সু চি’র মুখে গণতন্ত্রের মুখোশ
কর্পোরেট সংবাদ
প্রকাশকালঃ ২০১৬.১২.২৪ ১৯:০৫:৩১

গণতন্ত্র কি সু চির মুখোশ ছিল! সেই মুখোশ চিরে এখন কি তার আসল চেহারা বেরিয়ে আসছে? মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেই আগের মতো আবারও সেনাবাহিনী বেআইনিভাবে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। 

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, মিয়ানমারের গণতন্ত্রের আইকন দেশটির কার্যত রাষ্ট্রপ্রধান সু চি সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে করুণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী এই নেত্রী দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে শেষ পর্যন্ত কি-না দেশটির উৎপীড়ক শ্রেণির পাশেই দাঁড়িয়েছেন। জানিয়েছেন, সেখানে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা অভিযান চলছে। রোহিঙ্গা নির্যাতনের ইস্যুকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে নেহাতই উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। সু চির এই অবস্থান বলে দেয়, তার নেতৃত্বে দেশটি গণতন্ত্রে প্রবেশ করলেও, তিনি আসলে সংখ্যালঘুদের কেউ নন। গণতন্ত্রের মানসকন্যাখ্যাত হলেও তিনি যে আসলে গণতান্ত্রিক পথে হাঁটবেন না, ক্ষমতা পেলে যে সুবিধাবাদের পথেই হাঁটবেন, রোহিঙ্গাদের আর্তনাদ যে তখন তার কানে আর পেঁৗছাবে না, তা এখন দেশটির সংখ্যালঘুদের কাছে দিবালোকের মতো সত্যে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি অনেকটাই মোহভঙ্গ হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষের কাছে দিন দিন শ্রদ্ধা হারাচ্ছেন বদলে যাওয়া সু চি।

এদিকে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইস্ট এশিয়ান ন্যাশনসের (আসিয়ান) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সু চির আলোচনায় আশা ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে শক্তিশালী পথ উন্মোচিত হবে। দুর্ভাগ্য হলো, ওই বৈঠক বলতে গেলে একপ্রকার ব্যর্থই হয়েছে। এ ইস্যুটির সমাধানে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা এর পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়াই শেষ হয়েছে আসিয়ান নেতাদের বৈঠক। রোহিঙ্গা রাজ্যে ত্রাণ সরবরাহের পথ উন্মুক্ত করতে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চির কাছ থেকে প্রুতিশ্রুতি আদায় করতে পারলেও কবে-কখন এ তৎপরতা শুরু হবে সে সম্পর্কেও কোনো কথা আদায় করতে পারেননি আসিয়ান নেতারা। তবে আসিয়ান বৈঠকের আশার কথা হলো এই প্রথম মিয়ানমার সরকার এই সংকট কতটা গভীর তা স্বীকার করে নিয়েছে এবং বাইরের দেশগুলোর কাছে বিশেষ করে আসিয়ান নেতাদের কাছে অভ্যন্তরীণ এ সংকট সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্মত হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকা রাখাইন রাজ্যে তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে বিদ্রোহীদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ৯ অক্টোবর মিয়ানমার সেনাবাহিনী নির্বিচার নির্যাতন শুরু করে। গত দুই মাসের এই রোহিঙ্গা দমন অভিযানে প্রাণ হারায় শ'খানেক মানুষ। আর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে অন্তত ২৭ হাজার মানুষ। 

বলার কথা, রোহিঙ্গা নির্যাতন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। দেশটির কট্টর বৌদ্ধ নেতা, সেনা কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা এই নির্যতানের মূল হোতা। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়। ২০১২ সালেও রোহিঙ্গা নির্যাতন ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। সে সময় শত শত রোহিঙ্গা প্রাণ হারায়। দেড় লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *