হোম জাতীয় সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়নি: তথ্যমন্ত্রী

    সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়নি: তথ্যমন্ত্রী

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 10:48 am
    78
    0
    inu-press-councle
    ফাইল ছবি

    নিজস্ব প্রতিনিধি: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়নি। আলোচনা চালু আছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

    গত শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮,২১, ২৫,২৮, ২৯,৩১, ৩২,৪৩ ও ৫৩ ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৯টি ধারা ২১ অক্টোবর শুরু হওয়া বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে সংশোধনের দাবি জানান সম্পাদক পরিষদ।

    Spellbit Limited

    পরিষদ বলছে, এই ধারাগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আইনটি সংশোধনের দাবিতে আজ সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে পরিষদ।

    এতে শুধু পরিষদের সদস্যরাই অংশ নেবেন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিটি হওয়ার কথা ছিল গত ২৯ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সে সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কর্মসূচি স্থগিত করে সম্পাদক পরিষদকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

    এরপর সম্পাদক পরিষদ সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাদের মানববন্ধনের কর্মসূচি স্থগিত করে তথ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর আলোচনায় বসে।

    তিন মন্ত্রীর পক্ষ থেকে তখন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে এবং আইনটি সংশোধনের লক্ষ্যে আরো আলোচনা হবে। কিন্তু গত দুটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক পরিষদ বলেছে, এটি প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ। তিন মন্ত্রী কেন তাঁদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলেন, তা তাদের কোনো একজনের মাধ্যমে জানানোর মতো সৌজন্যটুকু দেখানো হয়নি।

    তিন মন্ত্রী কথা রাখেননি মর্মে সম্পাদক পরিষদের অভিযোগকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সম্পাদক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে ইনু বলেন, সম্পাদক পরিষদ, বিএফইউজে, ডিইউজে ও ডিআরইউয়ের নেতাদের সঙ্গে তারা বসেছিলেন। সেখানে আইনের যেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেসব তারা শুনেছেন।

    প্রশ্নগুলো শুনে তারা (তিন মন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা) বলেছিলেন, আলোচনার যে সূত্রপাত হলো, তা অব্যাহত থাকুক। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে জানিয়ে এ বিষয়ে তারা যে দিকনির্দেশনা দেবেন, তার ভিত্তিতে আবার বসা হবে।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, তখন এটাও বলা হয়েছিল, আইনে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেন কি করলেন না, তার সঙ্গে আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। যে কোনো আইন পরিমার্জন করা যায়। এ জন্য সরকার আছে, সংসদ আছে। এ জন্য আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।

    এরই মধ্যে মন্ত্রিসভার দুটি বৈঠক হয়েছে। তার আগেই প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রিসভায় আলোচনার পরিবেশ ছিল না বলে সেখানে আলোচনা হয়নি। ইনু বলেন, আমরা আশা করছি, যে কোনো সময় আলোচনা হবে। আর আলোচনা হলে আবারও সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হব। সম্পাদক পরিষদের সোমবার ডাকা মানববন্ধনের বিষয়ে ইনু বলেন, দাবি তোলা গণতান্ত্রিক পন্থা। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। কিন্তু মানববন্ধন করুন আর না করুন, আমরা আলোচনায় আছি।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-এর নেতৃত্বে থাকা ড. কামাল হোসেন জঙ্গি-দুর্নীতিবাজ বিএনপির আশ্রয়ণ সংস্থা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, এটা জোট নয়, এটা ঘোট। এই ঘোট পাকানোর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে।

    বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে শনিবার ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে নতুন জোট গঠন করা হয়েছে। শুরু থেকে এই জোট গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বাদ পড়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্যের মধ্যে কিছু অমিশন আছে, কিছু কমিশন আছে। কিছু জিনিস উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কামাল হোসেন ও বিএনপির ওনারা বাদ দিয়েছেন, কিছু জিনিস উদ্দেশ্যমূলকভাবে যোগ করেছেন। তিনি বলেন, কী কী বিষয়ে এই জোট নীরব সেই বিষয়ে আমি বলব- রহস্যজনকভাবে তারা বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে দৃঢ় ঐক্যের বিষয়ে নীরব। বিএনপি রাজাকারদের সম্পর্কের ব্যাপারে নীরব। বিএনপি সব জঙ্গি সন্ত্রাস হত্যা-খুনের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে- সেই ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্ট নীরব। বিএনপি সংবিধানের চার নীতিকে সরাসরি অস্বীকার করে, সেই ব্যাপারেও ঐক্যফ্রন্ট নীরবতা পালন করেছে। বিএনপি সরাসরি ৩০ লাখ শহীদের ব্যাপারটিকে বিতর্কিত করেছে, সেই ব্যাপারেও নীরবতা পালন করেছে ফ্রন্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে বিএনপির ন্যক্কারজনক ভূমিকা সম্পর্কেও নীরবতা পালন করেছে ঐক্যফ্রন্ট।

    ঐক্যফ্রন্ট তারেক, কোকো, খালেদা জিয়ার মহাদুর্নীতির ঘটনা অমিশন বা বাদ দিয়েছেন মন্তব্য করে জাসদ সভাপতি বলেন, আর কমিশন হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াত-রাজাকার-জঙ্গি ও সব অপরাধীদের হালাল করার একটা প্রস্তাব হচ্ছে ৭ দফার প্রস্তাব। আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে চাচ্ছি- জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধাপরাধী, স্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধারের ঘোষণাটা হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জাতির সঙ্গে একটা ঠাট্টা-মশকরা। আমি মনে করছি এই ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্যের আড়ালে জঙ্গি-সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার এটা প্রকল্প। একটি অস্বাভাবিক সরকার আনার প্রস্তাব। গণতন্ত্রকে জিম্মি করে সব ধরনের অপরাধীদের মুক্ত করার, পুনর্বাসন করার, রাজনীতি করার এটা ব্যবস্থা। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি বিএনপি হচ্ছে রাজাকার-জঙ্গি জামায়াতের আশ্রয়ণ প্রকল্প বা সংস্থা, আর ড. কামাল হোসেন এই জঙ্গি, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপির আশ্রয়ণ সংস্থা হিসেবে ভূমিকা রাখা শুরু করেছেন।

    বিএনপি ১৯৭৫ এর পর ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয় অমীমাংসিত করেছে। বিএনপি হচ্ছে মীমাংসিত বিষয় অমীমাংসিত করার মাস্টার। একাত্তরের পর জেনারেল জিয়া যেভাবে মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার-খুনীদের সহাবস্থানের রাজনীতি-অপরাজনীতি অনুসরণ করেছেন এই কামাল হোসেন ও বিএনপির ঐক্য ফ্রন্ট ঠিক সেই সহাবস্থানের প্রস্তাব জাতির সামনে হাজির করলেন বলেন জাসদ একাংশের সভাপতি ইনু। তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যে ঐক্যের যাত্রা শুরু হলো এর সঙ্গে কোন সুশাসন, গণতন্ত্র, দুর্নীতিমুক্ত সমাজের কোন সম্পর্ক নেই। আমি পরিস্কার বলছি- বাংলাদেশে কোন রাজবন্দি নেই, যারা আছে সব অপরাধী। খালেদা জিয়া একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ সাজাপ্রাপ্ত আসামী। তারেক একটা চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ খুনি অপরাধী।

    আরও পড়ুন: 

    আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস আজ 

    ইউনূসের অনুরোধে, হিলারীর নির্দেশে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করেছিল বিশ্ব ব্যাংক: প্রধানমন্ত্রী