হোম অর্থ-বাণিজ্য তিন মাসে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৩১ শতাংশ

তিন মাসে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৩১ শতাংশ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 12:22 pm
65
0
প্রবৃদ্ধি

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবরে) এক হাজার ৩৬৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। হিসাবে দেখা গেছে, অক্টোবরে প্রায় ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে রফতানি আয়ে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় বেশি হয়েছে ৩৩ শতাংশ।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অক্টোবর মাসে ২৭৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৩৭১ কোটি ১১ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৯১ কোটি ৪১ লাখ ডলার বেশি।

Spellbit Limited

হিসাবে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে রফতানি হয়েছে ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য। সেই তুলনায় এবছরের অক্টোবর মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ৮৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ইপিবি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে কৃষিপণ্য রফতানিতে। উল্লেখিত সময়ে এ খাত থেকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

ইপিবি’র সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের চার মাসে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৩৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। গত চার মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। একই সঙ্গে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। এ সময়ে এ খাত থেকে আয় এসেছে ২৮ কোটি ডলার। এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম হয়েছে। এ সময়ে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তৈরি পোশাক রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ১’শ ৩৩ কোটি ৩১ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি করে শীর্ষে রয়েছে পোষাক খাত। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছিল।

এই সময়ে নিটওয়্যার পোশাক রফতানি হয়েছিল ৫ হাজার ৮৭ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ওভেন পোশাক রফতানি হয়েছিল ৫ হাজার ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত চার মাসে হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এ সময় আয় এসেছে ২৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

তবে এত কিছুর পরও সন্তুষ্ট নন খোদ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তাদের মতে প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার কারণে পোশাক রফতানি কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এখন শতভাগ কমপ্লায়েন্স কারখানার দিকে হাঁটছি। ফলে রফতানিতে খুব সন্তোষজনক কিছু অর্জন করা যাচ্ছে না। রফতানি আয়ে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু প্রতিযোগী দেশগুলো আমাদের চেয়েও এগিয়ে গেছে। তাদের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, রফতানি খাতগুলোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তাই সার্বিক বিবেচনায় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রণোদনার মাধ্যমে সহযোগিতার দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: 
মালয়েশিয়ায় হালাল পণ্য রফতানির আহ্বান হাইকমিশনারের
ব্যাংকের এমডিদের চাকরিচ্যুতিতে মানা হয় না নির্দেশনা