নিরাপত্তাহীনতায় সংসদ সদস্যরা
কর্পোরেট সংবাদ
প্রকাশকালঃ ২০১৭.০১.০৩ ১০:৫৪:৫৫

গাইবান্ধার সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে অন্য সংসদ সদস্যদের মধ্যেও। এরই অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াও গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করেন।

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া নিজেও গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের জানাজা শেষে তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা জানিয়েছি। উনি নিশ্চয়ই আমাদের সঙ্গে একমত হয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন।

এ সময় তিনি বলেন, এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলতে পারছি না। কেননা আমি ড্রয়িং রুমে আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছি, এ সময় কেউ অতিথি সেজে এসে যদি আমাকে গুলি করে চলে যায়, তাহলে গোয়েন্দা সংস্থার কী করার আছে। এজন্য সব সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানো প্রয়োজন।
নিরাপত্তা বাড়ানো হলে সংসদ সদস্যরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, কথাটি সঠিক নয়। কেননা এমপিরা নিরাপত্তা নিয়ে ঘোরাফেরা করলেও তাদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অনেক বেশি। এ নিরাপত্তা বাড়ানো হলে জনসম্পৃক্ততা কমবে না, বরং বাড়বে।

লিটন হত্যায় জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে তিনি বলেন, অপরিণত বয়সে লিটনের মৃত্যু হয়েছে। এটি জামায়াত-শিবিরের চক্রান্ত। লিটন ছিলেন স্পষ্টভাষী। এ কারণে গাইবান্ধায় লিটন ছিলেন জামায়াত-শিবিরের আতঙ্ক। একসময় তারা চেষ্টা করেছিল তাদের নেতা গোলাম আযমকে সুন্দরগঞ্জে এনে জনসভা করার। কিন্তু এমপি লিটন সুন্দরগঞ্জের মাটিতে গোলাম আযমকে পা রাখতে দেননি। এটিই ছিল তার দোষ। আর অতীতের এ আক্রোশের কারণেই জামায়াত-শিবির লিটনকে হত্যা করেছে।

জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমপি লিটনের ভগ্নিপতি ও আনন্দ গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ হিল বারীও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। উগ্রবাদীদের অস্তিত্ব মুছে দিতে প্রয়োজনে আমরা আমাদের পরিবারের ও ব্যক্তিগত সব সম্পত্তি ব্যয় করব। তার পরও জামায়াত-শিবির ও সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তি নির্মূল করা হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফও এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদানের দাবিও করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *