হোম আর্কাইভ আইআইএবির মুখ্য উদ্দেশ্য করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা: এম নূরুল আলম, এফসিএস

আইআইএবির মুখ্য উদ্দেশ্য করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা: এম নূরুল আলম, এফসিএস

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 12:15 pm
176
0
nurul-alam

এম নূরুল আলম, এফসিএস, সিসিইপি-আই, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসার ও দি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস, বাংলাদেশের (আইআইএবি) সেক্রেটারি জেনারেল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষে সম্পন্ন করেন সার্টিফাইড কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড ইথিকস প্রফেশনাল-ইন্টারন্যাশনাল (সিসিইপি-আই) ও চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশাগত ডিগ্রি। তিনি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) একজন সম্মানিত ফেলো। ২০১৩ সালে তিনি আইসিএসবির কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে করপোরেট গভর্নেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান এবং বাংলাদেশে প্রথম করপোরেট গভর্নেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের প্রবর্তন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সফল কোম্পানিগুলোকে অ্যাওয়ার্ড দেন। সম্প্রতি একটি দৈনিক পত্রিকায় তাঁর এক সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন: আইআইএ বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চাই…

Spellbit Limited

নূরুল আলম: ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ (আইআইএবি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস (আইআইএ) গ্লোবালের অ্যাফিলিয়েট মেম্বার। আইআইএ গ্লোবালের ১৭০টির বেশি দেশে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার পেশাজীবী ইন্টারনাল অডিট পেশার উন্নয়নে কাজ করছেন।

আইআইএবি’র যাত্রা শুরু ২০০৪ সালে। একই বছরে আইআইএবি আইআইএ গ্লোবালের সনদ পাই। ২০১৬ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স পাই। আইআইএ বাংলাদেশের বর্তমান সদস্যসংখ্যা ২৮১। রায়হান সামসি এফসিএ’র উদ্যোগে বাংলাদেশে আইআইএ’র সূচনা হয়। আইআইএ বাংলাদেশের প্রথম বোর্ড প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্রয়াত এ. কে. চৌধুরী এফসিএ, এফসিএস। এছাড়া আইআইএ’র সাবেক প্রেসিডেন্টদের মধ্যে আছেন সরওয়ার এ খান এফসিএ, এফসিএস ও রায়হান সামসি এফসিএ। বর্তমানে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন কে. আতিক ই রাব্বানি, এফসিএ। আইআইএ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় নিরন্তন সহযোগিতা করেছেন মো. হাসানুর রহমান রাকিব, এফসিএস, এসএম ইমদাদুল হক ও অজিত কুমার পাল, এফসিএ। আইআইএ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নে সিপিই (কন্টিনিউয়িং প্রফেশনাল এডুকেশন), সেমিনার ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে পেশার উন্নয়নে সহায়তা করে।

প্রশ্ন: আইআইএবি প্রতিষ্ঠার মুখ্য উদ্দেশ্য কী?

নূরুল আলম: আইআইএবি’র মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা। বিশেষ করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক করপোরেট গভর্নেন্স, কোড অব ইথিকস প্রতিষ্ঠায় আইআইএ পেশাজীবীদের সহযোগিতা করা। ইন্টারনাল অডিটরস (আইএ) পেশার উন্নয়নে কাজ করা। অ্যাডভোকেটিং ও প্রমোটিং, কমপ্লায়েন্স অব আইআইএ’র ভ্যালুস, কোড অব ইথিকস প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করা, প্রফেশনাল সেমিনারের আয়োজন করা, আইআইএ স্ট্যান্ডার্ড প্রতিষ্ঠায় সদস্যদের সহযোগিতা করা, ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফিকেশন সার্টিফাইড ইন্টারনাল অডিটর (সিআইএ) প্রমোট করা ও আগ্রহী সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। উল্লেখ্য, ইন্টারনাল অডিটর পেশার জন্য সিআইএ সার্টিফিকেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সিআইএ সার্টিফিকেশন প্রমোট ও এর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইআইএ।

প্রশ্ন: দেশের অর্থনীতিতে আইআইএবি’র ভূমিকা ও গুরুত্ব সম্পর্কে বলুন…

নূরুল আলম: প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনাল অডিট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় প্রতিরক্ষা ধাপ হিসেবে বিবেচিত। বিনিয়োগকারী, ভোক্তা, ব্যবস্থাপনা সব স্টেকহোল্ডারের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে আইআইএবি। বিশ্বের সব উন্নত দেশে আইএ পেশা প্রতিষ্ঠানে (সরকারি কিংবা বেসরকারি) বিশেষ ভূমিকা রাখে। আইএ ফাংশনের গুরুত্ব নির্ভর করে দেশের আইন ও প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা ব্যবস্থাপনার ওপর।

প্রশ্ন: আইআইএবি’র সদস্য হতে হলে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা কী?

নূরুল আলম: আইআইএবি’র সদস্য হতে হলে আইআইএ সার্টিফিকেশনপ্রাপ্তি বাধ্যতামূলক নয়। ইন্টারনাল অডিট কাজে অভিজ্ঞতা ও স্নাতক পাস ন্যূনতম যোগ্যতা। নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করার পর আইআইএবি বোর্ড সেটি যাচাই করে যদি অনুমোদন করে, তাহলেই আইআইএবি’র সদস্য হওয়া যায়।

প্রশ্ন: আইআইএবি থেকে কেমন সুবিধা পাওয়া যায়? এসব কোর্সের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

নূরুল আলম: আইআইএবিতে সিপিই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। আইএ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সিআইএ এক্সাম কোচিং ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। মেন্টরিং (কনট্যাক্ট বেসিস) করা হয়। ইন্টারনাল কন্ট্রোল ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। করপোরেট গভর্নেন্সের ওপর কোর্স করানো হয়। করপোরেট সেক্টরে কোর্সগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আইআইএবি’র সদস্য হলে আইআইএ গ্লোবাল থেকে সদস্য নম্বর দেওয়া হয়, যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। আইআইএবি’র সদস্যরা সিআইএ অ্যাপ্লিকেশন ও এক্সাম ফি সাবসিডি পেয়ে থাকেন। আইআইএ ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারে। এছাড়া আইআইএবি সদস্যপ্রতি ১৭ দশমিক পাঁচ ডলার বার্ষিক অ্যাফিলিয়েশন ফি পরিশোধ করে আইআইএ গ্লোবালকে। ফলে সদস্যরা গ্লোবাল মেম্বার স্ট্যাটাস উপভোগ করতে পারেন।

প্রশ্ন: এ পেশার সম্ভাবনা কেমন?

নূরুল আলম: অপার সম্ভাবনাময় পেশা আইএ। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে এর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সিআইএ ও আইআইএ’র মূল সার্টিফিকেশন সব দেশে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। তাই দেশের বাইরেও রয়েছে চাকরির সুযোগ।

প্রশ্ন: ইন্টারনাল অডিটরস (আইএ) পেশাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

নূরুল আলম: আইএ পেশা অত্যন্ত সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ পেশা। এটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। আইএ পেশাজীবীরা প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের দক্ষতা অর্জন করে থাকেন, তাই বোর্ডকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরামর্শ দিতে পারেন।

প্রশ্ন: আইআইএবি নিয়ে আপনাদের লক্ষ্য…

নূরুল আলম: আইআইএবি’র অফিস স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। নিয়মিত সিপিই সেমিনারের আয়োজন করা হবে। সিআইএ এক্সাম কোচিং বা মেন্টরিং কোর্স অফার করা হবে। আগামী এক বছরে ৫০ জন কোয়ালিফাইড সিআইএ দেখতে চাই। বর্তমানে মাত্র ১০ জন রয়েছেন। পাশাপাশি সিআরএমএ’র (সার্টিফিকেশন ইন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যাসুরেন্স) সংখ্যাও বাড়ানোর প্রচেষ্টা থাকবে। কোম্পানির অডিট ডিপার্টমেন্ট আপ স্কিলিং প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা দিতে পারবে।

সৌজন্যে: দৈনিক শেয়ার বিজ