হোম কর্পোরেট সুশাসন বিএসইসি’র নির্দেশনা মানছে না তালিকাভূক্ত অধিকাংশ কোম্পানি

বিএসইসি’র নির্দেশনা মানছে না তালিকাভূক্ত অধিকাংশ কোম্পানি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 8:06 pm
557
0
বিএসইসি

মিজানুর রহমান: যে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি পরিচালিত হয় দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ি। এই আইন নির্ধারণ করে থাকেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ, দপ্তর, মন্ত্রণালয়। পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর আওতাধীন। ব্যবসার আকার, ধরণ, পরিধি যাই হোক না কেন, স্বীকৃত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তথা কোম্পানিগুলোকে আইনের প্রতি সম্মান রেখে যথাযথভাবে তা পরিপালন করা অবশ্য করণীয়।

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য গত ২০ জুন ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ সিকিউিরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক জারিকৃত নোটিফিকেশনে পরিস্কার বলা হয়েছে, প্রতিটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জ্ঞাতার্থে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন, মূল্যংবেদনশীল তথ্য এবং বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে। কিন্তু দেখা যায় যে, তালিকাভূক্ত অধিকাংশ কোম্পানি নোটিফিকেশনের ৩ এর ২নং অনুচ্ছেদের নির্দিষ্ট নির্দেশানুযায়ি ‘মূল্য সংবেদনশীল তথ্য’ প্রকাশ করলেও ৪নং অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট বিধান ৪ (১), (২) ও (৩) পালন করছে না। এই বিধানে পরিস্কার বলা হয়েছে, প্রতি প্রান্তিকে আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএসইসি ও স্টক একচেঞ্জকে অবহিত করতে হবে এবং দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় (একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি) এবং একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ কোম্পানি এই বিধানটি যথাযথভাবে পালন করছে না বলে জানা যায়। বিএসইসি, ডিএসই এবং সিএসই এর ওয়েবসাইটে গেলেও তালিকাভূক্ত কোম্পানির আর্থিক বিবরণী এবং মূল্য সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া যায় না। আবার অনেক কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও নাই। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, বিনিয়োগকারীরা কীভাবে কোম্পানিগুলোর তথ্য পাবে?

Spellbit Limited

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুবই স্বল্প সংখ্যক কোম্পানি বিএসইসি’র নির্দেশিত জুন ২০, ২০১৮ তারিখের নোটিফিকেশনের ৯নং অনুচ্ছেদ পরিপালন করছে। অধিকাংশ কোম্পানি নোটিফিকেশনের ৯ এর (১), (২) এবং (৩) নং অনুচ্ছেদ পরিপালন করছে না। কোম্পানির এজিএম এর কমপক্ষে ১৪ দিন আগে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত, প্রেরণ ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার বিষয়ে বাদ্যবাধকতা থাকলেও কোম্পানিগুলো অজ্ঞাত কারণে তা মানছে না।

কোম্পানির এজিএম এর কমপক্ষে ১৪ দিন পূর্বে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা (একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি) এবং একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে হবে। যাতে শেয়ারহোল্ডাররা জানতে পারেন কোথায়, কীভাবে কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। অধিকাংশ কোম্পানি বিএসইসির এই নির্দেশনা মোতাবেক এজিএম এর আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী শেয়ারহোল্ডাদের অধিকাংশই বিএসইসি’র নতুন নোটিফিকেশনের বিষয়ে এখনও অবগত নন। তারা জানে না যে, তাদেরকে ডাক অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে আর বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠানো হবে না। ফলে বিএসইসি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জ্ঞাতার্থে কোম্পানিগুলোকে অবশ্যকরণীয় নির্দেশনা দিলেও এ ব্যপারে প্রচার প্রচারণা তেমন না থাকায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী অধিকাংশ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগণ জানেন না বিএসইসির নির্দেশনা মোতাবেক তাদের তথ্য পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে। এক্ষেত্রে বিএসইসির নির্দেশনা সঠিকভাবে পরিপালন হচ্ছে কিনা, তা তদারকির জন্য পর্যবেক্ষণ সেল থাকা দরকার। তাহলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বিএসইসি’র নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনে অনীহা দেখাবে না।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানিকে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতেই বিএসইসি কর্তৃক এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শেয়ারহোল্ডাররা যাতে তথ্য অবহিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতার শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই বিএসইসি’র নোটিফিকেশন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে পুরোপুরিভাবে পালন করতে হবে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট পত্রিকা, মিডিয়া ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ডিএসই, সিএসই এবং বিএসইসি এর ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করলে পরিস্কার বোঝা যায় যে, পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা ভোগান্তির শিকার হন। কোম্পানিগুলো বিএসইসি’র নোটিফিকেশন পুরোপুরি পরিপালন না করায় যে উদ্দেশ্যে বিএসইসি নোটিফিকেশন ইস্যু করেছে তার কাঙ্খিত সফলতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

তার কারণ, অধিকাংশ কোম্পানি জুন ২০, ২০১৮ এর নোটিফিকেশনের শর্ত ৩(২) পরিপালন করছে, যা আগষ্ট ২১, ২০১২ নোটিফিকেশনের পূনরাবৃত্তি। আবার কিছু কোম্পানি জুন ২০, ২০১৮ এর নোটিফকেশনের শর্ত ৪(১)(২) ও (৩) পরিপালন করলেও তারা আবার শর্ত ৩(২) মানছে না। এছাড়া নোটিফিকেশনের শর্ত ৯(২) মোতাবেক অধিকাংশ কোম্পানিই বার্ষিক প্রতিবেদন প্রাপ্তির উপর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করছে না, যা পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হতে পারে এবং এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গোটা পুঁজিবাজার।

আরো পড়ুন: অর্থমন্ত্রীর ব্যাংকিং খাতকে সীমিতকরণ ভাবনায় নতুন ব্যাংকের সংযোজন!
বিনিয়োগ সুরক্ষায় প্রতি প্রান্তিকে আর্থিক বিবরণী ও মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ…