হোম অর্থ-বাণিজ্য ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির তাগিদ

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির তাগিদ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 11:49 am
41
0

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হতে পারে অন্যতম পন্থা। তবে এফটিএর ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, এমন দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এফটিএ করার জন্য সবচেয়ে উপযোগী হতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) আয়োজিত ‘এফটিএ: আ টুল ফর ফেসিং দি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ মত দেন। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় দুটি সেশনে আলোচ্য বিষয়ের ওপর মোট চারটি প্রেজেন্টেশন দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা। এ প্রেজেন্টেশনগুলোর ওপর ভিত্তি করে কর্মশালায় মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব শুভাশীষ বোস, বিএফটিআইয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) আলী আহমেদ, পরিচালক নেসার আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ শাখা) মো. শফিকুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব (এফটিএ-১) এএইচএম আহসান। চারটি প্রেজেন্টেশনের মধ্যে ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশনটি পরিবেশনে ছিলেন আলী আহমেদ। ‘হাউ টু ওভারকাম দ্য চ্যালেঞ্জেস আফটার গ্র্যাজুয়েশন, পার্টিকুলারলি থ্রু এফটিএ’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশনটি পরিবেশনায় ছিলেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। ‘এক্সিস্টিং এফটিএস ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড অ্যাভেইলেবেল ফ্যাসিলিটিজ আন্ডার দোজ’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন পরিবেশন করেন অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ শাখা) মো. শফিকুল ইসলাম ও ‘অ্যাসেসমেন্টস অব এফটিএস: ইস্যুজ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস টু কনসিডার্ড’ শীর্ষক প্রেজেন্টশন দেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. এমএ রাজ্জাক।

Spellbit Limited

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, মুক্ত বাণিজ্যের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো এফটিএ স্বাক্ষরের আগেই শনাক্ত করতে উন্নত গবেষণার প্রয়োজন। কোন দেশের সঙ্গে কোন ধরনের এফটিএ হওয়া উচিত, তা সুনির্দিষ্ট করতেই এ গবেষণা করতে হবে। এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ইইউ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত ও চীনের বাজারে বাণিজ্য সুবিধা হারাবে। ইইউতে তখন জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন করতে হবে বাংলাদেশকে।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এর মধ্যে আছে বাণিজ্য সুবিধা হারানো, রফতানি হ্রাস, ডব্লিউটিওর ট্রিপস থেকে অব্যাহতি। এতে বাংলাদেশের রফতানি বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে কমতে পারে, যার পরিমাণ হতে পারে ৬০০ কোটি ডলার। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় এফটিএ শক্তিশালী পন্থা হতে পারে।

আলী আহমেদ বলেন, ইইউর জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের দ্বিতীয় মানদণ্ডটি পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। জিএসপি সুবিধাভোগী দেশগুলো থেকে ইইউর মোট আমদানির ৯ শতাংশ হয় বাংলাদেশ থেকে। জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনে এটি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের কম হতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন বাজারে অনুসন্ধান, বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদন, শ্রম উৎপাদনশীলতা, উৎপাদন খরচ কমানো, ব্যবসার ব্যয় কমানোসহ বাণিজ্য সম্পর্কিত অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ জানান তিনি।

ড. এমএ রাজ্জাক তার প্রেজেন্টেশনে এফটিএ-সংক্রান্ত কোন ধরনের কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, কৌশল হওয়া উচিত এমন, যা অগ্রাধিকার খাতকে চিহ্নিত করে, বাজার সম্ভাবনা উন্মোচন করে, সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং বাণিজ্য অর্জন বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম তার প্রেজেন্টেশনে এফটিএর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।

সূত্র: বণিক বার্তা

আরও পড়ুন:

মালয়েশিয়ায় হালাল পণ্য রফতানির আহ্বান হাইকমিশনারের

আজ থেকে স্পট মার্কেটে ৭ কোম্পানি