Home জাতীয় টিভি চ্যানেলকে সুন্দর সমাজ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    টিভি চ্যানেলকে সুন্দর সমাজ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    Published:October 11, 2018
    টিভি চ্যানেল


    Published: 10:38:16
    90
    0

    ডেস্ক রিপোর্ট: অশুভ তৎপরতা মুক্ত সমাজ গড়তে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন- অ্যাটকোর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আশ্বস্ত করেন, সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যমের কোনো বাধা হবে না।

    সাক্ষাতের সময় দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই বেসরকারি টেলিভিশনের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ৪১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল অনুমতি দিয়েছে, এখন ৩০টি চ্যানেল সম্প্রচারে রয়েছে। টেলিভিশনকে শুধু ব্যবসার দিক না দেখে সমাজ বিনির্মাণে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হওয়াতেই আজকে মানুষ টেলিভিশন দেখছে- এমনটা দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আপনার টেলিভিশনে কিন্তু এতগুলো চ্যানেল চলত না, যদি আর্থ-সামাজিক উন্নতিটা বাংলাদেশে না হতো। কে দেখত আপনার টেলিভিশন? কয়জন দেখত? কিন্তু এখন কিন্তু গ্রামের ঘরে ঘরে যাবেন, টেলিভিশন আছে। হাটে বাজারে জনগণ টেলিভিশন দেখছে। কারণ, পেটে ভাত আছে, তারা কাজের সুযোগ পাচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে তারা সাবলম্বী হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী মুক্ত ও উন্নত সমাজ গড়তে গণমাধ্যমগুলোকে সামাজিক ভূমিকা পালন করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমগুলি.. হ্যাঁ, সবাই তাদের লাভের দিকটা যেমন দেখবে। পাশাপাশি সমাজের প্রতি একটা দায়িত্বও আছে। সমাজের প্রতি দায়িত্বটাই কিন্তু সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে যেন কোনো রকম অশুভ কাজ না হয়, সমাজটা যেন সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে। সমাজটাকে আমরা যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আর মানুষের শিক্ষাদীক্ষা সেটা যেন আরো বিকশিত হতে পারে। আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চাটা যাতে বিকশিত হয়, সাহিত্যের চর্চাটা বিকশিত হয়। সেই সাথে আমাদের স্পোর্টস, খেলাধুলা ।’

    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তো সেটাই আমরা গণমাধ্যমের কাছে এটা চাই। এই বিষয়গুলিও আমরা চাচ্ছি, আমরা যেমন খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রটা । আমাদের শিক্ষার ক্ষেত্র। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা দেওয়া। এখনো কিন্তু মানুষ, যত বেশি আমরা এটা প্রচার করে যাচ্ছি, তত বেশি মানুষের মাঝে পরিবর্তনটা কিন্তু হচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

    এ সময় সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করে সুন্দর সমাজ গড়তে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    দেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারপরও আমরা যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, তাতে করে ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতে পারব বলেই মনে করি।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’এর উল্লেখ করে বলেন, ‘জনসংখ্যা আমাদের বোঝা নয়, সম্পদ এবং তাঁদের কথা মাথায় রেখেই আমরা এই ডেল্টা পরিকল্পনাটা হাতে নিয়েছি।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের দেশ দিয়ে গেছেন এবং এই দেশকে গড়ে তোলাই এখন আমাদের দায়িত্ব। আমার এই কথাটা সবার কাছে পৌঁছে দেবেন যে, মানুষকে একটা কথা চিন্তা করতে হবে- সবকিছুতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। আমরা নিজেরা কতটুকু কী করতে পারলাম, নিজেরা কী করলাম, দেশের জন্য এবং নিজের জন্য কী করতে পারি বা যে এলাকায় বসবাস করি সে এলাকার জন্য কী করতে পারি, এলাকার মানুষের জন্য কী করতে পারি সে চিন্তাটাও মানুষের মধ্যে থাকতে হবে। মানুষের ভেতর একটা আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে যে, আমাদের নিজেদের কাজ নিজেরা করব এবং নিজেদের করার মতো সেই দক্ষতাও আমরা অর্জন করব। সবসময় সরকারের মুখাপেক্ষি হয়ে নয় আমরা নিজেরাই নিজেদের দেশের উন্নয়ন করব। আমি মনে করি এই চিন্তাটা দেশের মানুষের মধ্যে থাকতে হবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে।’

    সাক্ষাতে অ্যাটকোর পক্ষ থেকে সম্প্রচারের বিভিন্ন দিক ছাড়াও সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গণমাধ্যমের সুরক্ষার দাবি করেন টেলিভিশন মালিকরা।

    এ সময় অ্যাটকোর চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান বলেন, ‘নীতিগতভাবে অ্যাটকো থেকে এই আইনটাকে আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। আমরা মনে করি এখন এটার প্রয়োজন।’

    অ্যাটকোর সিনিয়র সহসভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘আমাদের এই ব্যাপারে ভয়ের কিছু কারণ নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিশ্চিত করেছেন, তথ্য অধিকার আইনে প্রদত্ত সেসব সুবিধা সাংবাদিকদের জন্য রয়েছে এই আইন কিছুতেই তাকে সুপারসিড করবে না।’

    টেলিভিশন মালিকরা প্রত্যাশা করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে টিভি চ্যানেলগুলোর অর্থনৈতিক ও সম্প্রচার সমস্যা দূর হবে।

    এ সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিমসহ অ্যাটকোর চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, পরিচালক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি মোজাম্মেল বাবু এবং ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নাজমুল হাসান পাপন উপস্থিত ছিলেন।

    আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন্নাহার।

    আরো পড়ুন: তফসিল ঘোষণার আগে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাত চাইলেন নির্বাচন কমিশন