হোম আর্কাইভ মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হপার

মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হপার

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 1:16 pm
71
0

ডেস্ক রিপোর্ট: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫১ বছরেও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। তবে এবার গণপূর্ত প্রকৌশলীদের উদ্ভাবিত হপার বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নের ভালো ফল পাওয়ায় স্থায়ীভাবে পুরো হাসপাতালে এ প্রযুক্তি স্থাপনের চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ।

রমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি ব্লকে হপার পদ্ধতি চালু হওয়ায় বেশ সুফল পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি শেড নির্মাণ করায় এখন উন্মুক্ত স্থানে আর বর্জ্য রাখতে হচ্ছে না। হাসপাতালের পরিবেশ স্বাস্থ্যকর থাকছে।

Spellbit Limited

রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে ৬৫ একর জমিতে ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রমেক হাসপাতাল। পাঁচতলা-বিশিষ্ট এক হাজার বেডের হাসপাতালটি ১০টি ব্লকে বিভক্ত। এবং প্রতিটি ব্লকে ওয়ার্ড আছে চারটি। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন সহস্রাধিক, পাশাপাশি প্রতিদিন পাঁচ-সাত হাজার মানুষ এখানে আসে। ফলে প্রতিদিন সার্জারির পাশাপাশি অন্যান্য বর্জ্য জমা হয় বিপুল পরিমাণে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দৈনিক অন্তত এক টন বর্জ্য উৎপাদন করে এ হাসপাতাল।

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় হাসপাতাল চত্বর ও গণশৌচাগারগুলোও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় ল্যাট্রিনে আবর্জনা ফেলার কারণে পয়োনিষ্কাশন পাইপ বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বিভিন্ন ফ্লোরের বর্জ্য সাধারণ লিফটে নামিয়ে খোলা স্থানে স্তূপ করে রাখেন। এতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, বর্ষার সময় আবর্জনা গোটা হাসপাতাল চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে চালকলে ব্যবহূত হপার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে সিসিইউ, চক্ষু, গাইনি সার্জারি, ইএনটি, লেবার ওয়ার্ড, সাধারণ সার্জারি ওয়ার্ড, নিউরো সার্জারি এবং পথ্য ওয়ার্ডসহ ১২টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলক এ হপার স্থাপন করা হয়েছে। এ হপারের সঙ্গে যুক্ত আছে ১২ ইঞ্চি ব্যাসের পিভিসি পাইপ। ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হপারে বর্জ্য ফেললে পাইপ দিয়ে নিচে পড়ে যায়। পরে সেখান থেকে সংগ্রহ করে নতুন নির্মিত শেডে ফেলেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাহমুদ হাসান বলেন, বর্জ্য অপসারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ায় ওই ওয়ার্ডগুলোয় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে না। আগে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে তিন শিফটে ব্যস্ত থাকতে হতো। এখন তার প্রয়োজন হচ্ছে না।

হপার পদ্ধতির প্রথম ধারণা দেন গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী খন্দকার মুমিনুর রহমান। তিনি এটির বর্ণনায় বলেন, চালকলে হপার ব্যবহার করা হয় শস্য প্রবেশ করানোর জন্য। বর্জ্য অপসারণে হপারের কাজও একই। তবে এ পদ্ধতির সার্বক্ষণিক সুবিধা পেতে হলে হপারে যুক্ত পাইপ ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। পাইপের ব্যাসের চেয়ে বড় জিনিস হপারে ফেললে পাইপ ফেটে যেতে পারে। এরই মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে।

হপার পদ্ধতি ভালোভাবে কাজ করলে পুরো হাসপাতাল এর আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন রমেক হাসপাতালের পরিচালক অজয় কুমার রায়। তিনি জানান, আগে বর্জ্য রাখার শেড ছিল না। এখন নির্মাণ করা হয়েছে। ইনসিনারেটরও (বিশেষ চুল্লি) নির্মাণ করা হয়েছে। এটি চালু হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনেক উন্নতি হবে।

রংপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পৃথক দুটি প্যাকেজে রমেক হাসপাতালের ১২টি ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণে হপার স্থাপন ও বর্জ্যের শেড নির্মাণ করা হয়। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউল আলম বলেন, হপার পদ্ধতি রমেকেই প্রথম ব্যবহূত হচ্ছে। সফলতা পাওয়া গেলে সব ওয়ার্ডে এটি চালু করা হবে। বণিক বার্তা

আরও পড়ুুন:

পদত্যাগী টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জয়পুরহাটে আগুনে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের ৮ জন নিহত