হোম কর্পোরেট সংবাদ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে যাত্রী পরিবহন বন্ধের পরিকল্পনা বোয়িং এর

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে যাত্রী পরিবহন বন্ধের পরিকল্পনা বোয়িং এর

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 11:30 am
916
0
bangladesh-airlines

নিজস্ব প্রতিনিধি: অত্যাধুনিক ও সুপরিসর বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে যাত্রী পরিবহন করে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। কর ও সারচার্জসহ মাত্র ২ হাজার টাকায় (ওয়ানওয়ে) এ দুটি রুটে যাত্রী পরিবহন করতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হয়। সাশ্রয়ী ভাড়ার এ অফারে যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে সমর্থ হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়ছে বিমান। তবে দেরিতে হলেও বহরের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজের আয়ুষ্কাল রক্ষায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এর ব্যবহার বন্ধ করা হচ্ছে। পরিবর্তে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতি ঘণ্টায় শাটল এয়ার সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা করছে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনসটির পরিচালনা পর্ষদ।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক রুটের কানেক্টিং ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়ে মূলত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে বিমান। ঢাকা থেকে মাস্কাটে এবং মাস্কাট থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করতে গিয়ে ট্রানজিট দেয়া হচ্ছে চট্টগ্রামে। আর ঢাকা থেকে লন্ডনে এবং লন্ডন থেকে ঢাকায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়ে বিরতি দেয়া হচ্ছে সিলেটে। ঢাকা-জেদ্দা, ঢাকা-আবুধাবি, ঢাকা-দোহা রুটে যাত্রী পরিবহনেও ট্রানজিট দেয়া হচ্ছে চট্টগ্রামে। এতে করে একটানা ১৬ ঘণ্টার বেশি উড়তে সক্ষম বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটের ফ্লাইট পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে বিমান।

Spellbit Limited

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, লম্বা দূরত্বের উড়োজাহাজগুলো দিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটের ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়ে বিমানের ক্যাপাসিটি ও ইঞ্জিন লস বাড়ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার, কমছে লাইফ সাইকেল। দূরপাল্লার এসব উড়োজাহাজ ৬ ঘণ্টার কম উড্ডয়ন করলে সেখানে যান্ত্রিক ত্রুটি হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়, যা ভবিষ্যতে বিমানকে ভয়ানক আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ এনামুল বারী  বলেন, বহরের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজগুলো সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এক্সটেন্ডেড রেঞ্জের এসব উড়োজাহাজ একবার উড্ডয়ন করে ৬ ঘণ্টার কম ফ্লাইট পরিচালনা করা ক্ষতিকর। এতে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও বডির ওপর চাপ পড়ে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আগামী জানুয়ারি থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এ রুটে প্রতি ঘণ্টায় ছোট উড়োজাহাজ দিয়ে শাটল সার্ভিস চালু করা হবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটের কানেক্টিং যাত্রীদের পরিবহন করা হবে।

লোকসানে থাকা বিমানকে মুনাফার ধারায় ফেরাতে ২০১১-১৪ সাল পর্যন্ত আনা হয় চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ। এগুলোর নামকরণ করা হয় পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ ও রাঙা প্রভাত। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে আনা হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের নতুন আরো একটি উড়োজাহাজ; যার নাম দেয়া হয়েছে ‘মেঘদূত’। আর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিমানের বহরে যোগ হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’। সর্বশেষ গত আগস্টে যুক্ত হয়েছে একটি বোয়িং৭৮৭ ‘ড্রিমলাইনার’। আরো একটি আসছে আগামী ৩০ নভেম্বর।

আরও পড়ুন: 

হুমকির মুখে চামড়াশিল্প

জেনে নিন, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড কোম্পানি সম্পর্কে