বিএনপির আন্দোলনের সময়ও পুলিশ গাড়িতে আগুন দিয়েছিল: খালেদা জিয়া
কর্পোরেট সংবাদ
প্রকাশকালঃ ২০১৭.০১.০২ ১০:৫৩:১৪

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সাঁওতাল-পল্লিতে পুলিশ আগুন দিয়েছে, বিএনপির আন্দোলনের সময়ও পুলিশ গাড়িতে আগুন দিয়েছিল। বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসব কাজ করে না। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল তাদের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই সমাবেশের আয়োজন করে।

সাঁওতালপল্লিতে আগুনের প্রসঙ্গ টেনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাঁওতালদের ওপর কী হলো? কারা করল? ভিডিওতে এসেছে। সাংবাদিক ভাইয়েরা তুলে ধরেছেন। সাঁওতাল-পল্লিতে আগুন দিল কারা? পুলিশ। পুলিশ কার নিয়ন্ত্রণে? এই সরকারের নিয়ন্ত্রণে না?’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের সময়ও তারা একই কাজ করেছে। আমাদের আন্দোলন বন্ধ করার জন্য, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য পুলিশ গাড়িতে আগুন দিয়েছে।’
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে আগুন দেওয়া, বোমা মারা হয়েছে। বিএনপি এর আগেও আন্দোলন করেছে। কিন্তু জ্বালাও-পোড়াও হয়নি। এবার আওয়ামী লীগ এসব করেছে। বিএনপি এসব কাজ করে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া আরও বলেন, অথচ এই জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে তাঁর দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর নামে মামলা হয়েছে। তাঁদের অনেকে বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না।

সরকারদলীয় সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই হত্যা বন্ধ করতে হবে। আমি আওয়ামী লীগ-বিএনপি কিছু বুঝি না। খালি বুঝি হত্যা বন্ধ করতে হবে। কোনো দলের লোককে হত্যা করা যাবে না।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, কিছুদিন হত্যা-গুম-খুন কমলেও এখন আবার এসব বাড়ছে। গুম, খুন, ক্রসফায়ার বন্ধ করতে হবে। পুলিশকে তাদের পোশাকের মর্যাদা রাখতে হবে। কথায় কথায় গুলি করা চলবে না।

খালেদা জিয়া দাবি করেন, বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে তারা নানা ধরনের আইন করছে। তারা বংশপরম্পরায় ক্ষমতায় থাকতে চায়। তিনি বলেন, বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসবে। এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে সময়মতো। তবে এখন অহেতুক আন্দোলন নিয়ে তিনি কিছু বলতে চান না।

বক্তব্যের শুরুতেই ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এখন তিনি যখন বিভিন্ন জায়গায় যান, তখন দেখতে পান, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ ইউনিটের নামে ‘উত্তর উত্তর, দক্ষিণ দক্ষিণ’ এভাবে স্লোগান দিতে থাকেন। সংগঠনটির সাম্প্রতিক সময়ের স্লোগান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা কী বোঝাতে চাও? উত্তর উত্তর, দক্ষিণ দক্ষিণ, এটা কোনো স্লোগান হলো? তোমরা ছাত্র, তোমরা নতুন নতুন স্লোগান তৈরি করবে। আগের দিনের ছাত্ররা নিজেরাই স্লোগান তৈরি করত, পোস্টার করত। এখন তো তোমাদের পোস্টার করে দিতে হয়। তৈরি করে দেওয়ার পরও সে পোস্টারগুলো ঠিকমতো লাগে না।’

ছাত্রদের সমস্যা, শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা, সরকারের দমন-পীড়ন ও দুর্নীতি নিয়ে ছাত্রদল কেন স্লোগান দেয় না, সে প্রশ্ন রেখে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তার মানে, তোমরা শুধু স্বার্থটা বোঝো।’

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি যে ইলেকশন কমিশনের প্রস্তাব দিয়েছি, তোমরা কি পড়েছ সবাই? সবাই পড়ো নাই। তাইলে তোমরা কিসের ছাত্র? কেন ছাত্রদল করবে বা কেন তোমরা যুবদল করবে? বস্তির ছেলেপেলে এনে দল করতে যাবে না। সংখ্যা আমি দেখতে চাই না। আমি দেখতে চাই ভালো, উপযুক্ত ছেলেপেলে আসে কি না।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ ছাত্রদলের সাবেক নেতারা বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *