হোম অর্থ-বাণিজ্য বাংলাদেশকে হলদিয়া-কলকাতা বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব ভারতের

বাংলাদেশকে হলদিয়া-কলকাতা বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব ভারতের

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 10:28 am
309
0
হলদিয়া-কলকাতা বন্দর

ডেস্ক রির্পোট: আমদানি-রফতানি পণ্য ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য বাংলাদেশকে কলকাতা ও হলদিয়া সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। সে দেশের শুল্ক কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে হলদিয়াকে বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় মন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে আবারো বন্দর দুটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো হলদিয়া অথবা কলকাতা বন্দর ব্যবহারের কোনো প্রস্তাব অনুমোদন করেনি। দুটি বন্দরেরই ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্ট (সিপিটি)।

Spellbit Limited

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশী পণ্য ট্রান্সশিপমেন্টে কলকাতার এ দুটি বন্দর ব্যবহার হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নৌ-পরিবহনের ব্যয় কমবে। এতে করে ব্যয়বহুল সড়কপথে পণ্য পরিবহনের চাপ ও নির্ভরতা কমবে। এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের জন্যও চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট এড়িয়ে ইউরোপীয় ও মার্কিন বাজারে পণ্য পৌঁছার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ বলেন, সম্প্রতি একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে কেউ কেউ ওগুলো বলেছেন। সরকারি পর্যায়ের কোনো প্রস্তাবনা এটা নয়। ভারতের যেকোনো প্রস্তাব গ্রহণ করার আগে ভালোমতো যাচাই-বাছাই ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।

ভারতের বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে। চার বছরে দুই দেশের বাণিজ্য ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৯১০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। বছরওয়ারি হিসাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এপ্রিল-জুলাই সময়কালে এ বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ।

বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে নৌপথে পণ্য পরিবহনও বাড়ছে। ভারতীয় অর্থবছরের (চলতি) প্রথম ছয় মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) হলদিয়া বন্দরে হ্যান্ডলিং হয়েছে দ্বিদেশীয় বাণিজ্যের প্রায় চার হাজার কনটেইনার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পুরো সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ৭০০ কনটেইনার। বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়লেও সমস্যা রয়েছে অন্য জায়গায়।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ভারসাম্য ভারতের দিকে অত্যধিক ঝুঁকে থাকায় নৌযানগুলো ফিরতি পথে বাংলাদেশ থেকে অতিসামান্য পণ্য নিতে পারে। এতে করে কার্গো জাহাজের সক্ষমতা-ব্যবহারের (ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন) হার থাকে খুব কম। এ কারণেই ঢাকার কাছের পানগাঁও টার্মিনাল ও কলকাতার মধ্যে কার্গোবাহী জাহাজের মাশুল (ফ্রেইট রেট) থাকে চড়া— প্রতি টনে ১৩ ডলার।

কলকাতার শিপিং এজেন্ট বি ঘোষ অ্যান্ড কোম্পানির এমডি শারদ ভার্মার মতে, ফিরতি পথে জাহাজগুলো পণ্য পেলে টনপ্রতি মাশুল অন্তত ৪ ডলার কমবে। এতে করে বাংলাদেশ-ভারত দুপক্ষই পরস্পরের বাজারে তুলনামূলক কম খরচে প্রবেশ করতে পারবে।

বাংলাদেশের সামনে আছে দুটি সুযোগ। বাণিজ্য ব্যয় হ্রাস পেলে ভারতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বাড়বে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের তৈরি পোশাককে শ্রেণীবদ্ধ করেছে দুটি হারমোনাইজড সিস্টেমে— এইচএস কোড ৬১ ও এইচএস কোড ৬২। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুলাই সময়কালে দুটি শ্রেণীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে তৈরি পোশাক আমদানি বেড়েছে যথাক্রমে ৫২ ও ৮৮ শতাংশ।

বাংলাদেশের রফতানিমুখী পোশাক কারখানার বেশির ভাগেরই অবস্থান ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মূল বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায়। বর্তমানে পোশাকপণ্য সড়কপথে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো হয়। সেখান থেকে পণ্যগুলো কলম্বো অথবা সিঙ্গাপুর হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে জাহাজীকরণ করা হয়।

সড়কপথে পরিবহন ও চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যজটের কারণে ১০-১২ দিন অপেক্ষার ফলে পোশাক খাতের লজিস্টিকস হয়ে পড়ে ব্যয়বহুল। এদিকে তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বরাবরই সময়ের সঙ্গে নাভিশ্বাস লড়াইয়ের বিষয়। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও পণ্যজট রফতানি বাণিজ্যে বাড়তি ঝুঁকি যোগ করে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে, তবে তা নিশ্চিতভাবেই সময়সাপেক্ষ বিষয়।

ভারতের প্রস্তাবে ঢাকা সম্মতি দিলে বাংলাদেশের রফতানিকারকরা নিজেদের পণ্য পানগাঁও থেকে হলদিয়া পাঠিয়ে সেখান থেকে কলম্বো অথবা সিঙ্গাপুরগামী জাহাজে বোঝাই করতে পারেন। আর এ পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে সর্বোচ্চ তিন-চারদিন।

হলদিয়া থেকে পণ্য জাহাজীকরণের ব্যয় প্রাক্কলন হয়নি। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা আশা করছেন, ধারণাটিকে গ্রহণযোগ্য করতে শিপিং লাইনগুলো প্রতিযোগিতামূলক মাশুল হার প্রস্তাবের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করবে।

ভারতের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা বাণিজ্য এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। শিপিং লাইনগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক যে আলোচনা হয়েছে তাতে বন্দর ব্যবহারকারীদের টানতে হলদিয়ায় ট্রান্সশিপমেন্টের মাশুল প্রতিযোগিতামূলক করা হবে। এতে লাভ হবে সব পক্ষের।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) অনারারি জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মো. আবদুল ওয়াহেদ বলেন, আমরাও ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাশা করি। ট্রান্সশিপমেন্ট যেটা বলেছে, সেটা ভালো কিন্তু আমরা যে পণ্য রফতানি করব, সেগুলোর ওপর ট্যাক্সের কী বিষয় আছে, সেগুলো ভালো করে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। সূত্র-বণিক বার্তা।

আরও পড়ুন:

চুক্তি ৫২ দেশের সঙ্গে, চলছে ১৫ রুটে