রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে পৌষমেলা শুরু
কর্পোরেট সংবাদ
প্রকাশকালঃ ২০১৭.০১.০৭ ১৪:২৩:৩৮

দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনের পৌষ মেলা।
শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরীর কণ্ঠে শিউলি ফোটা ভোরে-গান দিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে বাংলা একাডেমির নজরুল চত্বরে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মাটির আইলা জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় তিনি ধর্মান্ধ-মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিস্তার ও প্রসার রোধে সাংস্কৃতিক কর্মীদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাঙালি জীবনে পৌষ মেলার প্রভাব রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক সমাজ গঠনে এ আদর্শের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন ও উৎসব সারা দেশে ছড়িয়ে দিলে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুবসমাজের সম্পৃক্ততা বাড়ানো যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, সারাদেশে যখন সাম্প্রদায়িক চেতনা বিস্তৃত হয়েছে, তখন এ মেলাটি লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন করে চেনাবে তরুণদের।তিনি বলেন, ১৯ বছরের ধারাবাহিকতায় এবার ভেন্যু পাল্টেছে। রমনার বটমূল থেকে মেলা চলে এসেছে বাংলা একাডেমি চত্বরে। বরাবরের মতো মেলায় দেশজ পণ্যের সমাহার আর লোকজ সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করা হবে। গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গকে তুলে ধরে নাগরিক পটভূমিতে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।

মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, সংস্কৃতি বাঙালির মেরুদন্ডের মতো,শক্ত এক ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সংস্কৃতি।হাজারো বছরের এ ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আমাদের এর পরিচর্যা করতে হবে।পৌষমেলাকে সাফল্যমন্ডিত করতে সবার সহযোগিতা চান সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে চাই,বাংলাদেশ হবে হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সকলের। বাংলাদেশকে আমরা সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ এক আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র পরিবেশন করে মনে সাধ লয় জাইগো ফিরা আবার গাঁয়ে ও সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য গান দুটি।বহ্নিশিখার শিল্পীরা গেয়ে শোনান আয় ছুটে আয়রে আয় ছুটে আয়রে, গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান…।

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করে ফিরে চল ফিরে চল মাটির টানে, এবার ধান কাটিব মচামচ।একক সংগীত পরিবেশন করেন আবু বকর সিদ্দিক, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, মামুন জাহিদ খান।এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন, পৌষ পিঠা গুঁড়ি কোটা গানের সঙ্গে নৃত্যজন, নাও ছাড়িয়া দে, পাল ওড়াইয়া দে গানের সঙ্গে ভাবনা সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে।আবৃত্তিশিল্পী আহকাম উল্লাহ, শাহাদাৎ হোসেন নিপু,তামান্না তিথির পরিবেশনা অতিথিদের মুগ্ধ করে। দলীয় আবৃত্তি শোনায় মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র।

একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে চলছে দেশীয় পিঠা-পুলির প্রদর্শনীও। বিভিন্ন স্টলে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাটিসাপটা, তালবড়া, বিবিখানা, মেরা, মোরা, ঝিনুক, দুধ চিতই, জামাই পিঠা, বউ পিঠা, ভাপা পিঠা, সিদ্ধপুলি, পাকান, খেঁজুর পিঠা,মালপোয়াসহ নানা স্বাদের পিঠা।আছে পায়েস আর ফিন্নিও।পরিচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নগদের বিনিময়ে এসব পিঠা-পায়েস চেখে দেখারও সুযোগ পাচ্ছেন নানান বয়েসী দর্শকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *