বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচারে আইসিএসবি’র ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা!
কর্পোরেট সংবাদ
প্রকাশকালঃ ২০১৬.১২.০৬ ০৯:৫৭:৪০


মো: মিজানুর রহমান, এফসিএস: সম্প্রতি দেশের একাধিক জাতীয় দৈনিকে কর্পোরেট পেশাজীবীদের সংগঠন ইনস্টিটিউট অব চাটার্ড সেক্রেটরিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাউন্সিলর, সদস্য ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরণের মৌন আতঙ্ক ও অস্থিরতা আর জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। 

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যবধি সরকার কর্তৃক প্রণীত আইনের আওতায় একটি অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে আইসিএসবি। এ প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল, গুড গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠার লক্ষে পেশাদার কোম্পানী সেক্রেটারি তৈরি করে চাটার্ড সেক্রেটারি পেশার উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা। 

আইসিএসবি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে বিগত সময়ে কর্পোরেট পেশায় কর্মরত দক্ষ পেশাজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কারিকুলাম তৈরি করেন এবং কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদনের পর সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধির সরাসরি তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া, আইসিএসবি’র শিক্ষা কমিটি থেকে শুরু করে সকল ষ্ট্যান্ডিং কমিটি ও সাব-কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত সচিব পদমার্যাদার কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়। 

আইসিএসবি’র কাউন্সিল নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের প্যানেলভিত্তিক নির্বাচনের কোন সুযোগ নেই। সরাসরি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। যাঁরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন তাঁরাও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। চাটার্ড সেক্রেটারীজ আইন-২০১০ অনুযায়ি আইনের বাইরে কাজ করার কোন সুযোগ নেই কাউন্সিলরদের।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়বস্তু পাঠে অনেকের কাছেই তা অনুমান নির্ভর তথ্য সম্বলিত বলে মনে হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, আইসিএসবি’র সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে কোন মহল বিশেষের প্ররোচনায় বা কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষের অনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এমন অপ্রচারমূলক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে কিছুটা হলেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, কাজেই তা দূর করার জন্য আইসিএসবি’র সকল সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারের প্রতিনিধি তথা নির্বাচিত কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে একটি সাধারণ সভার মাধ্যমে বিষয়টির সঠিক চিত্র সকলকে অবহিত করা যায়। এক্ষেত্রে সত্যিই কেউ যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিয়ে আইসিএসবি’কে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে এই সকল সংবাদ প্রচারের পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজে বের করে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের জন্য উক্ত পত্রিকার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়। না হলে পূণ:রায় এরূপ অপপ্রচারমূলক সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকবে, যা ইনস্টিটিটিউটের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। 

ইনস্টিটিটিউটের কতিপয় সিনিয়র সদস্যদের ধারণা, এর অধিকাংশ সদস্য ইউনিয়ন কাউন্সিলের ভোটাদের মতো। সিনিয়রদের মনে রাখা দরকার যে, এই ইনস্টিটিটিউটের প্রায় সকল সদস্যই কর্মক্ষেত্রে স্বীয় যোগ্যতায় ইনস্টিটিটিউটের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। সুতরাং, ইনস্টিটিটিউটের সদস্যদের বোকা ভাববার আদৌ কোন সুযোগ আছে কী? কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক ইনস্টিটিটিউটকে জিম্মি করে তাদের স্বার্থ হাসিলের প্রচেষ্টায় সাধারণ সদস্যদের সমর্থন থাকবে না। বিষয়টি তাদের সদা সর্বদা মনে রাখা দরকার। আবার এই ইনস্টিটিটিউটের বাইরের কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষ যদি সদা সর্বদা আইসিএসবি’কে একটি অপ্রয়োজনীয় প্রফেশনাল ইনস্টিটিটিউট মনে করে থাকেন এবং তাদের কেউ যদি এর সদস্যদেরকে বোকা মনে করে অপপ্রচারে লিপ্ত থাকেন তাহলে সেটিও সকল সদস্যদেরকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করার মানসিকতা থাকতে হবে। আইসিএসবি কারো তাবেদারী বা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে খুশি করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কর্পোরেট গুড গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠা করার জন্য সার্বজনীনভাবে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত একটি প্রফেশনাল ইনস্টিটিটিউট। এখানে সবাইকে পেশাজীবী মনোভাব পোষণ করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত ক্রোধের বহি:প্রকাশ প্রদর্শন করা মোটেই প্রফেশনাল এথিক্স এর মধ্যে পড়ে না। 

সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার ৫জন কাউন্সিলরের মাধ্যমে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই করার জন্য প্রয়োজনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তদন্ত কমিটি’র তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টির সঠিক চিত্র তুলে ধরা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তখন প্রতিবেদন অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আইসিএসবি’র সুনাম অক্ষুন্ন থাকবে এবং যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার সার্থকতা অব্যাহত থাকবে। 

মনে রাখা দরকার, চাটার্ড সেক্রেটারি পেশাজীবীদের অত্যন্ত প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান আইসিএসবি। সেই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সকল সদস্যদের সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীলদের আরো বেশি দায়িত্ববান হওয়া দরকার। কারণ, কতিপয় ব্যক্তির জন্য যাতে এর সুনাম বিঘিœত না হয়, গুড গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠার মহতী উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন যাতে হুমকির মুকে না পড়ে এবং কর্পোরেট পেশায় চাটার্ড সেক্রেটারি পেশাজীবীদের মানন্নোয়ন যাতে কোন অবস্থাতেই বাধাগ্রস্ত হতে না পারে। সকল সদস্যদের প্রাণপ্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটি যাতে কোন ব্যক্তি বিশেষ বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। চাটার্ড সেক্রেটারি পেশাজীবীদের পেশাগত মান উন্নয়ন ও পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ডেভেলপমেন্টসহ কর্পোরেট গুড গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। 

আমি ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘ বার বছর যাবত অত্র ইনস্টিটিটিউটের সাথে সম্পৃক্ত। প্রথম পাঁচ বছর এই ইনস্টিটিটিউটের ছাত্র হিসেবে কখনোই ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে কোন দলীয় আলোচনা, সমালোচনা এবং এর প্রেক্ষাপট দেখিনি। এই ইনস্টিটিটিউটের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে আমি এমন কয়েকজনকে চিনি, যাঁরা প্রফেশনাল লেভেলের বিভিন্ন পরীক্ষায় পাঁচ থেকে দশবার পরীক্ষা দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ লাভ করেছেন। শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা পদ্ধতি যদি প্রশ্নবিদ্ধ হতো তাহলে এত অল্প সময়ে সরকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই প্রফেশনাল ইনস্টিটিটিউটটিকে আইনগত বৈধতা দিতেন না। 

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশেষ করে আইন পাশের মাধ্যমে সরকার এই ইন্সটিটিউটের স্বীকৃতি দেয়ার পূর্ব থেকেই একটি মহল বিশেষের ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে আইনী বৈধতা পেতে বিলম্ব হয়। আইনী বৈধতা পাওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সিনিয়রদের মধ্যে ইন্সটিটিউটকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব দেখা দিলেও সকল সময় ইন্সটিটিউটের সদস্যদের স্বচ্ছ ভোটদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব সময় তার অবসান হয়েছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ইনস্টিটিটিউটের সদস্যদের সরাসরি ভোটের ভিত্তিতে তেরজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে বর্তমান কাউন্সিলকে সমৃদ্ধ করেছেন। বর্তমান কাউন্সিলে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে তিনজন আইসিএসবি কাউন্সিলের একাধিকবার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশের কর্পোরেট সেক্টরে স্বীয় যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব। এছাড়া বাকি সবাই একাধিকবার নির্বাচিত কাউন্সিল সদস্য। যাঁরা ইনস্টিটিটিউটের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত স্বেচ্ছাসেবি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। যাঁরা কিনা স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান কাউন্সিলের অনেকেই দেশি বিদেশী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে আইসিএসবি’র গর্বিত সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ইনস্টিটিটিউটের বর্তমান সকল কাউন্সিলরদের সম্মানহানীর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত দু:খজনক ও অবমাননাকর। আইসিএসবি’র ইতিপূর্বের কাউন্সিলে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও সকলে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ইনস্টিটিটিউটের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন এবং এখনো করছেন। 

আজকের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি আমাদেরকে একটি অত্যন্ত লজ্জাজনক অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। একটা পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানে যেখানে সবাই পেশাগত মান উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সদস্যদের আত্ম-মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে, সেখানে এই গর্বিত পেশাকে কলঙ্কিত করার জন্য কতিপয় সদস্যদের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থতার রূপ লাভ করতে যাচ্ছে। আমি এই প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য হিসেবে খুব শীঘ্রই এই অবস্থার পরিত্রাণ চাই। সম্মানের সহিত আমরা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এই ইন্সটিটিউটের পরিচয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এই ইনস্টিটিটিউটে সরকারের পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা যাঁরা ইতিপূর্বের কাউন্সিলেও সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের প্রিয় এই ইনস্টিটিটিউটের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে তাঁদের কার্যকরি ভূমিকা প্রত্যাশা করছি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *