হোম আইন-আদালত নীতিমালার আওতায় আসছে পরিবহণ পুল

নীতিমালার আওতায় আসছে পরিবহণ পুল

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 12:20 pm
66
0
গাড়ি আমদানি

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও সমপদমর্যাদা-সম্পন্ন ব্যক্তি ও তাদের দপ্তরের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য যানবাহন সরবরাহ করে থাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর। কোনো ধরনের নীতিমালা না থাকায় সরকারি গাড়ি নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতিরও শেষ নেই। এসব অনিয়ম রোধে অবশেষে পরিবহন পুলকে নীতিমালার আওতায় আনা হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরিবহন পুলের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি, পরবর্তীতে তা রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্ধারিত মেয়াদের পর বিক্রির বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ নীতিমালা হলে পরিবহন পুলের গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম-দুর্নীতি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Spellbit Limited

জানা গেছে, সরকারি দপ্তরে তিনটি খাতে গাড়ি কেনা হয়। এর মধ্যে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কিনে থাকে সরকারি পরিবহন পুল। যুগ্ম সচিব থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য এ গাড়ি সুবিধা দেয়া হয়। তাদের অনুকূলে সরকারি খরচে চালকসহ যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রাধিকার কর্মকর্তার নিচে অন্য কর্মকর্তাদের অফিসে আনা-নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের নিজস্ব খাত থেকে কেনা হয় মাইক্রোবাস। এজন্য ওই দপ্তরে চালকের পদ সৃষ্টি করে লোক নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পের টাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক দামি গাড়ি কেনা হয়। এজন্য বরাদ্দ দেয়া হয় প্রকল্পের তহবিল থেকেই। পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী গঠিত কমিশন ও রাষ্ট্রীয় সব ডেলিগেশনের জন্য যানবাহন বরাদ্দ করে থাকে পরিবহন পুল।

ক্রয় থেকে শুরু করে পরিবহন পুলের অন্যান্য কার্যক্রম এত দিন কোনো নীতিমালা ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছে। যে কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। কমিটির সুপারিশের আলোকে পরিবহন পুলের গাড়ি আমদানি-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্ধারিত মেয়াদের পর গাড়ি বিক্রির বিষয়ে খসড়া নীতিমালার কাজ চলছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পরিবহন পুলের গাড়ি-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার জন্য পরিবহন পুল থেকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৭তম বৈঠকের নির্দেশনা অনুসারে পরিবহন পুলের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্ধারিত মেয়াদের পর বিক্রির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরির উদ্দেশ্যে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির পর তা নিবন্ধন-সংক্রান্ত জটিলতা। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা সরকারি গাড়ি বিশেষ নিয়মে নিবন্ধন করতে হয়। কিন্তু বিশেষ নিবন্ধনের কারণে পরবর্তীতে এসব গাড়ি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। কেননা বিশেষ নিবন্ধনের ফলে ক্রেতাসাধারণ এ গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈধতার প্রশ্নের মুখোমুখি হন।

এ অবস্থায় নীতিমালায় শুল্কমুক্তভাবে কেনা গাড়ির নিবন্ধন প্রচলিত সাধারণ নিবন্ধন পদ্ধতিতে করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত মেয়াদের পর গাড়ি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়। এছাড়া আট বছর পর অবশ্যই গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করতে নিলামের উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিলাম থেকে পাওয়া টাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুকূলে প্রযোজ্য কোডের খাতে জমা দেয়ার নিয়ম চালু করতে হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যানবাহন অধিদপ্তরের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান পদ্ধতিতে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে গাড়ির মূল্যের সঙ্গে শুল্কমূল্য যোগ করে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। অথচ শুল্কমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ পুনরায় সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এতে কাজের দ্বৈততা সৃষ্টি হয়। শুল্কমুক্ত ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠান গাড়ি কিনলে গাড়ির মূল্য যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি আট বছর পর বাজারমূল্যেই গাড়ি নিলাম করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: মূলধন মুনাফার ওপর ছয় শর্তের প্রজ্ঞাপন জারি