Home কর্পোরেট সংবাদ অবৈধ ভিওআইপির শীর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক

অবৈধ ভিওআইপির শীর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক

Published: 2017.01.08
192
0
SHARE
Tele-Talk
রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের সিমকার্ড অবৈধ আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির একটি প্রতিবেদন নিয়ে সংসদীয় কমিটির লুকোচুরিতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিটিআরসি আরও তিন মাস আগে ওই প্রতিবেদন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযাগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির কাছে দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ ভিওআইপির ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে টেলিটক। এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সিম চিহ্নিত হলেও বন্ধের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির উদাসীনতার প্রমাণ মিলেছে। এমনকি তারা সংসদীয় কমিটির কাছে ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে সত্য গোপনের চেষ্টা করেছে। তবে কমিটি এ প্রতিবেদন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো আলোচনা কিংবা সুপারিশ দিচ্ছে না। অন্যদিকে, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিটিআরসির ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে জবাব চাওয়ার পর টেলিটকের পক্ষে সংসদীয় কমিটির কাছে প্রতিটি অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছে। যেসব সিমকার্ডের নিবন্ধন নিয়ে অভিযোগ ছিল, সেগুলো যথানিয়মে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হওয়ার সন্দেহ থাকা সিমকার্ডগুলোও বন্ধ করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই। অবশ্য বর্তমানে সিলেটে অবস্থানরত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ এ নিয়ে টেলিফোনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে কমিটির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, ‘বিটিআরসির প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে টেলিটকের অবৈধ ভিওআইপির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ সম্পর্কে কমিটির পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ করা হয়নি। কার্যকর কিছু হবে বলেও মনে হয় না।’ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো শুধু কমিটির বিষয় নয়, সিদ্ধান্ত হতে হবে আরও ওপর থেকে।’ বিটিআরসির প্রতিবেদনে অনিবন্ধিত সিম নিষ্ক্রিয় করতে টেলিটকের গড়িমসি, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পর্কিত নিশ্চয়তাপত্র না দেওয়া, সেলফ রেগুলেশন পদ্ধতিতে সন্দেহজনক সিম বন্ধে উদাসীনতা, বিটিআরসি কর্তৃক প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার জরিমানা করা এবং সংসদীয় কমিটির কাছে টেলিটকের মিথ্যা তথ্য দেওয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী অপারেটরদেরই নিজস্ব সিম তদারক করার কথা। কিন্তু টেলিটক তাদের সিমের বিতরণ ব্যবস্থাপনা মজবুত করতে সক্ষম হচ্ছে না। টেলিটকের কাছে গ্রাহকের পরিচিতি বের করতে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে তথ্য চাওয়া হলেও এখনও তা পাওয়া যায়নি। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিম বন্ধ না করায় টেলিটকসহ তিন অপারেটরকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত সময়ে টেলিটককে জরিমানা করা হয়েছে ৬৭ লাখ ৬১ হাজার ২০০ টাকা। একই সময়ে এয়ারটেলকে নয় হাজার ২০০ টাকা, রবিকে চার হাজার ও গ্রামীণফোনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। টেলিটকের সেলফ রেগুলেশন এবং সিমবক্স ডিটেকশন সিস্টেমের আলোকে দেখা যায়, টেলিটকের ডিটেকশন অস্বাভাবিক। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে রবির ৩৮টি সিমবক্সে তিন হাজার ২৮০টি, বাংলালিংকের ১৫৫টি সিমবক্সে দুই হাজার ৬৪টি, এয়ারটেলের ৪৭টি বক্সে দুই হাজার ২৩০টি, গ্রামীণফোনের ২৩টি সিমবক্সে ১১ হাজার ৮৩৪টি ও সিটিসেলের তিনটি সিমবক্সে ৪৫টি সিম শনাক্ত করা হয়। একই সময়ে টেলিটকের ১১ হাজার ৬১৩টি সিমবক্সে ৪২১টি সন্দেহজনক সিম শনাক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করলেও টেলিটক বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পর্কিত নিশ্চয়তাপত্র দেয়নি। গত বছরের ১২ জুন এই ভেরিফিকেশন শেষ হয়। এর পর সংযোগ নিষ্ক্রিয় করার পরিসংখ্যান সংযুক্ত ফরম্যাট অনুযায়ী পূরণ করে একটি ঘোষণাপত্র ১৬ জুনের মধ্যে কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। টেলিটক নির্ধারিত সময়ে জমা না দিয়ে ৬৬ দিন পর ২২ আগস্ট কমিশনে পাঠায়। প্রথম পর্যায়ে ২১ লাখ ৯০ হাজার ৬০১টি সিমকার্ড নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত না হওয়ার বিষয়টি কমিশনের তদন্তে উঠে আসে। ২৮ জুন পর্যন্ত এসব সিমকার্ড চালু থাকে। অবশ্য টেলিটক পরে জানিয়ে দেয়, এসব সিমকার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রথম দিকে টেলিটকের সিমকার্ড বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাচাইয়ের মাধ্যমে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হয়। কারণ, গ্রাহকরা সময়মতো নিবন্ধন করতে আসেননি। পরে গ্রাহকদের নানা ধরনের সুবিধাসহ প্যাকেজ দিয়ে এসব সিমকার্ড নিবন্ধনে আগ্রহী করে তোলা হয়। সেই নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্যও বিটিআরসিকে আরও আগেই দেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে আর কোনো সিমকার্ড অনিবন্ধিত নেই। তিনি আরও জানান, অবৈধ আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানে ব্যবহারের সন্দেহে যেসব সিমকার্ড বিটিআরসির আগে বিটিআরসি শনাক্ত করেছে, তা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করা হয়েছে। এটি চলমান প্রক্রিয়া। যখনই অভিযোগ পাওয়া যায়, তখনই বন্ধ করা হয়। কমিটির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘অবৈধ ভিওআইপি বন্ধের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংসদের বৈঠকেও অনেকবার কথা বলেছি। ফল পাওয়া যায়নি। এখন আর নতুন করে কিছু বলার নাই।’
Print Friendly