হোম আর্কাইভ স্মার্টফোন হ্যাক হলে যা করবেন

স্মার্টফোন হ্যাক হলে যা করবেন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 8:22 pm
83
0
স্মার্টফোন

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: বর্তমানে স্মার্টফোন ছাড়া একদিনও চলে না। আপনার প্রয়োজনীয় এই ফোনটি তাই সব সময় নিরাপদে নিজের কাছেই রাখতে হয়। স্মার্টফোনটি দিয়েই আমরা কত রকমের কাজ করি। এটিই আমাদের ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপগুলোর মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যুক্ত করে। শুধু তা-ই নয়, স্মার্টফোনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা-পয়সা লেনদেনও করা যায়।

স্মার্টফোন যদি কখনো হ্যাক হয় তবে আপনাকে পড়তে হয় বড় বিপাকে। হ্যাক হয়ে যেতে পারে আপনার বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাকাউন্টগুলো! চুরি হয়ে যেতে পারে আপনার ফোনের ছবি, ভিডিও কিংবা মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্। এসব হ্যাকিংয়ের অন্যতম প্রধান শিকার হচ্ছে নারীরা। হ্যাকাররা হ্যাক করছে তাদের স্মার্টফোন। এরপর তাদের ফোনের তথ্য বা ব্যক্তিগত ছবি চুরি করে ব্লাকমেল করছে, দাবি করছে মোটা অঙ্কের টাকা।

Spellbit Limited

তাই স্মার্টফোন নিরাপদে রাখতে আপনাকে যেসব বিষয় জানা প্রয়োজন। আসুন জেনে নেই স্মার্টফোন হ্যাক হলে কী করবেন।

স্মার্টফোন হ্যাকিং কী?
স্মার্টফোন হ্যাকিং হলো অবৈধভাবে কারো স্মার্টফোনে অনুপ্রবেশ করে সেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়া। এক্ষেত্রে একজন হ্যাকার ভিকটিমের ফোনটি বিভিন্ন উপায়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং এরপর ফোনটি থেকে তার নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করে। স্মার্টফোনটি হ্যাক হয়ে যাওয়ার পর হ্যাকার ফোনটি দিয়ে যা খুশি তা-ই করতে পারে। কোনো ফাইল, ছবি, অডিও, ভয়েসকল, টেক্সট মেসেজ সবকিছুই হ্যাকার চুরি করে নিতে পারে ভিকটিমের ফোন থেকে।

ফোন লক করে রাখুন:
ফোনটি অন্যের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্যাটার্ন কিংবা পাসকোড দিয়ে লক করে রাখুন। কোনোভাবেই অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো সোর্স থেকে কোনো অ্যাপ ফোনে ইনস্টল করা যাবে না। কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য গুগল প্লে স্টোর আর আইফোনের জন্য অ্যাপস্টোর ব্যবহার করুন।

অ্যাপ ডাউনলোড করুন:
প্লে স্টোর না থাকে সেক্ষেত্রে apkmirror, apk-dl এর মতো নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন।

ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ:
ফোনের ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ কখনোই অপ্রয়োজনে চালু রাখবেন না। আমরা প্রায় সবাই এক ফোন থেকে অন্য ফোনে কোনো কিছু আদান-প্রদান করতে ‘শেয়ারইট’ অ্যাপটি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু অনেক ফোনে এই অ্যাপটি ব্যবহার শেষ হওয়ার পরও ওয়াইফাই কিংবা হটস্পট চালু থাকে। তাই এই অ্যাপ ব্যবহার শেষে ওয়াইফাই চালু থাকলে অফ করে নিন।

অপরিচিত লিংক:
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ প্রভৃতি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রাপ্ত কোনো অপরিচিত লিংক থেকে কিছু ডাউনলোড করবেন না।

ইন্টারনেট চালু:
হ্যাকিংয়ের প্রক্রিয়াটি ঘটার জন্য ভিকটিমের ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ চালু থাকা প্রয়োজন। তাই প্রয়োজন ছাড়া ইন্টারনেট চালু না রাখলে এড়াতে পারবেন ফোন হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট:
ফোনটি প্যাটার্ন কিংবা পাসকোড দিয়ে লক রাখুন। হ্যাকিং এড়াতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক কিংবা ফেসলক পদ্ধতিগুলো খুব একটা কাজের না। কারণ জরুরি প্রয়োজনে হ্যাকার খুব সহজেই আপনার ব্যবহৃত জিনিস থেকে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নকল করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক এবং আপনার যেকোনো ছবি দিয়ে ফেস লক খুলতে পারবে।

ফ্রি ওয়াইফাই:
অপরিচিত ফ্রি পাবলিক ওপেন ওয়াইফাই হটস্পটগুলোতে ফোন কানেক্ট করবেন না। কারণ ওয়াইফাই হটস্পটে কানেক্টেড ফোনগুলো হ্যাকার ‘ম্যান ইন দি মিডল’ পদ্ধতিতে হ্যাক করতে পারে।

ব্যক্তিগত তথ্য:
ফোনে এমন কোনো স্পর্শকাতর কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি রাখবেন না যেগুলো অন্যের হাতে পড়লে আপনার ক্ষতি হতে পারে।

আরও পড়ুন: মাইক্রোসফট মুনাফার জন্য গ্রাহক তথ্য ব্যবহার করে না