হোম কর্পোরেট সুশাসন বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা খেলাপি ঋণ আদায়ে বড় অন্তরায়

বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা খেলাপি ঋণ আদায়ে বড় অন্তরায়

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 1:14 pm
238
0
খেলাপি ঋণ

মাহমুদ: দেশে ব্যাংকগুলোতে প্রতিবছরই বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। এক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থঋণ আদালতের দারস্থ হয়। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকার কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে মামলার সংখ্যা। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, শুধুমাত্র চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতেই বিচারাধীন বিভিন্ন ব্যাংকের দায়ের করা মামলার সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১৫ বছর আগে দায়ের করা মামলাও রয়েছে। গত পাঁচ বছরে মামলা হয়েছে তিন হাজারের বেশি। এ সব মামলায় অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়াও সারাদেশে রয়েছে অসংখ্য খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলা। যেখানে টাকার পরিমাণ হাজার হাজার কোটি টাকা। দায়েরকৃত এ সকল অধিকাংশ মামলাই রয়েছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

Spellbit Limited

বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় রয়েছে অর্থঋণ আদালত। যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারক সেখানে বিচারকাজ করে থাকেন। তবে খেলাপি গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বিচারে দীর্ঘসূত্রিতায় এসব মামলার বেশির ভাগই নিষ্পত্তি না হয়ে আটকে আছে। এ অবস্থায় ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতের পরিধি এবং মামলা নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

অর্থঋণ আদালত আইন, ১৯৯০ সংশোধন করে যুগোপযোগী হিসেবে প্রণীত হয় অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩। এরপর প্রায় দেড় দশক সময় পার হলেও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। অথচ মামলা শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ে সমর্থ হলে সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থিক চিত্র ভিন্নতর হতো। এক্ষেত্রে আইন সংশোধনের পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতাজনিত জটগুলো খুলতে হবে। ঋণ আদায়ে বাধা দূর করতে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর পাশাপাশি বাড়াতে হবে আদালত ও বিচারকের সংখ্যা। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মতো শিল্প বাণিজ্য নগরীতে একটি মাত্র অর্থঋণ আদালতের পক্ষে এতগুলো মামলা পরিচালনার বিষয়টি মোটেই যৌক্তিক নয়।

আর্থিক খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধে ঋণখেলাপিদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোন বিকল্প নেই। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এ অবস্থার লাগাম টেনে ধরতেই হবে। এ কাজে অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা কাম্য। তাছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব।

ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা থাকাও জরুরি। কারণ নিয়ম বহি:র্ভূত বা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে দেয়া ঋণই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনাদায়ি রয়ে গেছে। সুতরাং, যারা এই ঋণ দেয়ার সাথে জড়িত, তাদের দ্রুততার সাথে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করতে হবে। যাতে এই অনিয়ম বন্ধ হয় এবং শৃঙ্খলা ফিরে আসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোতে।

এছাড়া মামলা দায়ের ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আইন বিভাগের দক্ষতার বিষয়টির দিকেও সুদৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আইন বিভাগের কর্মকর্তা এবং মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীরা ঋণগ্রহীতার সঙ্গে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে দুর্বলভাবে মামলা পরিচালনা করে থাকে। ফলে, বিচারের ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মামলাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

ঋণখেলাপিরা দেশের অর্থনীতির চাকার গতিরোধের পাশাপাশি সৎ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ওপর ঋণাত্মক প্রভাব ফেলছে। খেলাপি ঋণের ফাঁদে পড়ে পুঁজি সংকটে অনেক ব্যাংকের আর্থিক কার্যক্রম আজ হুমকির মুখে। দেশের আর্থিক খাতের নাজুক অবস্থা সামাল দিতে চলমান পরিস্থিতির আশু পরিবর্তন প্রয়োজন।

আরো পড়ুন: ৩৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, অবশেষে ‘অবলোপন’
বিনিয়োগ সুরক্ষায় প্রতি প্রান্তিকে আর্থিক বিবরণী ও মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ…