সফলতা-ব্যর্থতায় বিদায়-২০১৬, স্বপ্ন পূরণ হোক নববর্ষে
কর্পোরেট সংবাদ
প্রকাশকালঃ ২০১৬.১২.৩১ ২০:৫০:২৪

মো: মাহমুদুন্নবী জ্যোতি:

কালের গর্ভে বিলীন হলো আরো একটি বছর। ২০১৬’র শেষ সূর্য অস্তমিত হলো। নব বারতা নিয়ে নতুন সূর্য উদিতের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করলো ২০১৭। প্রকৃতির অঘোম নিয়মের ঘূর্ণায়মানতায় পুরনোকে বিদায় আর নতুনকে বরণ করা মানবজাতি সহজাত প্রবৃত্তি। সারা পৃথিবীর ন্যায় আমাদের দেশের জনগণ পুরনোকে বিদায় জানাবে, বরণ করবে নতুনকে। বিদায়ী বছর নানা কারণে আমাদের জাতীয় জীবনে যেমন রয়েছে প্রাপ্তি, তেমনি রয়েছে বেদনাস্মৃতি। না পাওয়ার গ্লানি আমাদের দেশের জনসাধারণের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। তারপরও বিগত বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ, বর্হি:বিশ্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি গর্ব করার মতো। রাজনৈতিক অঙ্গনের গুমোট শান্তবস্থা বিরাজমান ছিল। বিএনপি’র কর্মসূচী করতে সরকারের অনুমতি না পাওয়া ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এ বছর ১৯ মার্চ বিএনপি’র কাউন্সিলের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারমুক্ত হয়ে মহাসচিবের পূর্ণ পদ পান। ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। সরকারবান্ধব বিরোধী দল দিয়েই চলেছে জাতীয় সংসদ। তবে বিগত বছরে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনের ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। প্রধান নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময় রাজনীতির সুবাতাসের ইঙ্গিত বহন করছে। 

যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে এ বছরও। ফাঁসি কার্যকর করা হয় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাশেম আলীর। এ নিয়ে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের টানাপোড়েন শুরু হয়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরে পাকিস্তানের অনাকাঙ্খিত মন্তব্যে বাংলাদেশের জনগণ স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। যার রেশ হয়তো এখনো রয়ে গেছে। 

বিদায়ী বছর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় সংসদের লুই কানের মূল নক্শা আনা হয় দেশে। সরকারের তরফ থেকে বল হয় নক্শা অনুযায়ী সংসদ ভবনের রূপ ফিরিয়ে আনা হবে। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর একটা শঙ্কাও দেখা দেয় বিএনপি’র মনে। তবে সচেতন মহল মনে করেন, মূল নক্শার আদল ফিরিয়ে আনা খুব একটা সহজ হবে না। কারণ, বর্তমান সংসদ ভবনের পাশেও রয়েছে বেশ কয়েকটি কবর। এছাড়া চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, গণ ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা করা হয়েছে লুই কানের নক্শা বর্হিভূতভাবে। তবে এ নিয়ে যাতে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সেদিকে দৃষ্টি প্রত্যাশা করে জনগণ। 

বছর জুড়ে ছিল জঙ্গিবাদের হিং¯্র ধাবা। ১ জুলাই হলি আর্টিজানে মনুষ্যরূপী পশুদের নিমর্ম হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ নিহত হন ২২ জন। যার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে দেশ ও জাতি। হলি আর্টিজানের হামলার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই সোলাকিয়ায় ঈদের নামাজে হয় আরেকটি বর্বর হামলা। স্তব্ধ জাতি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যান। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া জঙ্গি দমনে কার্যকর ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সারা বছরই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে জঙ্গি দমনে। সফলও হয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই। স্কুল ছাত্রী কিশোরী রাইশাকে হত্যা, খাদিজার ওপর নির্দয় হামলাসহ বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ঘটনা সংঘঠিত হয় এ বছর। এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের অনেককেই আটক করতে সক্ষম হন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে ব্যতিক্রম ছিল তনু হত্যা। দীর্ঘ সময় পার হলেও তনু হত্যার বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশার আবরণে বন্দি হয়ে আছে। 
বিগত বছরটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অর্জন ছিল আশাতীত। দেশের মাটিতে ক্রিকেটের পরাশক্তি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ জয়, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় এদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। এ বছরই মিরাজের মত বিশ্বমানের খেলোয়ারের আবির্ভাব ঘটে বিশ্ব ক্রিকেটে। 

বিনোদনের ক্ষেত্রে বিদেশী সিরিয়াল বাংলা ডাবিং করে প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন টিভি অভিনয় শিল্পীরা। তাদের দাবি এসব অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক। দেশীয় শিল্পের বিকাশে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের আন্দোলন আরো জোরদার করার পথে এগুচ্ছে। 
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে প্রথম তো বটেই, বিশ্বের কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা এর আগে শোনা যায়নি। গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ঘটে এ ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের (এফআরবি নিউ ইয়র্ক) ব্যাংক হিসাবে রাখা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া ওই অর্থ। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে অর্থ পরিশোধের বার্তা পাঠায়, ঠিক তেমন কয়েকটি বার্তা পাঠিয়ে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে স্থানান্তর করে হ্যাকাররা। 

শ্রীলঙ্কায় যাওয়া দুই কোটি ডলার স্থানান্তর আদেশের বানান ভুল হওয়ায় ওই অর্থ ফেরত আনতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এক কোটি ৫২ লাখ ডলার বছরের শেষদিকে এসে ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি অর্থ উদ্ধারে ফিলিপাইনের বিচার বিভাগ ও ব্যাংক অব সেন্ট্রাল ফিলিপিনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেনদরবার করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।  

দেশের পুঁজিবাজারে আগামী বছর বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা পরিলক্ষিত হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ তথ্যপ্রযুক্তির সব সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বিদায়ী বছরের ১১ জানুয়ারি বিএসইসির কমিশনার মো. আমজাত হোসেন ডিএসইর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধন করেন।

অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বুক বিল্ডিং সফটওয়্যার চালু করেছে। ফলে বুক বিল্ডিং সিস্টেমে আসা কোম্পানিগুলোর জন্য ডিএসইর খরচ অনেকাংশে কমেছে।
তথ্যপ্রযুক্তির সব সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের কাছে লেনদেনের সুবিধাকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ডিএসই মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনের জন্য নতুন অ্যাপ ‘ডিএসই-মোবাইল’ চালু করে।  ডিএসই মোবাইল চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা সব কিছু জানতে পারছেন। এতে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বেড়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেনও ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ডিমিউচুয়ালাইজেশন-পরবর্তী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পণ্যের বৈচিত্র্যতা আনয়নে নতুন প্রোডাক্ট এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ইটিএফ চালু করার জন্য সব প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ডিএসই সম্পন্ন করেছে বিএসইসি এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড ইটিএফ ২০১৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন দেশব্যাপী ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে জনগণকে আর্থিক বিষয়ে সচেতন করা হবে। এ কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার জনগণকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও এর ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠন করার বিষয় এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন-বিধির খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন। ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠিত হলে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজিবাজারে নতুন প্রোডাক্ট (অপশনস, ফিউচার, ডেরিভেটিভস ইত্যাদি) লেনদেনের পথ সুগম হবে, যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। 

বিশ্বজুড়ে আলোচিত ছিল এ বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ইতিহাস সৃষ্টি করে অবিশ্বাস্যভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাশ্মীর সীমান্তে ভারতের সাথে পাকিস্তানের উত্তেজনা ছিল প্রায় বছর জুড়েই। যার জের ধরে স্থগিত হয়ে যায় সার্ক সম্মেলন। ভারতে ৫শ ও এক হাজার রুপীর নোট বাতিলে উত্তাপ চলছে ভারতে রাজনীতিতে। সিরিয়ায় মানবিক বিপর্যয়, আইএসআই’র জঙ্গি কর্মকান্ড বিস্মিত করেছে বিশ্ববাসীকে। তবে অভিবাসী সমস্যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সবকিছু ছাপিয়ে সংবাদ শিরোনাম হয় আইলানের মৃত্যু। পশ্চিমা বিশ্ব আইলানের মৃত্যুর পর অভিবাসীদের প্রতি অনেকটাই সদয় হতে দেখা গেছে। তবে বিশ্বজুড়ে সকল আলোচনা ছাপিয়ে যায় মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমান নিধন। বর্বরতম ঘটনায় হাজার হাজার পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ করা হয় অগণিত নারীদের। জ্বালিয়ে দেয়া হয় বসত ভিটা। জীবন বাঁচাতে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।  শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সূ চি’র নিরব ভূমিকায় বিস্মিত হয়েছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। মানবিক বিপর্যয় চরম পর্যায়ে পৌঁছালেও রোহিঙ্গার মুসলমানদের সাহায্যে এগিয়ে আসার উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। বর্তমানে সেখানে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নতুন করে একটি বাহিনী গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের হাতে এখন খুন হচ্ছেন রোহিঙ্গার মুসলমান। মিয়ানমারের এমন বর্বর হত্যাকান্ড বন্ধ হোক, রোহিঙ্গার মুসলমানেরা ফিরে পাক নাগরিক অধিকার, সহবস্থান নিশ্চিত হোক মিয়ানমারসহ বিশ্বের সকল অবহেলিত জনতার। বছরের একদম শেষ দিকে আমেরিকা থেকে ৩৫ জন রুশ কুটনীতিককে বহিষ্কারের ঘটনায় রাশিয়ার সাথে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে গোটা বিশ্ব শঙ্কিত হলেও আশার বাণী শুনিয়েছে ভøাদিমির পুতিন ও নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উভয় নেতার নমনীয় মনোভাব দেখানোয় আপাতত শঙ্কা দূর হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। 

বিগত বছরের সবচেয়ে আনন্দদায়ক ও স্বস্তিদায়ক বিষয়টি ছিল নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যা দেশের বর্তমান রাজনীতির ক্ষেত্রে উদাহরণ হয়ে থাকবে। স্বর্তস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, কোন প্রকার সংঘাত হানাহানি ব্যতীত অচিন্তনীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান জাতীয় জীবনে নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে। আর এই বার্তা আগামীতেও অব্যাহত থাক সেই আশাতেই আগামীর পথ চলতে চায় এদেশের শান্তিপ্রিয় জনসাধারণ। আর কোন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন নয়, জনগণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক প্রতিটি নির্বাচন, গ্রহণযোগ্য ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত হোক বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধি, সুসংহত হোক গণতন্ত্র, শুভ বুদ্ধির মাধ্যমে চর্চা হোক গণতন্ত্রের এই প্রত্যাশা করি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুপল্লী কিংবা গাইবান্ধার সাওতালপল্লীর মত আর কোন ঘটনার পূনরাবৃত্তি না ঘটুক, পৃথিবীর সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষ নিরাপদ জীবন যাপনই হোক আগামী দিনের কাঙ্খিত তামান্না। পুরনো যত বেদনা, ক্লেদ, না পাওয়ার যন্ত্রণা ভুলে শান্তির সুশীতলতায় আবৃত হয়ে থাকুক আমাদের দেশ তথা সমগ্র বিশ্বের প্রতিটি নাগরিক। 
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *