেমনি অতিথিরও কিছু কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা রাখা আবশ্যক। খেয়াল রাখতে হবে, প্রতিটি পরিবারেই একটা নিজস্বতা আছে। সকালে তারা কয়টায় ঘুম থেকে উঠবে, কখন কি নাস্তা করবে, কখন ঘুমাবে, কখন টিভি দেখবে, বাচ্চাদের পরীক্ষা ও পড়ার সময় ইত্যাদি। এছাড়া সে পরিবারের কতজন সদস্য, বেডরুম কয়টি, তাদের পারিবারিক জীবনধারা কেমন, কোন শিক্ষার্থী আছে কি-না, থাকলে বছরের কোন কোন সময় পরীক্ষা থাকবে এসব বিষয় অতিথিকে খেয়াল রাখতে হবে। আরো খেয়াল রাখতে হবে, তার দ্বারা যেন পরিবারের কোন সদস্য অস্বস্তিতে না পড়েন।

জেসমিন আক্তার, এসিএস, লেখিকা সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *